সিলেট | |
প্রকাশিত: 12:42 PM, February 8, 2020
মাসুদ আহমেদ:
অসুস্থতার কারণে বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন বেগম খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় দফা কারাবাসের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে আজ।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আটক হয়েছেন তিনবার আর কারাবরণ করেছেন দু’বার । সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর প্রথম করাবাসে যান বেগম জিয়া । এসময় মোট ৩৭২ দিন কারাবরণ করেন । ২০০৮ সালের ১৮ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার মা মৃত্যুবরণ করলে মাত্র ৬ ঘন্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পান তিনি । এরপর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের আদেশে মুক্ত হন খালেদা জিয়া।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে তাকে ৫ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হলে দ্বিতীয়বারের মতো কারাগারে যেতে হয়। ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। একই বছরের ৩০ অক্টোবর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালতের ৫ বছরের সাজা দ্বিগুণ বাড়িয়ে ১০ বছর করার আদেশ দেন হাইকোর্ট। সেই থেকে ১৭ বছরের সাজা মাথায় নিয়ে এখনো কারাবন্ধী আছেন বেগম জিয়া ।
সেনাশাসক এরশাদের আমলে রাজনৈতিক কারনে তিনবার আটক হলেও কারাগারে যেতে হয়নি, তবে বেশ কিছুদিন অঘোষিতভাবে “গৃহবন্ধী” করে রাখা হয়েছিল আর ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি তাঁর গুলশানের কার্যালয়ের দুই পাশে বালুর ট্রাক রেখে ৯৩ দিন অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আলোচিত যত মামলা:
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা:
২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত সরকারের আমলে দুই কোটি ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া এ মামলায় নিন্ম আদালত ৫ বছরের সাজা দিলেও উচ্চ আদালতে বেড়ে ১০ বছর হয়েছে ।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা:
২০০৯ সালে প্রভাব খাটিয়ে ৬ কোটি ১৯ লাখ টাকার তহবিল সংগ্রহের অভিযোগে দায়ের হওয়া এ মামলায় ৭ বছরের দন্ডাদেশ প্রদান করা হয় ।
নাইকো মামলা:
২০০৮ সালে সেনা-সমর্থিত সরকারের সময় কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সাথে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের চুক্তি করে রাষ্ট্রের প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকা লোকসান করার এই মামলাটি হয় । মামলায় শেখ হাসিনাকেও আসামী করা হয়েছিল, কারণ এই চুক্তিটি প্রথম করা হয়েছিল ১৯৯৬ সালে যখন তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
পরে ২০০৯ সালে সরকার প্রতিষ্ঠা করার পর শেখ হাসিনা আদালতের মাধ্যমে এই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়ে যান। তবে মামলাটি রয়ে যায় এবং আসামী হিসাবে থেকে যান খালেদা জিয়া।
গ্যাটকো মামলা:
ঢাকার কমলাপুরে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের কাজ যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে গ্যাটকো নামে একটি কোম্পানিকে দেওয়ার অভিযোগে এই মামলাটিও হয় ২০০৭ পরবর্তী সেনা-সমর্থিত সরকারের সময়।
বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি মামলা:
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে দায়ের করা এই মামলার অভিযোগ ছিল -চুক্তিবদ্ধ কোম্পানি শর্ত ভেঙ্গে সরকারের চোখের সামনে অতিরিক্ত এলাকায় কয়লা খনন করে রাষ্ট্রের ক্ষতি করেছে, এবং খালেদা জিয়া রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন।
দুর্নীতির এই পাঁচটি মামলা ছাড়াও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরো ৩১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে নাশকতার ১১টি মামলা, ইতিহাস বিকৃতি, মানহানি এবং রাষ্ট্রদ্রোহের বেশ কিছু মামলা।
প্রভাতবেলা/এমএ

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি