রেডিসনে ভারতীয় সেনাপ্রধান

প্রকাশিত: ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০১৭

প্রভাতবেলা ডেস্ক: তিনদিনের সফরে ঢাকায় এসে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভারতের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত।বাংলাদেশের সেনাপ্রধানে আমন্ত্রণে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিমান বাহিনীর বঙ্গবন্ধু ঘাঁটিতে তার বিমান এসে পৌঁছায়।

ভারতীয় সেনাপ্রধানের সঙ্গে তার স্ত্রী মাধুলিকা রাওয়াত এবং চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রয়েছে। এ সময় তাকে স্বাগত ও অভ্যর্থনা জানান সেনাবাহিনীর লজিস্টিক এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সহকারী তথ্য কর্মকর্তা ওয়াজির উদ্দীন আহমেদ জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তার সফরের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে।

ঢাকায় পৌঁছানোর পর তিনি হোটেল রেডিসনে উঠেছেন। শিখা অনির্বাণে পুস্পস্তবক অর্পণের পর সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে সেনাকুঞ্জে ভারতীয় সেনা প্রধানকে গার্ড অব অনার দেয়া হবে।এরপর সকাল ৮টায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন তিনি।

এছাড়া বিকেল তিনটায় গণভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে ভারতীয় সেনাপ্রধানের।

আরও পড়ুন  অর্ধশতাধিক মৃত্যুর দিনে শনাক্ত ৫৩৫৮

এদিকে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার মতবিনিময় করার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ঢাকার মিরপুরের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের শিক্ষার্থী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভাষণও দেবেন ভারতীয় সেনাপ্রধান।

ভারতের সেনা প্রধান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তার ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলো শেয়ার করবেন। তার ব্যাটালিয়ন ৫/১১ জিআর বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে যুদ্ধ করেছে। বাংলাদেশ সফরকালে সে সকল যুদ্ধ ক্ষেত্রের কিছু এলাকা পরিদর্শন করবেন। তিনি পীরগঞ্জ, ঘোড়াঘাট, গোবিন্দগঞ্জ,সুলাকান্দি মহাস্থান সেতু এবং বগুড়ায় যুদ্ধ করেন।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর আগামী ৭ এপ্রিল নয়াদিল্লি সফরে দুই দেশের মধ্যকার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার আগ মুহূর্তে ভারতীয় সেনাপ্রধানের এই সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর প্রধান হওয়ার পর রাওয়াতের এটিই প্রথম বিদেশ সফর। তার এ সফর দুদেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সফর বিনিময়ের একটি অংশ।

আরও পড়ুন  ১ মার্চ থেকে ই-নথি কার্যক্রম শুরু

এর আগে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান বেলাল মোহাম্মাদ শফিউল হক ভারত সফর করেন। বাংলাদেশের বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী প্রধানরাও ২০১৬ সালে ভারত সফর করেন। ওই বছরেই ভারতের বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী প্রধানরা বাংলাদেশ সফর করেন। ওই সময়ই ভারতের সেনাবাহিনী প্রধানকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

জানা গেছে, আগামী ৭ এপ্রিল চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন ৮ এপ্রিল। ধারণা করা হচ্ছে, এ সফরে উন্নয়ন প্রকল্প, কানেকটিভিটি, অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতসহ প্রায় ৩০টির মতো চুক্তি, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং নথি স্বাক্ষর হতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে প্রায় ৫০টির মতো দ্বিপক্ষীয় প্রস্তাবিত বিষয় রয়েছে। এরমধ্যে এখন পর্যন্ত ১৮-২০টি চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয় চূড়ান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে অন্তত ৩০টি চুক্তির বিষয় চূড়ান্ত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ