সিলেট ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ৬:৫০ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০১৮
মাকসুদা লিসাঃ সিলেট জুড়ে এখন নির্বাচনী হাওয়া। অফিস,আদালত, পাড়া-মহল্লা সরগরম। সর্বত্রই আলোচনা। আসন্ন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনকে ঘিরে। কে হবেন আগামীর নগরপিতা।
শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে চলছে সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদ প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ। আগামী ৩০ জুলাই সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়েছে। ফলে ভোটারদের কাছে টানতে চলছে নানামূখি প্রচারণা। ব্যস্ত সময় কাটছেম সিটির মেয়র ও কাউন্সিলর পদ প্রার্থীরা। প্রতিদ্বন্ধীতার আভাস মিলছে। জমে উঠবে এবারের সিটি নির্বাচন।
মেয়র পদে দেশের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি (বিএনপি) এই দুই বড় দলের প্রার্থীর মধ্যেই মূলতঃ হবে কঠিন লড়াই। প্রতিদ্বন্ধীতা।
এদিকে সিলেটের মেয়র পদে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। সাবেক এই মেয়রের রয়েছে ব্যপক জনপ্রিয়তা। কামরান সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র ছিলেন।
আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ১৯৬৮ সালে সম্পৃক্ত হন কামরান। তিনি দীর্ঘদিন সিলেট নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন কামরান। ১৯৭৩ সালে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান যখন ছাত্র তখন শুরু হয় দেশের প্রথম পৌর নির্বাচন। সে সময় সিলেট শহরে ছিল মাত্র ৫টি ওয়ার্ড ছিলো। তোপখানা ছিলো ৩নং ওয়ার্ডে।
প্রথম পৌর নির্বাচনে তোপখানা ওয়ার্ডের কমিশনার প্রার্থী হয়ে কামরান ৬৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এরপর ১৯৭৭ সালে আবার নির্বাচন হলো। কমিশনার নির্বাচিত হলেন তিনি।
কামরান ছিলেন সিলেটের সর্বকনিষ্ঠ কমিশনার। দীর্ঘ বছর প্রবাসে কাটিয়ে ১৯৮৯ সালে আবারও পৌর নির্বাচনে তোপখানা ওয়ার্ডের কমিশনার পদ প্রার্থী হন। এবং জয়ী হন।
বদর উদ্দিন আহমদ কামরান তার নেতৃত্ব গুণে ১৯৯৫ সালে পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার সাম্রাজ্যে কেউ আঘাত হানতে পারেনি। একচেটিয়া প্রাধান্য বিস্তার করে রেখেছিলেন।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উন্নীত হবার পর ২০০২ সালের ২৮ জুলাই বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই বছর তিনি সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
পরের বছর ২০০৩ সালের ২০ মার্চ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কামরান সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হয়ে জনসাধারণের প্রত্যাশা পূরণ করেন।
এরপর বদলে যেতে থাকে সিলেটের রাজনীতির আবহ। ২০০৭ সালের ৬ এপ্রিল কামরান গ্রেফতার হন। এক মাস কারা ভোগেও করেন তিনি। জামিনে মুক্তি পাবার পর আবারও ২৮ মে তিনি গ্রেফতার হন।
২০০৮ সালে কারাগারে থেকে দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস রচনা করেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।
এক যুগের বেশী সময় যাবত সিলেটে আধিপত্য ধরে রাখা এই সাবেক ছাত্র নেতার সাম্রাজে আঘাত হানেন আরিফুল হক চৌধুরী। বিএনপির এই নেতা সিলেটের রাজনীতির মাঠ গরম করে তোলেন। বদলে দেন প্রেক্ষাপট।
২০১৩ সালে সিলেটের মেয়র বদর উদ্দিন কামরানের রাজত্বের পতন ঘটান আরিফ। কামরানের আধিপত্যে ফাটল ধরাই এই বিএনপি নেতা।

কামরান ও আরিফ
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন মানেই ছিল কামরানের জয়জয়াকার। তার রাজনীতির কৌশলের সামনে কেউ দাঁড়াতে সাহস পেতেন না। দক্ষতা ও মেধা কামরানকে অনেক দূর পৌঁছে দেয়।
২০০৩ সালে মেয়র নির্বাচনে প্রথমবার বিপুল ভোটের ব্যবধানে ধরাশায়ী হন কামরান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে পরাজয়ে তার রাজত্বের অবসান ঘটে।
সিলেট পায় নতুন নগরপিতা। নতুনত্বের ছোঁয়া।
সিলেটের বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। আসন্ন নির্বাচনে তার দল বিএনপি আবারো আরিফকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছে বুধবার (২৬ জুন)।
গুলশান কেন্দ্রিয় কার্যালয়ে সিলেটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর আরিফের নাম ঘোষণা করা হয়।
তাই সিলেট সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের এবারও দুই হেভীওয়েট প্রার্থীর লড়াই বেশ জমে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লড়াই হবে সেয়ানে সেয়ানে।
জনপ্রিয়তা ও রাজনীতির মাঠে কামরান ও আরিফ দু’জনই অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ।
কেউ কাউকে ছাড় দেবেন না। দলের নেতাকর্মীরা আটঘাট বেঁধে নেমেছেন। তাদের পছন্দের প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য।
এদিকে সিলেট মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে রমজান মাসের শেষ সময়ে। ছাত্র দলের কমিটি নিয়ে চলছে বিক্ষোভ ও অসন্তোষ।
পদ বঞ্চিত ছাত্রনেতারা (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনের আগে দলের হাই কমান্ড থেকে ভাল সংবাদ পাবেন তারা। এরপরই সব ভেদাভেদ ভুলে মাঠে নামবেন দলীয় প্রার্থীর প্রচারণায়’।
এদিকে বিএনপির সিলেট মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ ও পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা দলের স্বার্থে, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্ধীর কথা বিবেচনা করে তাদের আন্দোলন থেকে সড়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন সিলেটের বিএনপির প্রবীন রাজনীতিবিদরা।
তাদের কথা সবকিছুর ঊর্ধ্বে দল ও নেত্রী।
এদিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান আগামী ২৮ জুন বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় মনোনয়নপত্র জমা দিনেন বলে জানা গেছে। সিসিক নির্বাচনে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আলীমুজ্জামানের কাছে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিবেন।
এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের ব্যক্তিগত সহকারী বদরুল ইসলাম।
আসন্ন নির্বাচনের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে রাজনীতির মাঠ আবারও সরগরম হয়ে উঠছে। বাতাসে ভেসে বেড়াছে উত্তপ্ত আলোচনা। কে ধরবেন সিলেটের আগামী দিনের নগর উন্নয়নের হাল।
‘জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস’ । জনগনই ভোটারিধিকার প্রয়োগ করে নির্বাচিত করবেন তাদের আগামী দিনের সিটি অভিভাবককে।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি