তীব্র পানি সংকটে চিম্বুক-নীলগিরি

প্রকাশিত: 3:30 PM, May 1, 2024

তীব্র পানি সংকটে চিম্বুক-নীলগিরি
প্রভাতবেলা ডেস্ক: চিম্বুক-নীলগিরি এলাকায় তীব্র পানি সংকটে এলাকাবাসী। পাড়ার নারীদের ঝিড়ি থেকে এক কলসি পানি আনতে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। বর্তমানে ঝরনাগুলো শুকিয়ে যাওয়াতে সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

বুধবার (১ মে) দুপুরে কোরাং পাড়ায় রেডক্রিসেন্ট কর্তৃক খাবার পানি বিতরণের সময় পানি নিতে আসা এলাকার নারীরা একথা বলেন।

জেলা সদর থেকে ৪২ কিলোমিটার দূরে কোরাং পাড়া। বান্দরবান-নীলগিরি সড়কের পূর্ব পাশে হচ্ছে রুমা উপজেলার গ্যালেঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড কোরাং পাড়া। আর সড়কের পশ্চিম পাশে বান্দরবান সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড কোরাং বাজার পাড়া এলাকায় প্রায় ২১০ পরিবারের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বসবাস। পাড়া থেকে প্রায় ১ হাজার ফুট নিচে নামলে ছোট ছোট ঝিড়ি ঝরনা পাওয়া যায়। সেই ঝিড়ির পানির ওপর ভরসা করেই পরিবারের দৈনন্দিন জীবন চলে এলাকাবাসীর। শুষ্ক মৌসুমে সেই ছোট ছোট ঝিড়ি-ঝরনাগুলো শুকিয়ে গেলে মানুষের কষ্টের সীমা থাকে না। তখন একমাত্র পাতকূয়ায় ভরসা। আবার একসঙ্গে সবাই পানি আনতে গেলে আর পানিও পাওয়া যায় না। এক কলসি পানি নিতে অনেক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। তখন পাড়া থেকে এক কলসি পানি নিয়ে ঘরে ফিরে আসতে দেড়ঘণ্টা সময় লাগে।

কোরাং পাড়া বাজারের অধিবাসী রেং য়ক ম্রো (৫০) বলেন প্রচণ্ড গরমে মানুষের জীবন অতিষ্ঠ। তার মধ্যে পানি সংকট, এলাকায় মানুষের বসবাস জীবনযাপন অত্যন্ত কঠিন অবস্থায় দাড়িয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন  শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে গাইবান্ধা

কোরাঙ পাড়া নিবাসী লিয়াং বম (৬৫) বলেন, শুষ্ক মৌসুমের এলাকা মানুষের খাদ্যের চাইতে খাবার পানির সংকট বেশি হয়ে যায়। পাড়া থেকে কয়েক হাজার ফুট নিচে নেমে গোসল করা, রান্নার পানি, খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়। তখন পাড়া মানুষের পানি সংগ্রহ করতেই অধিকাংশ সময় চলে যায়।

কোরাং পাড়া এলাকায় ২১০ পরিবারের ম্রোসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বসবাস। এলাকাবাসী চিংহ্লাউ খেয়াং (৪২) বলেন, তিনি ১৫ বছর ধরে এই এলাকায় বসবাস করছেন। পাড়ার পার্শ্ববর্তী সব ছোট ছোট ঝিড়ি ঝরনাগুলো শুকিয়ে গেছে। এখন গোসল করার তো দূরে থাক খাবার পানির তীব্র সংকটে রয়েছে এলাকাবাসী। এই সংকটে রেডক্রিসেন্ট খাবার পানি বিতরণ করায় এলাকাবাসী খুবই উপকৃত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

 

গ্যালেঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য রেং ওয়াই ম্রো বলেন, কোরাং পাড়া এলাকায় ২১০ পরিবার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকের বসবাস। ১ হাজার ফুট নিচ থেকে নারীদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহ করতে হয়। ঝিড়ি থেকে এক কলসি পানি সংগ্রহ করতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। তাও অপ্রতুল। রেডক্রিসেন্ট ও সাংবাদিকদের সহযোগীতায় পানি পেয়ে এলাকাবাসী খুবই উপকৃত হয়েছেন বলে জানান তিনি। এলকাবাসীর পানি সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করার জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

পানি সংকটে থাকা এলাকায় বিশুদ্ধ পানি বিতরণের অন্যতম উদ্যােক্তা যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বাটিং মারমা বলেন, শুষ্ক মৌসুমে বিভিন্ন সময় পানি সংকট নিয়ে রিপোর্টিং করতে গিয়ে পানি সমস্যার কথা জানতে পারেন এবং মানবিক কারণে তিনি নিজে দু’বছর চিম্বুক-নীলগিরি এলাকায় নিজ উদ্যােগে বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করেন। চলতি বছরও রেডক্রিসেন্ট, জেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর মাধ্যমে পানি সংকটে থাকা এলাকায় পানি সরবরাহ করতে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন  ধামুইরহাটে কিশোরীর আত্মহত্যা

 

রেডক্রিসেন্ট বান্দরবান ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি দাশ বলেন, দুর্গম এলাকায় শুষ্ক মৌসুমে তীব্র খাবার পানি সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উশৈসিংয়ের সার্বিক পরামর্শে ও সাংবাদিকদের সহযোগিতায় যে সমস্ত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে সেই সমস্ত এলাকায় রেডক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে খাবার পানি বিতরণ করা হচ্ছে। যেখানে যেখানে সম্ভব সেই সমস্ত এলাকায় রেডক্রিসেন্টের উদ্যােগে খাবার পানি বিতরণ করা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, বান্দরবান জেলায় সুপেয় পানির সংকট নিরসনে বান্দরবান সদর ও লামা পৌরসভায় এডিবির অর্থায়নে দু’টি প্রকল্পের কাজ চলমান আছে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আরও দু’টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদন পেলে বান্দরবান পার্বত্য জেলায় সুপেয় পানির সংকট কমে যাবে বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ সংবাদ