ফেনুর কাছে কোটি টাকা বকেয়া নিয়ে জেলা প্রশাসনের গণশুনানী

প্রকাশিত: 2:03 PM, April 12, 2017

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক : বাকীতে জfলানী সংগ্রহ করে এখন প্রায় কোটি টাকা পরিশোধ করতে নানা টালবাহানার অভিযোগে পশ্চিম কাজলশাহ এলাকার ‘আর আর ট্রান্সপোর্টে’র স্বত্ত্বাধিকারী মো. রফিকুল ইসলাম ফেনুর বিরুদ্ধে জ্বালানী ব্যবসায়ীদের স্মারকলিপির প্রেক্ষিতে গণশুনানী সম্পন্ন হয়েছে। ১১ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকাল ৪ টায় সিলেট জেলা প্রশাসকের হলরুমে এ গণশুনানীতে উভয়পক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

গণশুনানী শেষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আবু সাফাত মো. সাহেদুল ইসলাম- জালালাবাদ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিষ্টিবিউটরস, এজেন্ট এন্ড পেট্রোলপাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় সভাপতি মো. মোস্তফা কামালকে সভাপতি করে উভয় পক্ষে ৫ জন করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করে দেন। ওই কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষের কাগজাদি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আবু সাফাত মো. সাহেদুল ইসলামের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আবু সাফাত মো. সাহেদুল ইসলাম বলেন- বাদী হেলাল উদ্দিন তার বক্তব্যের স্বপক্ষে সকল কাগজাদি গণশুনানীকালে আমার কাছে দিয়েছেন। কিন্তু বিবাদী রফিকুল ইসলাম ফেনু তার বক্তব্যে নানারকম কথাবার্তা বলায় ও স্বপক্ষে কোন কাগজাদি জমা না দেওয়ায় ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি উভয় পক্ষের কাগজাদি পরীক্ষা করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলেছি।

আরও পড়ুন  জীবনের ভরদুপুরে চলে গেলেন অধ্যাপক বাবর

এর আগে গত ৫ এপ্রিল বুধবার সকাল ১০টায় ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম ফেনুর বিরুদ্ধে সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবর দেওয়া এক নালিশী দরখাস্ত প্রদান করা হয়েছিল। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্টস এন্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন সিলেটের নেতৃবৃন্দ এ অভিযোগ প্রদান করেন।

অভিযোগে তাদের দাবি ছিল, জালালাবাদ থানাধীন টুকেরবাজার এলাকার মৃত সফাত উল্লাহর ছেলে হাজী মো. হেলাল উদ্দিনের মালিকানাধীন টুকেরবাজারের তেমুখী পয়েন্ট অবস্থিত মেসার্স সফাত উল্লাহ ফিলিং স্টেশন থেকে রফিকুল ইসলাম ফেনুর ১২০টি গাড়ির জন্য ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মাসিক চুক্তিতে নিয়মিত জ্বালানী সংগ্রহ করা হতো। ফেনু প্রতিমাসে বিল পরিশোধ করলেও চলতি বছর জানুয়ারি মাস থেকে হঠাৎ বিল প্রদান বন্ধ করে দিয়েছেন। বর্তমানে তার কাছে হেলাল উদ্দিনের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯৪ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।
এ ব্যাপারে সমিতির পক্ষ থেকে ডাকা সভায়ও ফেনু উপস্থিত হননি বলেও সাধারণ ডায়রি সূত্রে জানা গেছে। এ ব্যাপারে হেলাল উদ্দিন গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জলালাবাদ থানায় একটি জিডি (নং ৮৬৮/১৭) ও করেছেন।

আরও পড়ুন  লাঠিটিলা সীমান্তের ওপারে ভারতের পাথারকন্দিতে বাংলাদেশী খুন

ওইদিন জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার দরখাস্তটি গ্রহণ করেন এবং বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার জন্য তৎক্ষণাৎ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আবু সাফাত মো. সাহেদুল ইসলামকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এর প্রেক্ষিতেই এই শুনানী অনুষ্টিত হলো।

৫ এপ্রিল অভিযোগ প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা মুহিবুর রহমান মানিক, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কমিশনার আব্দুল খালিক, জালালাবাদ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিষ্টিবিউটরস, এজেন্ট এন্ড পেট্রোলপাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় সভাপতি মো. মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং এন্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ স্টেশন ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. জুবায়ের আহম্দ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. আমিরুজ্জামান চৌধুরী, সিলেট জেলা টেংকলরী মালিক সমিতির সভাপতি মো. হুমায়ুন আহমদ ও মো. হেলাল উদ্দিন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ