গল টেস্ট : আবোরো আফসোস না ড্র

প্রকাশিত: ১:৩০ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০১৭

মাঠে ময়দানে ডেস্ক: গল টেস্টের চতুর্থ দিনে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৭৪ রানে ইনিংস ঘোষণা করছে শ্রীলঙ্কা। প্রথম ইনিংসে ১৮২ রানের লিডসহ মোট ৪৫৭ রানের টার্গেট এখন টাইগারদের সামনে। স্বাগতিকদের দেয়া এ বিশাল রানের লক্ষ্য নিয়ে চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ।

১৫ ওভার খেলা হলেও আলোক স্বল্পতার কারণে দিনের খেলা আর এগোয়নি। ফলে ১১ ওভার বাকি থাকতেই শেষ হয় চতুর্থ দিনের খেলা। আগামীকাল সকালে বাংলাদেশ দল আবার ব্যাট করতে নামবে। এ ম্যাচে জিততে হলে অলৌকিক কিছু করতে হবে টাইগারদের।

ক্রিজে রয়েছেন তামিম ইকবাল ১৩ ও সৌম্য সরকার ৫৩ রান নিয়ে।

চতুর্থ দিনের চা বিরতির পর ৬ উইকেটে ২৭৪ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা। বিরতির পর পঞ্চম ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে দিলরুয়ান পেরেরার বিদায়ের পরই ইনিংস ঘোষণার সংকেত দেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথ। বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৫৭ রান।

শেষ সেশনে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ দলের দুই ওপেনার ১৫ ওভার শেষে ৬৭/০ রান করেন। তামিম করেন ১৩ ও সৌম্য ৫৩। শ্রীলঙ্কার চেয়ে এখনো ৩৯০ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ।

চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে শ্রীলঙ্কার ১ উইকেট তুলে নেওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় সেশনে নেয় ৪ উইকেট। কিন্তু ৩১ ওভারে শ্রীলঙ্কা রান তোলে ১৬০। স্বাগতিকরা লাঞ্চ বিরতিতে যায় ৫ উইকেটে ২৪৭ রান নিয়ে। লিড দাঁড়ায় তখন ৪২৯।

দিনের প্রথম সেশনে ৮৭ রানের বিপরীতে সফরকারীদের একমাত্র প্রাপ্তি ছিল দিমুথ করুনারাত্নের (৩২) উইকেট। ২৩তম ওভারে এসে ওপেনিং জুটি ভাঙেন তাসকিন আহমেদ। ডিপ স্কয়ার লেগে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ক্যাচবন্দি হন তিনি।

প্রথম ইনিংসে ১৯৪ রান করা কুশল মেন্ডিস বেশিদূর এগোতে পারেননি। ৪২তম ওভারে ব্যক্তিগত ১৯ রানে সাকিব আল হাসানের বলে তাসকিন আহমেদের হাতে ধরা পড়েন। আউট হওয়ার আগে থারাঙ্গার সঙ্গে ৬৫ রানের জুটি গড়েন।

আরও পড়ুন  বিপুল ভোটে সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় মুস্তাফিজ

ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি উদযাপন করেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান থারাঙ্গা। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বোল্ড হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১১৫। দিনেশ চান্দিমালের সঙ্গে থারাঙ্গার জুটিতে আসে ৬৪। দলীয় ১৯৮ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় লঙ্কানরা।

এক রান যোগ হতেই প্রথম ইনিংসে ৮৫ রান করা আসিলা গুনারাত্নের (০) স্ট্যাম্পে আঘাত হানেন সাকিব। প্রথম ইনিংসের আরেক হাফ সেঞ্চুরিয়ান নিরোশান ডিকওয়েলাকে (১৫) লিটন দাসের গ্লাভসবন্দি করেন মিরাজ।

একই ওভারে (৬১তম) প্রথম ইনিংসের তৃতীয় ফিফটি হাঁকানো দিলরুয়ান পেরেরাকে ফেরাতে পারতেন মিরাজ। কিন্তু, মিডউইকেট বাউন্ডারিতে ক্যাচ হাতছাড়া করে ছক্কা উপহার দেন মাহমুদউল্লাহ।

গতকাল বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনের তৃতীয় সেশন ভাসিয়ে নিয়ে যায় বৃষ্টি! মাত্র ৫১.২ ওভারের খেলা হয়। বাংলাদেশকে ৩১২ রানে অলআউট করলেও বৃষ্টির কারণে লঙ্কানদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামা হয়নি।

প্রথম ইনিংসে মুশফিক-মিরাজের ১০৬ রানের সপ্তম উইকেট জুটিতে ফলোঅন এড়ায় টাইগাররা। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে আসে ৮৫। দলীয় ৩০৮ রানে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিদায় নেন তিনি। চার রান যোগ হতেই দলীয় ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। মিরাজ করেন ৪১। ২৩ রান করে আউট হন সাকিব আল হাসান।

এর আগে ১১৮ রানের ওপেনিং জুটিতে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন তামিম ইকবাল (৫৭, রানআউট) ও সৌম্য সরকার (৭১)। কিন্তু, মুমিনুল-সাকিব লিটন-মাহমুদউল্লাহদের ব্যর্থতায় দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় লঙ্কানদের হাতে। তিনটি করে উইকেট লাভ করেন দুই স্পিনার দিলরুয়ান পেরেরা ও দলপতি রঙ্গনা হেরাথ। সুরাঙ্গা লাকমল, লাহিরু কুমারা ও লক্ষণ সান্দাকান নেন একটি করে।

আরও পড়ুন  এশিয়া কাপের দল ঘোষণা, নেই মাহমুদউল্লাহ

প্রথম ইনিংসে কুশল মেন্ডিসের (১৯৪) ব্যাটিং নৈপুণ্যে স্কোরবোর্ডে ৪৯৪ রান তোলে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা শ্রীলঙ্কা। অর্ধশতক হাঁকান আসিলা গুনারাত্নে (৮৫), নিরোশান ডিকওয়েলা (৭৫) ও দিলরুয়ান পেরেরা (৫১)। একাই চার উইকেট দখল করেন মিরাজ। মোস্তাফিজুর রহমান দুটি আর একটি করে নেন সাকিব, তাসকিন আহমেদ ও শুভাশিস রায়।

শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংসে করে ৪৯৪ এবং বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে করে ৩১২ রান।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৫৭। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাতে এত রান তাড়া করে জেতার নজীর নেই।

টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জেতার দৃষ্টান্ত রয়েছে। চন্দরপলের অসাধারণ দৃঢ়তায় এই রান তাড়া করে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অন্য দিকে এ পর্যন্ত দুবারই মাত্র রান তাড়া করে জিততে পেরেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২১৫ রান তাড়া করে জিতেছে টাইগাররা।

অবশ্য চতুর্থ ইনিংসে চারশ’র বেশি রান করার নজির আছে টাইগারদের। ২০০৮ সালে ঢাকাতে এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই ঐ রান করেছিল টাইগাররা। কিন্তু ম্যাচটা হারতে হয়েছিল। কারণ বাংলাদেশের সামনে টার্গেট ছিল ৫২১।

চারশ’র উপরে রান তাড়া করে জেতার দৃষ্টান্ত বিশ্ব ক্রিকেটে মাত্র কয়েকটি হলেও ৫০০-৬০০ করে ম্যাচ ড্র করার নজির আছে ভুরিভুরি। ১৯৩৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে ৫ উইকেটে ৬৫৮ রান করেছিল ইংল্যান্ড।

গলেতে যদি ড্র করতে পারে তাহলে সেটাই হবে মুশাফিকদের বড় কৃতিত্ব। কিন্তু এটাও অনেকটা অসাধ্য। কারণ প্রায় সোয়া একদিন মাটি কামড়ে টিতে থাকতে হবে টাইগারদের। গলেতে চতুর্থ ইনিংসে যা অনেকটাই অসম্ভব। কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে মুশফিকের দল।

সর্বশেষ সংবাদ