রাহি-জয়নুলের বোলিং তোপে অনির্বাণকে হারালো বঙ্গবীর

প্রকাশিত: ৮:৩৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২১, ২০২৪

রাহি-জয়নুলের বোলিং তোপে অনির্বাণকে হারালো বঙ্গবীর

তানজীল শাহরিয়ার: মাঘ মাসের কনকনে শীত, চারিদিক কুয়াশায় ঢাকা। সেই কুয়াশা ভেদ করে সূর্য আলোকচ্ছটা ছড়াতে শুরু করতে করতে বেলা প্রায় ১০টা। মাহা ১ম বিভাগ ক্রিকেট লীগ ২০২৩-২৪’র ২০শ ম্যাচও তাই বিলম্বে মাঠে গড়িয়েছে। ৯.৫০ মিনিটে শুরু হয়েছে অনির্বাণ ক্রীড়া চক্র এবং বঙ্গবীর অগ্রগামী ক্রীড়া চক্রের ম্যাচ।

টসে জিতে কুয়াশা জড়ানো প্রভাতবেলা প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে খানিকটা চমকেই দিয়েছে অনির্বাণ। বোলিং করার জন্য আদর্শ পরিবেশে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত যে নিজের পায়ে কুড়াল মারার মত হতে পারে, প্রতিপক্ষ দলে জাতীয় দলে খেলা রাহি, ১ম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা জয়নুল আছে জেনেও ব্যাট করার মত দুঃসাহসী সিদ্ধান্ত সে এক ভাবনার বিষয়।

 

অবশ্য এমন পয়মন্ত সুযোগের সদ্বব্যবহার করতে এতটুকু কার্পণ্য করেননি বঙ্গবীরের দুই সীমার।

 

শুরুটা করেছিলেন আবু জায়েদ রাহি। রাজু, তানভীর, শ্রাবণ, আসাদ –– এই চারজনকে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে অনির্বাণকে খাদের কিনারায় পৌঁছে দেন রাহি। ৩য় বোলার হিসাবে আক্রমণে আসা জয়নুলও পাল্লা দিয়ে উইকেট তুলে নিয়েছেন। পলাশ, ফাহাদ, বাহার, মুকুলের উইকেট তুলে নিয়েছেন দ্রুতই। তবে, এক প্রান্তে সাবলীল ব্যাটিং করা সিয়াম জয়নুলের বলে রাহির হাতে ক্যাচ দিয়ে যখন ফিরছেন তখন তার রান ২৮, ৩৩ বল মোকাবেলা করে ৩ চার আর ২ ছক্কায় ইনিংস সাজিয়েছেন এই ডানহাতি অপেনার।

আরও পড়ুন  নগরীর হোটেল সুপ্রীম থেকে আটক নারীসহ যুবকের জামিন

 

সিয়াম ছাড়া অনির্বাণের আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি! বাকি ৯ জনের সম্মিলিত সংগ্রহ মোটে ৩৫ রান! অতিরিক্ত খাত থেকে এসেছে ১০ রান।

 

মাত্র ২০.৫ অভারে ৭৩ রানেই গুটিয়ে যায় অনির্বাণের ইনিংস।

 

রাহি আর জয়নুল ১০ উইকেট সমানভাবে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। রাহি খরচা করেছেন ২৪ আর জয়নুল দিয়েছেন ২৫ রান।

 

৭৪ রান তাড়া করতে নেমে ম্যাচ দ্রুত শেষ করার দিকেই মনোযোগি ছিলেন বঙ্গবীরের অপেনার এজাজ। শুরু থেকে অনির্বাণের বোলারদের তুলোধুনা করতে থাকেন ডানহাতি এই হার্ড হিটার। মাত্র ৪০ বলে ৫১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ম্যাচ জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি। ৫টি চার এবং ৩টি ছক্কা মেরেছেন এজাজ। অবশ্য অনির্বাণের ফিল্ডারদের ‘মাখন মাখানো’ হাতের কারণে একাধিকবার ‘লাইফ’ পেয়েছেন তিনি।

 

৯.২ অভারে দলীয় ৩৮ রানে মুস্তাফা ১১ রান করে সাজঘরে ফিরলেও মাত্র ১৫.৫ অভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বঙ্গবীর। তাজিন ৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন। মুস্তাফা আর তাজিন যেন এজাজের ব্যাটিং তাণ্ডব দেখার জন্যেই অন্য প্রান্তে সঙ্গ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন  ছাতকে স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখে স্বামীর আত্মহত্যা

 

 

ম্যাচসেরা হয়েছেন বঙ্গবীরের রাহি।

 

চার ম্যাচ খেলে চারটিতেই জিতে এখনো লিগে অপরাজিত রয়েছে বঙ্গবীর অগ্রগামী ক্রীড়া চক্র। পক্ষান্তরে, ঐতিহ্যবাহী অনির্বাণ চার ম্যাচ খেলে ২টি জিতেছে। মাত্র একবারই অনির্বাণের ইনিংস শতরান ছাড়িয়েছে। ৯৮ রান করে ইয়াং পেগাসাসের বিপক্ষে জিতলেও জিমখানার বিপক্ষে ১৯২ রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয় অনির্বাণ।

নাবিল সামাদ, শাহনূর আহমেদ, শেনাজ আহমেদ –– প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা এই তিন ক্রিকেটারের সঙে সর্বশেষ জাতীয় ক্রিকেট লীগে সিলেটের হয়ে খেলা উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ফেরদৌসকেও দলে ভিড়িয়েছিলো অনির্বাণ। কিন্তু, মাঠে দলটির বেহাল দশা। বঙ্গবীরের বিপক্ষে ম্যাচে এদের একজনকেও খেলতে দেখা যায়নি।

 

অন্যদিকে স্থানীয় ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে শক্তিশালী দল গড়া বঙ্গবীর এই ম্যাচে জাতীয় দলে খেলা নাঈম ইসলাম এবং সাকলাইন সজীবকে মাঠে নামায়। সাকলাইন ৬ অভার বল করলেও নাঈম ব্যাটিং করার সুযোগই পাননি। একটা ক্যাচ অবশ্য ধরেছেন।

 

সিলেট লিগে নিয়মিত শক্তিশালী দল গড়া অনির্বাণের এমন শোচনীয় অবস্থা সামগ্রিকভাবে সিলেটের ক্লাব ক্রিকেটের জন্যে এক অশনিসংকেত বলে বিবেচনা করলে অত্যুক্তি হবে বলার জো নেই।

সর্বশেষ সংবাদ