সালাহউদ্দিনের দেশে ফেরা আটকে গেল

প্রকাশিত: ৩:২৫ পূর্বাহ্ণ, মে ৩, ২০১৯

সালাহউদ্দিনের দেশে ফেরা আটকে গেল

বিশেষ সংবাদদাতা, শিলং:  অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে করা মামলায় ভারতের শিলংয়ের একটি আদালত বেকসুর খালাস দেন। এরপর দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। গত ছয় মাস ধরে ছাড়পত্রের অপেক্ষায় সাবেক এই যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে।

ভারতের শিলং জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। ফলে আবারও আটকে গেল তার দেশে ফেরা। ২০১৫ সালের মে থেকে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে নির্বাচিত জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।

নিম্ন আদালত থেকে খালাস রায়ের পরও গত ছয় মাস ধরে ছাড়পত্রের অপেক্ষায় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং শহরে অবস্থান করছিলেন তিনি। রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করার বিষয়টি সালাহউদ্দিন আহমেদ জানতেন না।

সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, গত ২৭ এপ্রিল আমি আপিল আদালতের নোটিশ পেয়েছি। নোটিশ পেয়ে বুধবার (১ মে) সালাহউদ্দিন আহমেদ আপিল আদালতে হাজির হই।

তিনি জানান, বহুমূখী ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে আমাকে প্রবাস জীবন কাটাতে বাধ্য করা হচ্ছে। আপিল মামলাতেও আমি লড়ে জিতবো।

সালাহউদ্দিন আহমেদ এর কৌসুলি বা তাকে রাষ্ট্রপক্ষেও কৌসুলি আপিল করার বিষয়ে অবহিত করেননি। আপিলের বিষয়ে অবহিত করা হলে আপিল মামলাটি শিলং জেলা ও দায়রা জজ আদালতে দায়েরের গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে উভয়পক্ষের শুনানি হতে পারতো।

এর আগে ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর অবধৈ অনুপ্রবেশ মামলার রায়ে বেকসুর খালাস পান সালাহউদ্দিন আহমেদ।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে ২০১৫ সালের শুরু থেকে বিএনপি-জামায়াত জোটের টানা অবরোধ-হরতালের মধ্যে তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন বিএনপির মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে অজ্ঞাত স্থান থেকে এক মাসের বেশি সময় ধরে বিএনপির নামে বিবৃতি পাঠিয়ে কর্মসূচি দিচ্ছিলেন সালাহউদ্দিন। এরই মধ্যে ১০ মার্চ রাতে উত্তরার একটি বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তার স্ত্রী।

স্বামীর খোঁজ চেয়ে পরদিন গুলশান থানা ও উত্তরা থানায় জিডি করতে চাইলেও পুলিশ তা নেয়নি বলে সে সময় অভিযোগ করেন হাসিনা আহমেদ। সরকারের ‘নির্দেশে’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সালাহউদ্দিনকে ‘নিয়ে গেছে’ বলে সে সময় বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।

প্রায় দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর ২০১৫ সালের ১১ মে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে তাঁকে পাওয়া যায়। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের দায়ে সালাহউদ্দিনকে গ্রেফতার এবং তার বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা দেয়া হয়। পরে শিলং পুলিশ অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের দায়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে।

সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার এপিএস ছিলেন সালাহ উদ্দিন। পরে তিনি চাকরি ছেড়ে কক্সবাজারের সংসদ সদস্য হন এবং ২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদও সংসদ সদস্য ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার পর ২০১৬ সালে বিএনপির ৬ষ্ঠ কাউন্সিলের পর তাকে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়।

সর্বশেষ সংবাদ