সিলেট ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ১:২০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২০
আবার খুন। আবার পুলিশ। তবে খুনী ওসি প্রদীপ নয়, আর খুনের স্বীকার কোন সাবেক সামরিক অফিসার নয়। কোন নিভৃত সড়কে গুলি করে হত্যা নয়। শান্তির নগরী সিলেটে নিরপরাধ যুবককে খুন করা হয়েছে ঠান্ডা মাথায়। আইনের রক্ষক পুলিশের পাশবিক নির্যাতনে মৃত্যু ঘটেছে ৩৪ বছর বয়সী রায়হানের। নগরীর আখালিয়া নেহারীপাড়ায় এক কন্যা, স্ত্রী, মা সহ ভাই বোনের সুখের পরিবার ছিল রায়হানের। একটা ছোট প্রাইভেট চাকরী করতেন রায়হান। তার এক বোন আমেরিকায় থাকেন। বোনের আবেদনের প্রেক্ষিতে আর কিছুদিনের মধ্যে রায়হান আমেরিকায় যাবার কথা ছিল।
গব তছনছ করে দিল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির বরখাস্তকৃত ইনচার্জ আকবর হোসেন ভূইয়াসহ তার সঙ্গীয় ৫/৬ জন পুলিশ। শনিবার রাতে রায়হানকে ধরে আনে এসআই আকবর হোসেন ভূইয়াসহ কোতোয়ালী থানাধীন বন্দর বাজার ফাঁড়ির একদল পুলিশ। বন্দরবাজার ফাঁড়িতে রাতভর রায়হানের ওপর অমানসিক নির্যাতন চালায় এসআই আকবর। রায়হানের হাত-পা থেতলে দেয়া হয়, হাতের নখ প্লাস দিয়ে উপড়ে ফেলা হয়, বুকের পাঁজর ভেঙ্গে ফেলা হয়। পুলিশ কত পাশবিক হলে বিনা অপরাধে ধরে এনে মানুষ খুন করতে পারে তা রায়হানের মরদেহ না দেখলে বুঝা কস্টকর।
পুলিশের অমানবিক নির্যাতনে পৃথিবী থেকে বিদায় করে দেয়া হলো টসবগে যুবক রায়হানকে। বাবা ডাক শিখবার আগেই এতিম হয়ে গেল আড়াই মাসের শিশু রুহনামা আক্তার আলফা। মাত্র ২২ বছর বয়সে বিধবা করা হলো তাহমিনা আক্তার তান্নিকে।
কিন্তু কেন? কি তার অপরাধ? প্রভাতবেলা’র সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, রায়হান শান্তশিস্ট সাদামাটা জীবন যাপন করতেন। কোন ধরনের অপরাধের সাথে তার সংশ্লিষ্টতার কোন তথ্য মেলেনি।
নগরীর কাস্টঘরে গণপিটুনিতে রায়হান মারা যান এমন বক্তব্য প্রচার করে পুলিশ। কিন্তু এখানকার সিসিটিভিতে এমন ঘটনার কোন সত্যতা মেলেনি। তবে কেন পুলিশের এমন মিথ্যাচার? পরবর্তীতে আবার এসআই আকবরসহ চার পুলিশকে বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। বলা হয় ঘটনার সাথে তাদেও সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রশ্ন হলো প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পরও বরখাস্ত প্রত্যাহার এগুলো কেন? খুনীদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি কেন করা হচ্ছেনা। আমরা খুনী আকবরসহ খুনের সাথে সংশ্লিষ্টদের অবিলম্বে গ্রেফতার দাবী করছি।
রায়হানের পরিবার বলছেন , রায়হানকে পুলিশ হত্যা করেছে। নিহতের চাচা হাবিবুল্লাহ বলেন,শনিবার(১১অক্টোবর) ভোর রাত ৪টা ৩৩ মিনিটে ০১৭৮৩৫৬১১১১ মোবাইল নাম্বার থেকে তার মায়ের ০১৭৮৭৫৭০৯৪৯ নাম্বারে কল করেন রায়হান। তিনি বন্দর বাজার ফাঁড়িতে আছেন। তাকে বাঁচাতে টাকা নিয়ে ফাঁড়িতে যেতে বলেন রায়হান। তখন ‘চাচা আমারে বাঁচাও , টাকা নিয়া আও, আমারে মারি ফালাইদিবো’ এমন আর্তনাদ করেন রায়হান। আমরা মনে করি রায়হান যে নাম্বার থেকে কল করেছেন তা জব্দ করে তদন্ত করলেই রহস্য পরিস্কার হয়ে যাবে।
এ ঘটনায় নিহত রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি কোতোয়ালী মডেল থানায় ৩০২/৩৪ তৎসহ নির্যাতন এবং পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু(নিবারন) আইন ২০১৩ এর ১৫(১)(২)(৩) ধারায় মামলা দায়ের করছেন। কিন্তু অদৃশ্য চাপে হত্যাকারীদের নাম উল্লেখ করতে পারেননি এজাহারে। হত্যাকারী পুলিশ,তদন্তকারী পুলিশ! কি বিচিত্র বাংলাদেশ? কাক কি কাকের মাংস খায়?
আমরা এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাই। চাই প্রকৃত খুনীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি। সিলেটের মানুষ রাজপথে নেমেছে, তাদেরকে সন্তুষ্টচিত্তে ঘরে ফিরে যেতে দিন। অন্যথায় অনাকাংখিত পরিস্থিতি ঘটে গেলে পুলিশ প্রশাসনকেই এর দায় নিতে হবে। আমরা জানি, এসএমপি’র কিছু কর্তা রয়েছেন। যারা হাম্বি তাম্বি করেন। নিজেদেরকে সরকারের নিয়ন্ত্রক ভাবেন। এমন ভাবনার পরিণতি ভাল হয়না। পেশাদারী মনোভাব নিয়ে প্রশাসন পরিচালনা করুন।মানুষের ক্ষোভ বুঝবার চেষ্টা করুন। লোক দেখানো বরখাস্ত প্রত্যাহার নয়। হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনুন।
কবীর আহমদ সোহেল, সম্পাদক, প্রভাতবেলা : ১৪.১০.২০

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি