এরদোগানের ডাকে রাস্তায় লাখো জনতা

প্রকাশিত: ৫:৫২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০১৬

ইস্তানবুলের মত প্রধান শহরগুলোতে তুর্কী জনতা জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে গান গেয়ে সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন প্রকাশ করে।

সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে ইস্তানবুলের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। তারা সারারাত রাস্তায় থেকে চক্রান্তের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছে।

তাদের বক্তব্য একটাই- কিছুতেই দেশ কিংবা গণতন্ত্র সামরিক সদস্যদের হস্তগত হতে দেয়া যাবে না।
রাজধানীয় আঙ্কারায় পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে প্রেসিডেন্ট রেসেপ তায়েপ এরদোগান সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন ।

তিনি সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টার ষড়যন্ত্রের জন্য নির্বাসিত ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনকে অভিযুক্ত করেন এবং তাকে তুরস্কের কাছে প্রত্যর্পণ করতে আমেরিকান কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

‘প্রেসিডেন্ট এরদোগান এখানে বলছিলেন, যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র আমাদের কৌশলগত বন্ধু রাষ্ট্র, সুতরাং তারা নিশ্চয়ই পেনসিলভানিয়া থেকে তাকে তুরস্কের কাছে হস্তান্তর করবে।’

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বসবাসরত  গুলেন কোনো ধরনের সামরিক অভ্যুত্থানের সাথে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন।

আরও পড়ুন  বৃটেনে জমিয়তের পাল্টাপাল্টি কমিটি: বিব্রত ওলামায়ে কেরাম

তুরস্ক থেকে স্থানীয় সাংবাদিক সরওয়ার আলম বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন আবারো বিদ্রোহের চেষ্টা হতে পারে এমন আশংকাতেই সরকারের পক্ষ থেকে মানুষকে রাস্তায় নেমে আসতে বলা হচ্ছে বলছেন অনেকে।

আর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, গুলেনকে তুরস্কের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি বিবেচনায় আনতে হলে, turkey1তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ দেখাতে হবে ।

তিনি আরেআ বলেন, অভ্যুত্থান চেষ্টার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা কোনেআ ধরনের অভিযোগ নেটো সহযোগী রাষ্ট্র দুটোর সু-সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তুরস্কের এই সংকটময় মুহূর্তে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে এমন যেকোনো ধরনের কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকতে এবং আইনের শাসন মেনে চলতে দেশটির সব দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মার্কিন সরকারের একজন মুখপাত্র জানান, তুর্কী সরকার আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়ায় ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের বিরুদ্ধে মার্কিন ঘাঁটি থেকে বিমান হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে ।

তুরস্কের নির্বাচিত সরকারকে সমর্থনের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘে আনা একটি খসড়া প্রস্তাব মিশরের বিরোধিতার কারণে আটকে গেছে।

আরও পড়ুন  ইজতেমার ১ম দিনে ৩ মুসল্লির মৃত্যু

এদিকে তুরস্কের বেশ কয়েকজন জেনারেল পদমর্যাদার সেনা কর্মকর্তা সহ প্রায় তিন হাজার সৈন্যকে আটক করা হয়েছে। এর আগে সামরিক একজন মুখপাত্র বলেন, অভ্যুত্থান চেষ্টাকারী সেনাদের বেশিরভাগই বিমানবাহিনী, মিলিটারি পুলিশ এবং সাঁজোয়া ইউনিটের সদস্য।

একইসঙ্গে কর্তৃপক্ষ আড়াই হাজার বিচারককে অপসারণের ঘোষণা দিয়েছে। বেসামরিক নাগরিক সহ দুশো ষাটজনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ