মাহাথির মোহাম্মদের পদত্যাগ

প্রকাশিত: ১:২৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০

মাহাথির মোহাম্মদের পদত্যাগ

 

বিশ্বভূবন ডেস্ক:

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তার দেশের রাজার কাছে। এ বিষয়টি সরাসরি জানেন এমন দুটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এ নিয়ে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার কর্তৃত্ব না থাকায় ওই সূত্র দুটি নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর অফিস এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তারা শুধু বলেছে, এ বিষয়ে শিগগিরই একটি বিবৃতি দেয়া হবে। দেশ শাসনের জন্য নতুন একটি জোট গঠনের আলোচনার মধ্যে তিনি এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ২০১৮ সালের মে মাসে দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৯৪ বছর বয়সে দায়িত্ব নেন মাহাথির মোহাম্মদ।

 

এর আগে সোমবার মালয়েশিয়ার ক্ষমতাসীন জোটের পরিণতি নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। কারণ, সপ্তাহান্তে প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের দল ও অন্যান্য গ্রুপের মধ্যে একটি নতুন সরকার গঠন নিয়ে বিস্ময়করভাবে এক আলোচনা শুরু হয়। ওই নতুন সরকার থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে উত্তরসুরি দাবিদার আনোয়ার ইব্রাহিমকে বাইরে রাখা হয়। গত নির্বাচনের আগে জেলবন্দি আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে জোট করেন মাহাথির। তাদের মধ্যে চুক্তি হয় নির্বাচনে বিজয়ী হলে ক্ষমতার অর্ধেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকবেন মাহাথির। বাকি অর্ধেক সময় তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে। কিন্তু সপ্তাহান্তে পাকাতান হারাপানের প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল আনোয়ার ইব্রাহিমের দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। তারা মাহাথিরের ওপরই তাদের আস্থা প্রকাশ করে। রোববার মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, ক্ষমতা কখন ছাড়বেন তা নির্ভর করে তার ওপর। এমন অবস্থায় এক অনিশ্চিত অবস্থায় পড়ে মালয়েশিয়ার রাজনীতি।

আরও পড়ুন  আফগানিস্তানে আকস্মিক বন্যায় ৩০ জনের প্রাণহানি

 

আগের দেয়া এক প্রতিবেদনে রয়টার্স লিখেছে, ৯৪ বছর বয়সী মাহাথির মোহাম্মদ ও ৭২ বছর বয়সী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যকার সম্পর্ক মালয়েশিয়ার রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করছে। দেখা দিচ্ছে উত্তেজনা। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ক্ষমতার অর্ধেক আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেয়া সত্ত্বেও সেই অবস্থার উত্তরণ ঘটে নি। কিন্তু দেশের ভবিষ্যত অনিশ্চিত দেখে ২০১১ সালের পর সোমবার খোলার সময় দেশটির শেয়ারবাজারে এযাবতকালের সর্বনিম্ন অর্থাৎ শতকরা দুই ভাগের বেশি পতন হয়েছে। রোববার মাহাথির মোহাম্মদের দলকে অভিযুক্ত করে তাদেরকে বিশ্বাসঘাতক বলে অভিহিত করেছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। তার অভিযোগ, মাহাথির মোহাম্মদের দল ২০১৮ সালে ক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়া ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের (ইউএমএনও) সঙ্গে নতুন সরকার গঠনের ষড়যন্ত্র করছে।

 

বিভিন্ন সূত্র বলেছে, মাহাথির মোহাম্মদের দল ও আনোয়ার ইব্রাহিমের দলের মধ্যকার একটি অংশ ইউএমএনও’র কর্মকর্তা এবং ইসলামপন্থি পিএএস পার্টির কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। তারা নতুন একটি জোট গঠনের জন্য এই আলোচনা করেন। এতে পূর্ণাঙ্গ ৫ বছর মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের প্রতি সমর্থন দিতে তাদের সহায়তা চাওয়া হয়। একটি সূত্র বলেছে, নতুন এই গ্রুপে রয়েছেন কমপক্ষে ১১২ জন সদস্য। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য এই সংখ্যক সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হয়। তাই নতুন একটি জোট গঠনের জন্য তাদের কাছে যথেষ্ট সংখ্যক সদস্য আছে। এক্ষেত্রে দুটি সূত্র বলেছেন, এমন অবস্থায় একেবারে নতুন একটি নির্বাচন হলো একটি উপায়। তবে এসব বিষয়ে মাহাথিরের দল, বিরোধী ইউএমএনও, ইসলামপন্থি পিএএস ও আনোয়ার ইব্রাহিমের দলের কোনো অংশ তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

আরও পড়ুন  ভুটানে জাতীয় নির্বাচন মঙ্গলবার

 

মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, মাহাথির মোহাম্মদের দল, ইউএমএনও এবং পিএএস রোববার সাক্ষাত করেছে রাজার সঙ্গে। তবে কি নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার জানা যায় নি। রাজা চাইলে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে পারেন। একজন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ বা সিনিয়র কোনো কর্মকর্তাকে নিয়োগের ক্ষেত্রে তার সম্মতি প্রয়োজন হয়। ওদিকে আজ সোমবার রাজার সঙ্গে সাক্ষাত করার কথা রয়েছে আনোয়ার ইব্রাহিমের। তবে কি নিয়ে কথা বলবেন তা জানা যায় নি।

 

প্রভাতবেলা/এমএ

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ