সিলেট ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ১২:১৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০২৩
ইসরাইলও এই হামলার জবাবে গাজায় নৃশংস অভিযান শুরু করে। তাদের দাবি হামাসের ঘাঁটি লক্ষ্য করে এসব হামলা চলছে। দুই পক্ষের হামলা ও পাল্টা হামলায় এরি মধ্যে প্রায় এক হাজার মানুষ মারা গেছে। আর আহত বা গুরুতর জখম হয়েছে দেড় হাজারের বেশি। হামাম ও ইসরাইলের লড়াই এখনো চলছে।
১৯৪৮ সাল থেকেই ফিলিস্তিন দখল করতে শুরু করে ইসরাইল। এর আগে থিউডোর হার্জেল সুলতান আব্দুল হামিদের কাছে ফিলিস্তিনের ভূমি চেয়ে কোনো ফল পায়নি। এরপর থেকেই তারা দখলদারিত্ব, অন্যায়ভাবে হত্যা, খুন-গুমের মাধ্যমে ফিলিস্তিন দখল করার চেষ্টা শুরু করে। সেই ধারাবাহিকতা এখনও চলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ফিলিস্তিন নামের যে এলাকা, সেটি ছিলো অটোমান সাম্রাজ্যের অধীন। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমানদের পরাজয়ের পর ব্রিটেন ফিলিস্তিনের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তখন ফিলিস্তিনে যারা থাকতো তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল আরব, সেই সঙ্গে কিছু ইহুদী, যারা ছিল সংখ্যালঘু।
১৯২০ থেকে ১৯৪০ দশকের মধ্যে ইউরোপ থেকে দলে দলে ইহুদীরা ফিলিস্তিনে যেতে শুরু করে এবং তাদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ইউরোপে ইহুদী নিপীড়ন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ভয়ংকর ইহুদী নিধনযজ্ঞের পর সেখান থেকে পালিয়ে এরা নতুন এক মাতৃভূমি তৈরির স্বপ্ন দেখছিল।
জাতিসংঘের ঘোষণায় বলা হলো, জেরুজালেম থাকবে একটি আন্তর্জাতিক নগরী হিসেবে। ইহুদী নেতারা এই প্রস্তাব মেনে নেন, কিন্তু আরব নেতারা প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে জাতিসংঘের এই পরিকল্পনা কখনোই বাস্তবায়িত হয়নি। ব্রিটিশরা এই সমস্যার কোনো সমাধান করতে ব্যর্থ হয়ে ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন ছাড়ে।
ফিলিস্তিনিরা এই ঘটনাকে ‘আল নাকবা’ বা ‘মহা-বিপর্যয়’ বলে থাকে। পরের বছর এক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে যখন যুদ্ধ শেষ হলো, ততদিনে ইসরাইল ফিলিস্তিনের বেশিরভাগ অঞ্চল দখল করে নিয়েছে। জর্ডান দখল করেছিল একটি অঞ্চল, যেটি এখন পশ্চিম তীর বলে পরিচিত। আর মিশর দখল করেছিল গাজা।
১৯৬৭ সালে আরেকটি যুদ্ধে ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের পূর্ব জেরুজালেম এবং পশ্চিম তীর, সিরিয়ার গোলান মালভূমি, গাজা, এবং মিশরের সিনাই অঞ্চল দখল করে নেয়। বেশিরভাগ ফিলিস্তিনি শরণার্থী থাকে গাজা এবং পশ্চিম তীরে।
গত ৫০ বছর ধরে ইসরাইল এসব দখল করা জায়গায় ইহুদী বসতি স্থাপন করে যাচ্ছে। ছয় লাখের বেশি ইহুদি এখন এসব এলাকায় থাকে। ফিলিস্তিনিরা বলছে, আন্তর্জাতিক আইনে এগুলো অবৈধ বসতি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায়। তবে ইসরাইল তা মনে করে না।
ইসরাইল-ফিলিস্তিনের মধ্যে অনেক বিষয় নিয়ে এখনও বিরোধ চলছে। এর মধ্যে আছে ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যু, পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতির ইস্যু, জেরুজালেম নগরী কি ভাগাভাগি হবে- এসব প্রশ্ন। আর সবচেয়ে জটিল ইস্যু হচ্ছে- ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের প্রশ্ন।
তাই তারা সামরিক শাখা চালু করে, যা ‘কাসসাম ব্রিগেড’ নামে পরিচিত। হামাস শব্দটির অর্থ হলো, আশা বা উদ্দীপনা। ফিলিস্তিনের কট্টর ইসলামপন্থি সংগঠনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় হামাস।
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও গাজা থেকে ইসরায়েলি দখলদারির অবসানের দাবিতে ‘ইন্তিফাদা’ বা ফিলিস্তিনি গণজাগরণ শুরু হলে ১৯৮৭ সালে গঠিত হয় হামাস। সংগঠনের সনদ অনুযায়ী তারা ইসরাইলকে ধ্বংস করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। আর তাদের দাবি, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হবে বর্তমান ইসরাইল, গাজা ও পশ্চিম তীর নিয়ে।
গোষ্ঠীটি বলছে, ইসরাইল ১৯৬৭ সাল আগের সীমান্তে পিছু হটলে, ক্ষতিপূরণের সঙ্গে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ফিরে যাওয়ার অনুমতি দিলে একটি যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে। আরও বলেছে, তারা মুসলিম ব্রাদারহুডের সাথে সম্পর্ক শেষ করবে। ইসরাইল অবশ্য হামাসের এসব দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, শনিবারে হামাসের হামলা দখলকারীদের বিপক্ষে ফিলিস্তিনি জনগণের আস্থার প্রমাণ। ফিলিস্তিন অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশে হামাসের সমর্থক রয়েছে। এই অঞ্চলে, ইরান, সিরিয়া এবং ইয়েমেন হামাসকে ‘বীরত্বপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করে হামলায় সমর্থন দিয়েছে।
বিশ্বব্যাপী ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয় ইউনিয়ন, কানাডা, মিশর এবং জাপান হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে দেখে থাকে। ২০১৮ সালে হামাসের কার্যকলাপের নিন্দা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাতিল করা হয়। সেই প্রস্তাবে রাশিয়া ও চীন ভেটো দিয়েছিলো।
ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে হামাসের উত্থান, ইয়াসির আরাফাতের দল ফাতাহ-এর সঙ্গে সংঘর্ষে নিয়ে আসে। ১৯৯০ দশকে একটি আধা-সামরিক সংস্থা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয় ফাতাহ। পরে সশস্ত্র প্রতিরোধ ছেড়ে দেয় এবং ইসরাইলের সঙ্গে ১৯৬৯ সালের সীমানা অনুযায়ী একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে রাজি হয়।
২০০৪ সালের ১১ নভেম্বর ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যুর পর ফাতাহ নেতৃত্বে শূন্যতার সৃষ্টি হয়, শক্তিশালী হয়ে ওঠে হামাস। ২০০৭ সালে ফাতাহর সঙ্গে গৃহযুদ্ধের পর গোষ্ঠীটি গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয়। অন্যদিকে ফাতাহ পশ্চিম তীরে ক্ষমতা ধরে রাখে। হামাস নিজেদের ইসলামপন্থি হিসেবে পরিচয় দিলেও ফাতাহ ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে।
তথ্য সূত্র: বিবিসি, আজ জাজিরা, এনডিটিভি

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি