নবজাতককে মেরে ডাস্টবিনে ফেলে দেন মা

প্রকাশিত: 5:33 PM, January 30, 2020

নবজাতককে মেরে ডাস্টবিনে ফেলে দেন মা

প্রভাতবেলা ডেস্ক:: শামীমের সঙ্গে নার্গিসের প্রেমের সম্পর্ক একপর্যায়ে বিবাহে গড়ায়। পরে নার্গিস জানতে পারেন, শামীমের আরো তিন স্ত্রী আছে। ততদিনে নার্গিস অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এ খবর শামীমকে জানালে নাখোশ হন তিনি। সন্তানকে নিয়ে সামনে আসলে দুজনকে খুন করার হুমকি দেন শামীম। পরে নবজাতক সন্তানকে গলা টিপে মেরে ডাস্টবিনে ফেলে দেন মা নার্গিস।

 

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নবজাতককে খুনের অভিযোগে নার্গিসের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার দেখানোসহ পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই শরিফুল ইসলাম। রিমান্ড আবেদনে উল্লিখিত তথ্যগুলো জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস নার্গিসকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।

 

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, গত বছরের ২২ ডিসেম্বর মোহাম্মদপুর থানার রায়েরবাজার এলাকার মোকাব খান রোডের ডাস্টবিনে এক নবজাতক ছেলের লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করে। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়। মৃত নবজাতকের পরিচয় শনাক্ত করতে ২৪ ডিসেম্বর মৃত নবজাতকের মা সন্দেহে নার্গিসকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে নার্গিস জানান, প্রেম করে শামীমকে বিয়ে করেন তিনি। পরে জানতে পারেন, শামীমের আরো তিনজন স্ত্রী আছে। ইতোমধ্যে গর্ভবতী হন নার্গিস। এ তথ‌্য শামীমকে জানালে, মা ও সন্তানকে খুন করার হুমকি দেন তিনি।

আরও পড়ুন  কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার দায়ে ট্রাম্পের নামে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি

 

গত ২০ ডিসেম্বর বিকেলে প্রসববেদনা উঠলে টয়লেটে গিয়ে একা একা বাচ্চা প্রসব করেন নার্গিস। বাচ্চাটির গলা টিপে মেরে লাশ গোপন করার জন্য পাশের ডাস্টবিনে ফেলে দেন।

 

মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং আসামির স্বামী শামীমের সঠিক নাম-ঠিকানা সংগ্রহের জন্য আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোসহ রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

নবজাতককে খুনের ঘটনায় ২৬ জানুয়ারি মোহাম্মদপুর থানার এসআই অপূর্ব কুমার বর্মণ বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন।

 

মামলার এজাহারে বলা হয়, ডাস্টবিন থেকে পাওয়া নবজাতকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য আলামত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়। ফরেনসিক প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ওই নবজাতকের মা নার্গিস।

 

 

প্রভাতবেলা /৩০-জানুয়ারি-২০/ তৌহিদ’জিহান

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ