বাংলাদেশের আকাশে পতাকা একটিই উড়বে, লাল আর সবুজ

প্রকাশিত: ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ, মে ২৯, ২০১৮

মাকসুদা লিসাঃ বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর ডামাডোল বেজে উঠার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে শুরু হয়ে যায় বিভিন্ন দেশের পতাকা উড়ানোর উৎসব। কে , কোন দলের সমর্থক তা টের পাওয়া যায় এলাকায় এলাকায় বাসা-বাড়ী ছাদে, অফিস আদালতে, এমনকি রাস্তায় প্রাইভেট কার, বাসের উইল্ডশীল্ডে পতাকার বাহার দেখে।  কে কার চেয়ে বড় পতাকা উড়াতে পারবেন চলে প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশের আকাশে , বাতাসে উড়ে ভিন দেশের পতাকা !

এক নয়, দুই নয়। হাজার হাজার পতাকা। বিশ্ব ফুটবলের বড় ও জনপ্রিয় দুই দল আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের অগনিত সমর্থক বাংলাদেশে।

বিশ্বকাপ আমেজে মেতে উঠেন আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল, জার্মানিসহ অন্যান্য দেশের সমর্থকরা । চলে নানা আয়োজন। যত দূর দৃষ্টি মেলে তাকালো যায়, চোখে পড়ে নীল-সাদা, হলুদ-সবুজ ও কালো-লাল-হলুদ পতাকা উড়ছে পতপতিয়ে। এটা কোন দেশ !

এটা বাংলাদেশ ! আমাদের দেশ। যেদেশ স্বাধীন হয়েছে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে। সেই দেশের জনগণ এতটাই আবেগ প্রবল ভিনদেশের ফুটবলকে ঘিরে, তারা বেমালুম ভুলে যান এ-মাটি স্বাধীনতার পক্ষের মাটি।  স্বাধীন সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্র। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত প্রিয় বাংলাদেশ। আমার বাংলাদেশ। আমার সোনার বাংলা। যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে লক্ষ মুক্তিসেনা।

বাংলাদেশের জনগণের মত এত ভিন দেশী ফুটবল প্রেম পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায় না। বাংলাদেশের মানুষ ক্রীড়াপ্রেমি। কোন সন্দেহ নেই তাতে। হোক ফুটবল কিংবা ক্রিকেট। হৃদয়ের ভালবাসা সব ঢেলে দেন প্রিয়  দলের সমর্থনে। এদেশের জনগণের মত ক্রীড়া ইভেন্টের ভিনদেশী কোন দলের প্রতি এত আকুলতা ও ব্যকুলতা বড্ড বেমানান। বিশ্বে এমন নজীর আর কোথাও নেই। বিশ্বের অন্য কোন দেশের ভবনের ছাদে ছাদে এত এত পতাকা শোভা পায় না,  উড়ে না  অন্যদেশের পতাকা এভাবে। যেমনটা বাংলাদেশের ক্রীড়াপ্রেমিরা উড়িয়ে থাকেন।

আরও পড়ুন  অভিভাবকদের নজরে রাখতে হবে, তার সন্তান কোথায় যাচ্ছে- প্রধানমন্ত্রী

তবে এই ভিনদেশী প্রেম নিয়ে কথা উঠেছে। সচেতন মহলে। মনে প্রশ্ন উঠেছিল আগেই।

এবার তা আদালত পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে।

রাশিয়ায় আগামী ১৪ জুন থেকে শুরু হচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আয়োজন বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮। এই খেলা চলাকালে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বিদেশি পতাকার অননুমোদিত ব্যবহার বন্ধে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে।

কেন উড়বে বাংলাদেশে অন্যদেশের পতাকা ?

আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন একজন দেশ প্রেমি মুক্তিযোদ্ধা। বিদেশি পতাকা ওড়ানোর প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন তিনি।

পতাকা বিধির ৯ ধারা অমান্য করে ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন ভবনে বিদেশি পতাকা ওড়ানোর প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন এই মুক্তিযোদ্ধা।

তবে সোমবার (২৮ মে) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমদের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটির শুনানি হয়নি।

এখন রিট আবেদনকারীর আইনজীবী বলছেন আবেদনটি উক্ত বেঞ্চ থেকে বাদ দেওয়ার কারণে তিনি নতুন বেঞ্চে নিয়ে যাবেন।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী দেওয়ান আবদুন নাসের। রিট আবেদনটি দায়ের করেন মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ নুরুল আমিন।

আরও পড়ুন  টানা ১০ ম্যাচে গোল করলেন রোনালদো

আবেদনে বলা হয়, রাশিয়ায় ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন ভবনের উপরে বিদেশি পতাকা ওড়ানো  হচ্ছে। অথচ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২-এর বিধান অনুযায়ী, বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনৈতিক মিশনসমূহ ছাড়া অন্য কোনো স্থানে অন্য রাষ্ট্রের পতাকা উত্তোলন করতে হলে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। সেই বিধান লঙ্ঘন করে ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে পতাকা ওড়ানোর প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়। রিটে  বিবাদী করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিবকে।

স্যালুট ও সাধুবাদ এই সত্যিকারের দেশ প্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ নুরুল আমিনকে । তার এই সাহসী ভূমিকা অনেকেই বাঁকা চোখে দেখেছেন। কিন্তু অন্তরে দেশ প্রেম, ভক্তি, শ্রদ্ধা আছে বিধায় মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আমিন এই সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পেরেছেন। নুরুল আমিনের মত আরো হাজার মানুষ আছে এই বাংলায় যারা এই অতিরঞ্জন ভালবাসা ও আবেগ প্রকাশের পক্ষে নন। এটা বাড়াবাড়ি। দেশকে অসন্মানের পর্যায়ে পড়ে। জাতীয় পতাকার প্রতি অসন্মান দেখানো।

কোন দলের প্রতি ভালবাসা ও সমর্থন থাকতেই পারে। তবে তা দেশ ও দেশের পতাকাকে অসন্মান করে নয়।

বাংলাদেশের আকাশে পতাকা একটিই উড়বে, লাল আর সবুজ। এখন অপেক্ষা,  মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ নুরুল আমিন সঠিক ও ন্যায় বিচার পান কিনা আদালতের কাছে তা দেখার।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ