সিলেট | |
প্রকাশিত: 10:19 PM, March 19, 2018
প্রভাতবেলা প্রতিবেদক: আবারও পিছিয়ে গেল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া’র কারা মুক্তির দিনক্ষণ। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করেছেন আদালত। সোমবার ১৯ মার্চ সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালত পাড়ায় উপস্থিত ছিলেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনসহ অন্যান্য আইনজীবীরা। আপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।
আজ সকালে নির্ধারিত সময়ে আদালত বসে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় আদেশ দেওয়া হয়। মামলার প্রধান বিচারপতি সে সময় বলেন, সর্বসম্মতিক্রমে আমরা (আপিল বিভাগের চার বিচারপতি) এই আদেশ দিচ্ছি।’ এই আদেশের পর, আদালত বেগম খালেদা জিয়াকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন আদেশ ২২ মে পর্যন্ত স্থগিত করেন। এবং রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের লিভ টু আপিল গ্রহণ করে আপিল শুনানির জন্য মামলার সারসংক্ষেপ (নথিপত্র) চার সপ্তাহের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। আগামী চার সপ্তাহ পরে আপিলটি শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ থাকবে বলে জানান আদালত। আদেশের পর আদালত তার নিয়মিত কার্যক্রম অনুসারে অন্য মামালার শুনানি শুরু করেন। এর কিছু পরে খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন আদালতকে বলেন, ‘এ ধরনের মামলায় সর্বোচ্চ আদালতে লিভ টু আপিল গ্রহণের নজির খুবই কম দেখেছি। সেক্ষেত্রে অর্ডার যখন দিয়েছেন, সময়টা আরও কমিয়ে আনুন।’ এরপর আপিল আদালত তাদের পূর্বের আদেশ সংশোধন করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন ৮ মে পর্যন্ত স্থগিতের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আপিল শুনানির জন্য চার সপ্তাহের জায়গায় দুই সপ্তাহ সময় দেন এবং দুই সপ্তাহ পরে এ আপিলটি শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ থাকবে বলে জানান।
এর আগে গতকাল রবিবার সকালে খালেদা জিয়ার জামিন আদেশের পক্ষে-বিপক্ষে আপিল শুনানি হয়। পরে আদেশ ঘোষণার জন্য আজ সোমবার তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত। রবিবার খালেদা জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষের পৃথক লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) ওপর শুনানি হয়। শুনানিতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এদিকে খালেদার জিয়ার জামিনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী। এদিন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে খালেদা জিয়ার জামিন সংক্রান্ত চারটি আবেদনের শুনানি হয়। এর আগে গত ১৮ মার্চ, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া চার মাসের জামিন আপিল বিভাগে স্থগিত হওয়ার বিষয়ে শুনানি শেষ হয়। একই সঙ্গে জামিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা লিভ টু আপিল (আপিলের জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন) নিয়েও শুনানি শেষ করেছে আপিল বিভাগ। আজ কাল সোমবার এ বিষয়ে আদেশ দেওয়া কথা ছিল। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি নিম্ন আদালতে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন খালেদা জিয়াকে। সেইদিন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে পুরান ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়। পরবর্তীতে গত ১৩ মার্চ হাইকোর্ট থেকে জামিন পান তিনি। কিন্তু হাইকোর্টের দেওয়া এ জামিন আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার জজের আদালতে আবেদন করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ। চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এই দুটি আবেদনের বিষয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির দিন নির্ধারণ করে দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ মার্চ আপিল বিভাগ শুধুমাত্র দুদকের আইনজীবীর আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে তাকে (দুদক আইনজীবীকে) লিভ টু আপিল করার নির্দেশ দেন। এ সময় দুদকের আরেক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ মার্চ পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত করেন এবং একইদিনে (১৮ মার্চ) দুদকের লিভ টু আপিলের শুনানির দিন ধার্য করেন। এরপর আপিল বিভাগের দেওয়া হাইকোর্টের জামিন স্থগিত আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে ওইদিন (১৪ মার্চ) দুপুরে চেম্বার আদালতে যান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এই (প্রত্যাহার) আবেদনটি ১৮ মার্চ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে দুদকের লিভ টু আপিলের সঙ্গে শুনানির দিন ধার্য করেন। পরদিন (১৫ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় দুদকের পক্ষ থেকে লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়। সেই সঙ্গে ওই লিভ টু আপিলে আরেকটি প্রার্থনা চায় দুদক। খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে দুদকের লিভ টু আপিল শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ যেন স্থগিত থাকে সেজন্য আরেকটি পৃথক প্রার্থনা করে দুদক। গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং আসামিদের দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। রায় ঘোষণার পর পুরান ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে খালেদা জিয়াকে সেখানে রাখা হয়। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি