নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়লেন বিএনপি নেতা

প্রকাশিত: 2:43 PM, October 19, 2023

নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়লেন বিএনপি নেতা
নাটোরের সিংড়ায় নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা খেয়ে উপস্থিত জনতার হাতে লাঞ্ছিত হলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব দাউদার মাহমুদ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পৌর শহরের চাঁদপুর মহল্লার সোহেল রানা নামের এক যুবদল কর্মীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

 

দাউদার মাহমুদ গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিংড়ার আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন। ঘটনার আধঘণ্টা পর খবর পেয়ে তার অনুসারী কিছু যুবদল ও ছাত্রদলের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে নিয়ে গেলেও এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সর্ব মহলে চলছে গুঞ্জন ও হুমকি-ধমকি।

 

আর আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়া ওই নারী স্থানীয় কথিত এক ক্লিনিকের নার্স বলে জানা গেছে।

 

এ বিষয়ে নারী কেলেঙ্কারির অভিযুক্ত বিএনপি নেতা দাউদার মাহমুদ বলেন, তিনি ভোটের আগে ষড়যন্ত্রের শিকার। মূলত তিনি ওই মহল্লায় সন্ধ্যায় হাঁটতে গিয়েছিলেন। তখন কিছু হেরোইন খোর তাকে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে নিয়ে যেতে চায়। আর এ নিয়ে ধস্তাধস্তি ও ধাক্কাধাক্কিতে লোকজন জমে যায়। আর আমাকে জড়িয়ে নারী কেলেঙ্কারির পোস্টও দেওয়া হয়।

 

জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পৌর শহরের চাঁদপুর মহল্লার যুবদল কর্মী সোহেল রানার ভাড়া বাসার (বাহিরে থেকে তালাবন্ধ) একটি ঘরে নারী নার্সের সঙ্গে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব দাউদার মাহমুদকে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলেন স্থানীয় সরকারপাড়া মহল্লার যুবক সুমন হোসেন ও ওই নারীর ভাই।

 

আরও পড়ুন  কুড়িগ্রামে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

এদিকে দাউদার মাহমুদ তার আটকের খবর মোবাইল ফোনে জানালে ছাত্রদল কর্মী নিশানের নেতৃত্বে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এ সময় বিএনপি নেতা দাউদার মাহমুদের সঙ্গে ওই নারীর ভাই ও সুমনের ধস্তাধস্তি-কিলঘুসির ঘটনা ঘটে।

 

সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ‘বিএনপি নেতা দাউদার মাহমুদের নারী কেলেঙ্কারি’ শিরোনামে সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে রাকিবুল আলম পোস্ট দিলে শহরজুড়ে হৈ চৈ পড়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই চাপের মুখে পড়ে পোস্টটি ডিলিট করেন রকিবুল আলম। তবে রাকিবুল আলম বলেন, ঘটনা সত্য হলেও অনেকের অনুরোধে তিনি তার দেওয়া পোস্টটি ডিলিট করেছেন।

 

আর সরকারপাড়া মহল্লার যুবক সুমন হোসেন বলেন, তিনি কোর্ট মাঠে জিম (শরীর চর্চা) করছিলেন। ওই নারীকে যাওয়া দেখেই তার সন্দেহ হয়। কিছুক্ষণ পর একটু এগিয়ে রিকশাচালকের কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন সোহেলের বাড়িতে ওই নারী ঢুকেছে; কিন্তু বাড়িটি বাহিয়ে থেকে তালাবন্ধ। এতে সন্দেহ হলে ওই নারীর ভাইকে ডেকে নিয়ে তালা ভেঙে ঘরের মধ্যে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে এলাকায় হৈ চৈ পড়ে যায়। এ সময় বিএনপি নেতা দাউদার মাহমুদকে ছাড়িয়ে নিতে এলে ধাক্কাধাক্কি ও কিলঘুসির ঘটনা ঘটে। সেখানে বিএনপি নেতা দাউদার মাহমুদ মারধরের শিকার হন। এমন অশালীন ও সত্য ঘটনা ধামাচাপা দিতে প্রথমে ফোনে তাকে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু ঘটনা ছড়িয়ে পড়ায় এখন তাকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন।

 

আরও পড়ুন  বিজিএমইএ ভবন: মুচলেকা চান আদালত

এ বিষয়ে সেবা মেডিকেল কমপ্লেক্সের পরিচালক হারুন অর রশিদ বলেন, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। তবে যে নার্সের সঙ্গে এই কলঙ্কের ঘটনা ঘটেছে। সে অল্প কয়েক দিন ধরে তার ক্লিনিকে মাঝে মাঝে কাজ শেখার জন্য আসেন। তার সঙ্গে ক্লিনিকের তেমন কোনো সম্পর্ক নেই।

 

এ বিষয়ে স্থানীয় ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মেহেদী হাসান মিলন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নারীর সঙ্গে ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় পেয়ে লোকজন ওই বিএনপি নেতাকে মারধরও করেছেন। এমন ঘটনা খুবই দুঃখজনক।

 

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ আসে নাই।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ