জুড়ী’তে উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে মুরগী খামারে হামলা ভাংচুর

প্রকাশিত: 12:19 AM, May 3, 2020

জুড়ী’তে  উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে মুরগী খামারে হামলা ভাংচুর
এম রাজু আহমেদ, জুড়ী: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় একটি মুরগী খামারে হামলা , লুটপাটের ঘটনায় গোটা 
উপজেলা জুড়ে তোলপাড় চলছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে পক্ষে বিপক্ষে বিষোদগার। রং কালি মিশিয়ে ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টাও চলছে। ঘটনার সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়,
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মোঈদ ফারুকের নেতৃত্বে  মুরগীর খামারে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা ধাওয়া করে মোঈদ ফারুককে প্রায় দুই ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। ঘটনাটি ১মে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামে ঘটেছে। স্থানীয় ‘বন্ধু পোল্ট্রি ফার্ম’-এর কর্ণদার দীনবন্ধু সেন অভিযোগ করেন, রাত ১০টায়  হামলার খবর পেয়ে তিনি বাড়ী থেকে খামারে ছুটে যান। গিয়ে দেখেন উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুকের নেতৃত্বে ১৫/১৬ জন লোক খামারে ভাংচুর করছেন। তিনি বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে মোঈদ ফারুক গালাগাল করেন ও তার বাড়ীঘর ভেঙ্গে ফেলার হুমকি দেন।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন সেখানে ছুটে গিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন এবং হামলাকারীদের ধাওয়া করেন। জনতার ধাওয়া খেয়ে মোঈদ ফারুক সেখান থেকে পালিয়ে সঙ্গীয় হামলাকারী সাইদুলের বাড়ীতে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখানে চেয়ারম্যানের সঙ্গীরা দীনবন্ধুর ব্যবসায়ীক অংশীদার ও স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. শাহজাহানের উপর হামলা করে। খবর পেয়ে শতশত বিক্ষুব্ধ জনতা আবারও ধাওয়া করে ওই বাড়ীতে গিয়ে চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান মোঈদ ফারুক কর্তৃক মুরগীর খামারে হামলার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে হাজারো মানুষ সেখানে ভীড় করেন।
ছুটে যান জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী মনি ও আওয়ামী লীগ নেতা আনফর আলী। তারা উত্তেজিত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। সেই সাথে ঘন্টা খানেক প্রচেষ্টার পর বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করে বাড়ীতে পাঠিয়ে রাত সাড়ে ১২টায় উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুককে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করেন। এবং আহত মো. শাহজাহানকে চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ বিষয়ে খামার মালিক দীনবন্ধু সেন বলেন, আমার ব্যবসায়ীক অংশীদারদের সাথে পরামর্শক্রমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। মৌলভীবাজার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দীনবন্ধুর ব্যবসায়ীক অংশীদার শাহজাহান মোবাইল ফোনে জানান, তিনি সুস্থ হয়ে এসে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।  অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মোঈদ ফারুক বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ খামারের গন্ধে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। মানুষের বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আমি তারাবীহি নামাজের পর খামারটি দেখতে যাই। তখন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা এ ঘটনা ঘটায়। আমার দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। পরে একজনের বাড়ীতে চা খেতে গেলে কয়েকজন লোক সেখানে জড়ো হয়ে বাড়ীতে ঢিল মারে। আমি তখন থানায় ফোন করলে পুলিশ সেখানে হাজির হয়।

সর্বশেষ সংবাদ