বিপ্লব ও সংহতি দিবসে সিলেট জেলা বিএনপির আলোচনা সভা

প্রকাশিত: ৭:৫৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০২০

বিপ্লব ও সংহতি দিবসে সিলেট জেলা বিএনপির আলোচনা সভা

প্রভাতবেলা ডেস্ক:

সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার বলেছেন, যতদিন স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ থাকবে, এর ইতিহাসে ৭ নভেম্বর একটি উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে থাকবেই। যখনই গণতন্ত্রের উপর আঘাত এসেছে তখনই দেশপ্রেমিক জনতা রুখে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতাসীন সরকার জনতার রায়কে ভয় পায় বলেই নির্বাচন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়ে দেশে একদলীয় বাকশালী শাসন কায়েম করেছে। আদর্শিক মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়ে তারা জাতীয়তাবাদী শক্তি তথা শহীদ জিয়ার পরিবারকে নিয়ে একের পর এক ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু কোন ষড়যন্ত্রই সফল হবেনা। যে জাতির শিরায় শিরায় ৭ই নভেম্বরের বিপ্লবের চেতনা বহমান সে জাতিকে দাবিয়ে রাখার সাধ্য কারো নেই।

তিনি সোমবার (৯ নভেম্বর) ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সিলেট জেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল আহাদ খান জামাল ও আবুল কাশেমের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ১নং সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ সিলেটের সভাপতি ডা. শামীমুর রহমান ও সাবেক এমপি আব্দুল কাহির চৌধুরী। নগরীর দরগাগেইটস্থ কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের শহীদ সুলেমান হলে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের সকল পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

 

আরও পড়ুন:  তৃণমূল নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা বিএনপি’র মতবিনিময়

 

জেলা বিএনপির সাবেক সহ-দফতর সম্পাদক আব্দুল মালেকের পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সূচীত সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ময়নুল হক চেয়ারম্যান, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি কাউন্সিলার ফরহাদ চৌধুরী শামীম, জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপিকা সামিয়া বেগম চৌধুরী, জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফখরুল ইসলাম ফারুক, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাজহারুল ইসলাম ডালিম ও শামীম আহমদ, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক একেএম তারেক কালাম, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বজলুর রহমান ফয়েজ ও হাবিবুর রহমান হাবিব, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি আহসান, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আশরাফ উদ্দিন ফরহাদ ও ময়নুল ইসলাম মঞ্জুর, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আলী আকবর রাজন ও নেতা দুলাল রেজা, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মোতাকাব্বির চৌধুরী সাকী প্রমুখ।

আরও পড়ুন  বিশ্বনাথে অস্ত্রসহ দুই ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম বলেন, ‘অবৈধ সরকার বিপ্লবের চেতনাকে ভয় পায়। কারণ তারা গণতন্ত্রকে হত্যা করে ভোট চুরি করে ক্ষমতা দখল করেছে। অথচ বিপ্লব এদেশের মানুষের শিরায় শিরায় বহমান। আর ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী দেশ-জাতি, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের শত্রু। তাই যতই জুলুম-নিপীড়ন চালানো হোক না কেনো, বিপ্লবীদের দমিয়ে রাখার সাধ্য কারো নেই। ৭ই নভেম্বরের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। সরকারকে ভুলে গেলে চলবে না শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশ একই সূত্রে গাথা।’

 

আরও পড়ুন:  সরকার বিপ্লবের চেতনাকে ভয় পায়: নাসিম হোসাইন

 

সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ সিলেটের সভাপতি ডা. শামীমুর রহমান বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর না হলে বাংলাদেশের ইতিহাস ভিন্ন রকম হতে পারতো। ৭১ সালে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, তেমনই ৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে আমরাই আধিপত্য বাদী-সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর হাত থেকে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিলাম। ভবিষ্যতেও স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শহীদ জিয়ার সৈনিকেরা অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করবে।’

আরও পড়ুন  লাইফ সাপোর্টে সাবেক ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী

সভায় বিভিন্ন বক্তারা বলেন- দেশ জাতি আজ চরম ক্রান্তিকাল অতিবাহিত করছে। ১৯৭১ সালে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শহীদ জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশপ্রেমিক জনতা মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। আবার ৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর শহীদ জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখেই সিপাহি জনতার বিপ্লব সংঘটিত হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে নিয়ে সাম্রাজ্যবাদীদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা হয়েছিল। অবৈধ সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি ও দেশ পরিচালনায় ব্যর্থতার কারণে আজো আধিপত্য বাদীরা আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করে তুলেছে। তাই ৭ই নভেম্বরের জাতীয় চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার নেতৃত্বে এবং দেশী-বিদেশী সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার দীপ্ত শপথ নিতে হবে।

সর্বশেষ সংবাদ