বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

প্রকাশিত: 8:11 PM, July 11, 2017

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক: সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। গতকাল সোমবারের তুলনায় আজ কুশিয়ারা ও সুরমা নদীতে সব মিলিয়ে প্রায় ১২ সে.মি পানি কমেছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত সিলেটের কুশিয়ারার আমলশীদ পয়েন্টে ৬৩ সে.মি ও শেওলা পয়েন্টের পানি ৬২ সে.মি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে ৫১ সে.মি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত সিলেটের কুশিয়ারার দুইটি ও সুরমা নদীর একটি পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর শেওলা পয়েন্টে ৭০ সে.মি ও আমলশীদে ৮০ সে.মি এবং সুরমার কানাইঘাট পয়েন্টে ৫৫ সে.মি উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়।

বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে জানিয়ে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, গতকালকের তুলনায় সব পয়েন্টে পানি ১২ সে.মি কমেছে। পানি একদিকে বাড়ছে ও অন্যদিকে কমছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি স্থিতিশীল। এদিকে গতকালকে তুলনায় পানি কমেছে এমনকি জকিগঞ্জের যে পয়েন্টে পানি ঢুকে ওই পয়েন্টেও পানি কমেছে। তাই বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল।

আরও পড়ুন  রেড জোনে সেনা টহল জোরদার

এদিকে সিলেট আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, আগামীকাল পর্যন্ত হালকা ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। আজকে সকাল পযন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমান রেকর্ড করা হয়েছে ২.২ মিলিমিটার ও বাতাসের আর্দ্রতা ৯২ ভাগ।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, সিলেটে আরও কিছু দিন হালকা, মাঝারি ও ভারি বর্ষনের আশংঙ্কা রয়েছে। এছাড়া কোথাও কোথাও বর্জ্যসহ ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা রয়েছে

এদিকে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে সিলেট জেলা প্রশাসন ও সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগ। সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় ত্রান বিতরণ করছি। এপর্যন্ত ২৭৭ মেট্রিক টন চাল ও ৫ লাখ ৫৭ হাজার টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া আমাদের কাছে আরো পর্যাপ্ত পরিমান ত্রান রয়েছে। আমাদের কাছে ৬৫০ মেট্রিক টন চাল ও ৯ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে। এছাড়া আরো ত্রান লাগলে আনা হবে।

আরও পড়ুন  সরে দাঁড়াচ্ছেন আরিফ!

সিলেট সিভিল সার্জন ডা. হিমাংশু লাল রায় জানান, মূলত বন্যার পানি কমে যাওয়ার সময় স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশী থাকে। এসময় বন্যার্তদের সচেতন থাকতে হবে। এজন্য উপজেলা পর্যায়ে সকল ধরণের নির্দেশনা দেয়া আছে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমান ঔষধ মজুদ আছে। আরো লাগলে আমরা ঢাকা থেকে সরবরাহ করা নির্দেশনা রয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ