ফেঞ্চুগঞ্জে মায়ের লাশ নিয়ে দুদিন ঘুমালেন সন্তানরা!

প্রকাশিত: 1:35 PM, March 23, 2021

ফেঞ্চুগঞ্জে মায়ের লাশ নিয়ে দুদিন ঘুমালেন সন্তানরা!

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক:

মায়ের লাশ দুদিন ধরে লুকিয়ে রেখে ঘরবন্দি হয়েছিলেন ছেলে-মেয়েরা। দাফন না করে লাশ নিয়ে ঘরে ঘুমিয়েছেন তারা। এমন অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সদরের রাজনপুর গ্রামে।

সোমবার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে। দুদিন ধরে লাশ ঘরবন্দি থাকায় মরদেহটি ফুলে গিয়ে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। পরে নিহতের আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় গ্রামবাসী লাশটি দাফন করেন।

পুলিশ ও প্রতিবেশীরা জানান, উপজেলা সদরের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ছানা মিয়া চলতি বছরের ২ জানুয়ারি মারা যান। স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা ছিল না তার। যে কারণে ছানা মিয়ার স্ত্রী চল্লিশোর্ধ্ব জেসমিন বেগম এক ছেলে ও ৩ মেয়েকে নিয়ে সিলেট মহানগরে বসবাস করতেন।

অসুস্থ অবস্থায় গত শনিবার (২০ মার্চ) নগরের মিরবক্সটুলাস্থ উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। ওইদিন গভীর রাত ৩টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান ছেলে-মেয়েরা। এরপর থেকেই তারা ঘরবন্দি ছিলেন। বাড়ির আশপাশের লোকজনও জানতেন না ঘরের ভেতর মরদেহ আছে!

আরও পড়ুন  গুলশান এলাকায় দুই নারী খুন

প্রতিবেশীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সোমবার (২২মার্চ) সন্ধ্যায় অ্যাম্বুলেন্সচালক টাকা চাইতে বাড়িতে গেলে ঘরে মরদেহ রাখার বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে বাড়ির আত্মীয় স্বজনরা থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

বাড়ির লোকজন জানান, সাংসারিক জীবনে ছানা মিয়ার সঙ্গে তার স্ত্রীর দূরত্ব থাকলেও প্রায় অর্ধকোটি টাকার সম্পদ বিক্রি করে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ দিয়ে গেছেন। কিন্তু তারাও ঠিকমতো পড়ালেখা করতে পারেনি। আর মরদেহের সঙ্গে একই ঘরে বসবাসের বিষয়টি সন্তানদের মানসিক সমস্যা হিসেবে দেখছেন তারা। কেননা তারাও জানতেন ঘরে লোকজন আছে। ডাকাডাকি করলেও জবাব দিতেন, কিন্তু দরজা খুলতেন না।

এ ঘটনার পর মৃতের ছেলে সনি, মেয়ে সুমা, উমা ও ইমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তারা পুলিশকে জানায়, সাংসারিক জীবনে তার বাবা-মায়ের মধ্যে দূরত্ব ছিল। বাবা-চাচারা ৫ ভাই। বাবা আগেই মারা গেছেন। মাও মারা গেছেন। সম্পদের জন্য চাচারা যদি মারধর করে বের করে দেন, এজন্য তারা মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি কাউকে জানাননি। এমনকি দাফন করতে না পারায় মরদেহ ঘরে রেখে দেন।

আরও পড়ুন  চাঁদ দেখা যায়নি: রোববার থেকে রোযা

দুদিন ধরে লাশ ঘরে রেখে বসবাসের তথ্য নিশ্চিত করে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শাফায়াত হোসেন বলেন, ওই নারীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের দেওয়া মৃত্যুসনদও রয়েছে। তবে মৃতের সঙ্গে সন্তানদের ঘুমানোর বিষয়টি অস্বাভাবিক। মানসিক সমস্যায় ভোগার কারণে তারা এমনটি করেছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন...

সর্বশেষ সংবাদ