‘আরিফ বাহিনী’র হামলায় চিকিৎসক লাঞ্চিত

প্রকাশিত: 12:50 AM, July 18, 2017

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক: পুরোনো রুপে মেয়র আরিফ। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ঘনিষ্টজন ছিলেন তিনি। সে সময় আরিফ আতঙ্কে তটস্ত থাকতেন প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা। বিএনপি তথা চারদলীয় জোট ক্ষমতা হারানোর পর সিলেটের সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিরা ছিলেন এ আতঙ্কমুক্ত। কিন্তু হঠাৎ করে স্বরুপে ফিরলেন আরিফ। তিনি নগরপিতা! দলবল নিয়ে একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে হামলে পড়লেন। পেটালেন একজন চিকিৎসককে। ডাক্তারের রক্তে রঞ্জিত হল হাসপাতালের চত্বর। আরিফের এ ঘটনায় নগরজুড়ে মানুষের প্রশ্ন, ‘এ কি করলেন আরিফ?”
সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজে দলবল নিয়ে হামলা করেছেন। অভিযোগ করেছেন, হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আহাদ। হামলায় আহত হওয়ায় তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন বিএমএ।
রাস্তা প্রশস্ত করতে সোমবার দুপুরে দলবল নিয়ে সিলেট উইমেন্স কলেজ  হাসপাতালের সামনে যান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এসময় রাস্থার জন্য কিছু জায়গা ছেড়ে দিতে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে ফোনে কথা বলেন তিনি। জায়গা ছাড়তে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়ার কথা  জানালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা: আব্দুল আহাদের  ওপর চড়াও হন মেয়র। মেয়র সশস্ত্র একটি দল নিয়ে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনে ব্যবস্থাপনা পরিচালক  ডা: আব্দুল আহাদের ক্ক্ষ খুজতে থাকেন। এক পর্যায়ে এমডি কক্ষে সদলবল নিয়ে ঢুকে পড়েন। উত্তেজিত আরিফ অশালিন ভাষায় কথা বলতে বলতে এক সময় চড়াও হন ডা. আহাদের ওপর। মূহুর্তেই হুলুস্থুল কান্ড। অারিফের সঙ্গে থাকা যুবকরা বেদম পেটাতে থাকে ডা. আহাদকে। হামলায় রক্তাক্ত ডা. আাদ লুটিয়ে পড়েন মেঝেতে।
সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের  ব্যবস্থাপনা পরিচালক,ডাঃ আব্দুল আহাদ এবং   ভাইস চেয়ারম্যান বশির আহমদ প্রভাতবেলাকে জানান, অধিগ্রহনের নিয়ম অনুসরণ না করে মেয়র একটি স্মারক নম্বরবিহীন চিঠি দিয়ে জায়গা ছাড়তে বললে তারা রাজী হননি। এ নিয়ে ফোনে বাক-বিতন্ডার এক পর্যায়ে হাসপাতালের এমডিকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেন মেয়র। এদিকে মেয়র আরিফ বলছেন, অধিগ্রহণের নিয়ম অনুসরণ করতে গেলে সময় ক্ষেপন হবে, এ জন্য উন্নয়নের স্বার্থে আপোসে জায়গা ছাড়ার প্রস্তাব দেন তিনি।
এদিকে, হাসপাতালে হামলা ও চিকিৎসক লাঞ্চনার প্রতিবাদে বিএমএর উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার সকাল ১১ টায়  উইমেন্স মেডিকেলের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়েছে।পরবর্তি আন্দোলন কর্মসূচি মানববন্ধন থেকে ঘোষনা করা হবে বলে প্রভাতবেলাকে জানান, বিএমএ’র কেন্দ্রীয় কাউন্সিলর ডাঃ ইশফাক জামান সজিব ।  এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। 

সর্বশেষ সংবাদ