বিদায় বলে চমকে দিলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স !

প্রকাশিত: ৬:০৩ অপরাহ্ণ, মে ২৩, ২০১৮

মাঠে ময়দানে ডেস্কঃ দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রান্সভাল প্রদেশের প্রিটোরিয়ায় জন্ম। পুরো নাম আব্রাহাম বেঞ্জামিন ডি ভিলিয়ার্স । তবে তিনি এবি নামেই দলীয় খেলোয়াড়দের কাছে পরিচিত। ক্রিকেট বিশ্ব চেনে এবি ডি ভিলিয়ার্স নামে।

দক্ষিণ আফ্রিকার এই মারকুটে ব্যাটসম্যান হঠাত করেই ঘোষণা দিলেন আর নয় ক্রিকেট। বিদায় ক্রিকেট। বিদায় বলে চমকে দিলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স ।

এবার তুলে রাখবেন ক্রিকেটের ব্যাটিং গ্লাভস, প্যাড ও হেলমেট।

তবে সেটা দেশের হয়ে খেলার ক্ষেত্রে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর মাঠে নামবে না দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে।
বুধবার (২৩ মে) এবি ডি ভিলিয়ার্স আচমকা বললেন আমি ‘ক্লান্ত’ । তাই অবসরের যাচ্ছে। এমন ঘোষণাই দিলেন প্রোটিয়া এই সুপারস্টার।

নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে ৯৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শেয়ার দিয়েছেন এবি। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘এটা খুব কঠিন সিদ্ধান্ত আমার জন্য। আমি অনেক দীর্ঘ সময় নিয়ে এ নিয়ে ভেবেছি। আমার মনে হয়েছে ভালো ফর্মে থাকা অবস্থাতেই বিদায় নেয়া ভাল। ার এটাই সেই সময়। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ দুটি সিরিজ জয় পেয়েছি। আমার মনে হচ্ছে সরে দাঁড়ানোর এটাই সঠিক ও শ্রেষ্ঠ সময়।’

আরও পড়ুন  গণভবনে মহিলা ক্রিকেটারদের প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা

দক্ষিণ আফ্রিকা একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দলের বর্তমান অধিনায়ক এভাবেই তার বিদায়ের কথা তুলে ধরেন টুইটারে।

এবি ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ‘এই মুহূর্ত থেকেই আমি সব আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

১১৪ টেস্ট, ২২৮ ওয়ানডে ও ৭৮টি টি-টোয়েন্টি খেলার পর অন্যদের সময় এসেছে দায়িত্ব বুঝে নেয়ার। আমি আমার কাজটা করেছি, সত্যি কথা বলতে আমি ক্লান্ত।’

এবি ডি বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে নির্দিষ্ট কোনো ফরম্যাট বেছে নেয়া কিংবা বেছে বেছে নির্দিষ্ট কোনো সিরিজ খেলার সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হতো না। যদি সবুজ-সোনালির হয়ে খেলতেই হয়, তবে সব খেলব, নয় তো একদম কিছু না। এত বছর ধরে আমাকে সমর্থন দেওয়ার জন্য সাউথ আফ্রিকান বোর্ডের কোচ ও স্টাফদের কাছে কৃতজ্ঞ। ক্যারিয়ারজুড়ে যত সতীর্থ পেয়েছি, তাদের সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ। এতগুলো বছর যে সমর্থন পেয়েছি, সেটা না থাকলে আমি অর্ধেক (বর্তমান পর্যায়ের) ক্রিকেটারও হতে পারতাম না।’

জাতীয় দলের হয়ে ১১৪টি টেস্ট, ২২৮টি ওয়ানডে এবং ৭৮ টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন এবি। টেস্ট ও ওয়ানডের দুই ফরম্যা ২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক এবির।

পরের বছর ওয়ানডে অভিষেকটাও ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই। ৫০.৬৬ গড়ে টেস্টে রান করেছেন ৮৭৬৫। ২২ সেঞ্চুরির সঙ্গে হাফসেঞ্চুরি ৪৬টি। ওয়ানডেতে রান করেছেন ৯৫৭৭। গড় ৫৩.৫০। সেঞ্চুরির ২৫, হাফসেঞ্চুরি ৫৩টি। ৭৮ টি-টুয়েন্টিতে ১০টি হাফসেঞ্চুরিসহ রান করেছেন ১৬৭২। টেই ৫০’র উপরে তার ব্যাটিং গড়।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচ খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে

উল্লেখ্য, এবি ডি ভিলিয়ার্স ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের পর গ্রেইম স্মিথের কাছ থেকে দলের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এরপর টানা দেশের হয়ে খেলে যাচ্ছেন। বর্তমান একদিনের ক্রিকেটের অধিনায়ক হলেও টুয়েন্টি২০ দক্ষিণ আফ্রিকা দলেরও অধিনায়ক ছিলেন এবি।

ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ‘ এটা অন্য কোথাও অর্থ উপার্জনের বিষয় নয়, এটা হলো ক্লান্তির ব্যাপার। এ ছাড়া আমার মনে হচ্ছে, এটাই সঠিক সময় সরে যাওয়ার। সবকিছুই একসময় না একসময় শেষ হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা ও বিশ্বের সব ক্রিকেট ভক্তদের বলছি, আপনাদের দয়া ও ঔদার্যের জন্য ধন্যবাদ। আর আজ আমার ব্যাপারটা বোঝার জন্য ধন্যবাদ। আমার দেশের বাইরে খেলার কোনো ইচ্ছা নেই। সত্য হলো, আমি ঘরোয়া ক্রিকেটে টাইটানসের হয়ে খেলা চালিয়ে যেতে চাই’।

এবি ডি ভিলিয়ার্স এই সময়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর দলেও নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন।

সর্বশেষ সংবাদ