স্টিভেন হকিংসের স্বপ্ন পুরন করবেন এদ্দি ডপু

প্রকাশিত: 4:54 AM, May 28, 2018

প্রভাতবেলা ডেস্কঃ মেরুদণ্ডের পেশিতে ভয়াবহ ক্ষত নিয়ে জন্ম হয়েছিল এদ্দি ডপুর। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে, ‘স্পাইনাল মাসকুলার আরথ্রোপি’।

চিকিৎসকরা বলেছিলেন, শিশুটির আয়ু বড়জোর পাঁচ বছর। এর বেশি দিন বাঁচার তেমন কোনো সম্ভাবনাই নেই তার।

মৃত্যুর কাছে হেরে যায়নি এদ্দি। অদম্য এ ছেলেটি এখনও পৃথিবীর আলো বাসাতে শ্বাস নিতে পারছে। হারিয়ে যায়নি মনোবল। এদ্দি ডপুর বয়স এখন ২৭ বছর। ক’দিন পরেই ২৮ বছরে পা দেবে সে। এক টগবসে উচ্ছল যুবক।

বিশ্বজুড়ে কত কত প্রতিবন্ধী মানুষ বেঁচে আছে। সেই মানুষদের জন্য এদ্দি ডপু যেন এক অনুপ্রেরণার উৎস। কোনো কিছুই তার কাছে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে অক্সফোর্ড থেকে সম্পন্ন করেছেন স্নাতক।

এদ্দি ডপুর আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন । আরো বিশাল আরো ব্যাপক। হুইল চেয়ারে করেই এদ্দি পাড়ি জমাবেন মহাকাশে। পৃথিবীর প্রথম প্রতিবন্ধী হিসেবে মহাশূন্যে পাড়ি দেবেন এদ্দি। সীমাহীন আলোর উচ্ছাসে ভেসে যাচ্ছে এই প্রতিবন্ধী যুবকের বেঁচে থাকার লড়াই।

আরও পড়ুন  মার্কিন নির্বাচন : বাইডেন ২৬৪, ট্রাম্প ২১৪

ডপুর স্বপ্নের পরিধি ব্যপক। আর মানুষের ! যেন বরাবরই সীমাহীন। এদ্দি সেটাই মনে করিয়ে দিতে চান পৃথিবীর মানুষকে। অনুপ্রেরণা হতে চান বিশ্বের সকল প্রতিবন্ধী মানুষের। তার এই অদম্য লড়াই। বেঁচে থাকার তাগিদ। আকাশ স্পর্শ করার লালিত স্বপ্ন বাস্তবে রুপ নিতে যাচ্ছে।

স্বপ্ন জয়ের পথে যে ইচ্ছে শক্তিটাই প্রবল সেটাই প্রমাণ করতে চান তিনি। আর এ বিষয়ে তার প্রেরণা জগত বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিভেন হকিংস। এদ্দি ডপুও হতে চান অনুপ্রেরণার উৎস।

মাত্র ২২ বছর বয়সেই চিকিত্সক জানিয়ে দেন স্টিফেন হকিং বাঁচবেন দুই থেকে তিন বছর। জটিল মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত তিনি। একজন কলেজ ছাত্রের স্বপ্নগুলো যেনো সেখানে থেমে যাওয়ার তাড়া ছিল। কিন্তু হতাশায় ডুবে যাওয়া সেই যুবক এতো জটিল একটি রোগ বয়ে কাটিয়ে দিলেন আরো ৫৪ বছর। বিশ্বকে চিনিয়ে দিলেন তিনি স্টিফেন হকিং।

বেশ খেয়ালী ছিলেন স্টিফেন হকিং। শারীরিক কারণ সেই খোয়ালীপনাকে আটকে রাখতে পারেনি। ২০০৭ সালে তিনি প্রথম চলত্শক্তিহীন ব্যক্তি হিসেবে একটি বিশেষ বিমানে ওজনশূন্যতার অভিজ্ঞতা নেন। মানুষকে মহাকাশ ভ্রমণে উত্সাহ দেয়ার জন্যই তিনি এটি করেছেন বলে জানান। তিনি এক সাক্ষাত্কারে বলেন, ‘আমার বিশ্বাস পারমাণবিক যুদ্ধ, জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে তৈরি ভাইরাস অথবা অন্য কোন কারণে পৃথিবীতে প্রাণের অবসান হতে পারে। মানুষ যদি মহাকাশে না যায় তাহলে আমার মনে হয় মানবজাতির কোন ভবিষ্যত্ নেই। যেকারণে আমি মানুষকে মহাকাশে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে চাই।’

আরও পড়ুন  না ফেরার দেশে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি

এদ্দি প্রতিবন্ধী মানুষের নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করছেন। তাদের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি এনজিও। মানুষের জন্য মানুষ। ভালবাসা বিলিয়ে দিলে ভালবাসা ফেরত আসে।

এদ্দি ডপু ভালবাসতে জানেন। স্বপ্ন বিলাতে জানেন। অনুপ্রেরণা জোগাতে জানেন। সবার ভালবাসা নিয়েই বেঁচে থাকতে চান। সবার মাঝে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ