একাত্তরের কথা’র সম্পাদকসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে সেলিমের মামলা

প্রকাশিত: ১১:৪২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০২০

একাত্তরের কথা’র সম্পাদকসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে সেলিমের মামলা

একাত্তরের কথা’র সম্পাদক, প্রকাশক, প্রতিবেদকসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে কাউন্সিলর সেলিমের মামলা। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা এ মামলা দায়ের হয়েছে। প্রভাতবেলা প্রতিবেদক

 

 

সিলেট মহানগর পুলিশের শাহ পরান থানায় শুক্রবার রাতে মামলাটি করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা ছালেহ আহমদ সেলিম।

 

 

শাহ পরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বাদীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শেষে মামলাটি ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারায় নথিভুক্ত করা হয়েছে।

 

 

মামলায় আসামি করা হয়েছে, সিলেটের স্থানীয় দৈনিক একাত্তরের কথা’র সম্পাদক চৌধুরী মুমতাজ আহমদ, প্রকাশক মো. নজরুল ইসলাম, প্রতিবেদক সাঈদ চৌধুরী, জিকরুল ইসলাম, মো. মুহিত, ‘অ্যাডমিন’ (পত্রিকার প্রশাসনিক কর্মকর্তা) আহমদ মারুফসহ ১৮ জনকে।

 

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার আসামিদের মধ্যে সাতজন সাংবাদিক রয়েছেন। পত্রিকাসংশ্লিষ্ট নন এমন চার–পাঁচজনকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে। আসামিদের সম্পর্কে মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, ‘একে অপরের সহায়তায় অনলাইন পত্রিকাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা ও মানহানিকর এবং আইনশৃঙ্খলা অবনতি ঘটানোর সংবাদ ও তথ্য প্রকাশ করার অপরাধ।’

আরও পড়ুন  সেলিমের অবস্থা আশংকাজনক

 

 

মামলার এজাহারে বলা হয়, ‘একাত্তরের কথা’ পত্রিকায় গত ২৮ নভেম্বর ‘ভয়ে চুপ উপশহর’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। এই প্রতিবেদন অনলাইনেও প্রচারিত হয়।

 

 

সম্পাদক-প্রকাশকসহ প্রতিবেদক ছয়জন প্রতিবেদনটি প্রচার করেছেন এবং বাকি ১১ জন সংবাদটি ফেসবুকে প্রচার করেন। এতে এলাকায় অস্থিরতা ও চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। সংবাদ প্রচার ও ফেসবুকে শেয়ার করে ‘ভাইরাল’ করায় সামাজিক মূল্যবোধ ও অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।

 

 

একাত্তরের কথা’র সম্পাদক চৌধুরী মুমতাজ আহমদ সিলেটের একজন সিনিয়র সাংবাদিক। তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারে গণমাধ্যমকর্মীরা যে হয়রানি শিকার হচ্ছেন, তার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মামলাটি। তাঁর বিরুদ্ধে একটি নয়, পরপর কয়েকটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে সাংবাদিকতার সব নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, প্রকাশিত সংবাদে তিনি অসন্তুষ্ট হতেই পারেন। মানহানি বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রতিবাদ জানাতে পারতেন, মানহানির মামলা কিংবা প্রেস কাউন্সিলে নালিশ করতে পারতেন। তা না করে হয়রানি করতেই এই মামলা করেছেন। পুলিশ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলেই আসল সত্য বের হয়ে আসবে বলে মনে করেন তিনি।

আরও পড়ুন  ইঞ্জিনিয়ার জহির আহমদ আর নেই

 

 

প্রসঙ্গত: গত বুধবার দৈনিক একাত্তরের কথা পত্রিকার প্রকাশক নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী রানা মিয়া বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছালেহ আহমদ সেলিমসহ ৫জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা (মামলা নং-৯) দায়ের করেন। আর শুক্রবার রাতে কাউন্সিলর ছালেহ নিজে বাদী হয়ে পাল্টা মামলা করেন।

সর্বশেষ সংবাদ