বিয়ানীবাজারে শিশু হত্যা ঘটনায় বউ শাশুড়ীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

প্রকাশিত: 12:23 PM, January 24, 2017

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক: সিলেটের বিয়ানীবাজারে শিশু হত্যার ঘটনায় বউ শাশুড়ীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। শাশুড়ী তয়রুন বেগম অভিযোগ করেছেন পুত্রবধূর পরকীয়ার বলি শিশু তাহিয়া। আর পুত্রবধূর প্রেমিক এনামের রোষানলে তার ছেলে উজ্জল কারাগারে।
অপরদিকে পুত্রবধূ রহিমা বেগমের অভিযোগ তার কন্যা হত্যাকারী স্বামী উজ্জল। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন। এনামের সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। এসব শাশুড়ীর ষড়যন্ত্র।

সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘আওয়ামী লীগ নেতার সাথে পরকীয়া প্রেম ও সন্তান হত্যা করে স্বামীকে ফাসিয়ে দেয়া’র অভিযোগ উঠেছে। এ মর্মে পৃথক লিখিত অভিযোগ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে দায়ের করেছেন অভিযুক্ত গৃবধূর শাশুড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলার ঘোঙ্গাদিয়া দরগাটিলার তয়রুন বেগম। ১৫জানুযারি (রোববার) এ অভিযোগগুলো দায়ের করেন তিনি।
অভিযোগে উল্লেখ, ২০১১ সালে বিয়ানীবাজার পৌর শহরের নয়াগ্রামের সিরাজ উদ্দিনের মেয়ে রহিমা বেগমের বিয়ে হয় উপজেলার ঘোঙ্গাদিয়া দরগাটিলার উজ্জল হোসেনের সাথে। বিয়ের পর রহিমা তার নিজ গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এনামের সাথে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তুলেন। এনাম নিজেকে বিয়ানীবাজার পৌর আওয়ামী লীগের ৫নং ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে দাবি করছেন। পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে স্বামী উজ্জল ও স্ত্রী রহিমার মধ্যে প্রায়ই বিরোধ লেগে থাকতো।
এ বিরোধের জের ধরে রহিমা গত ১৮ নভেম্বর রাতে তার মাত্র ৬মাসের কন্যা নাজিফা জান্নাত তাহিয়াকে হত্যা করে পুকুরে ফেলে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ পরদিন সকালে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে প্রেরণ করে।

আরও পড়ুন  ওসমানী মেডিকেল কলেজে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ

রহিমার শাশুড়ী তয়রুন বেগমের অভিযোগ, এ ঘটনায় শিশুর পিতা ও স্বজনরা শিশুর মা রহিমাকে আসামী করে মামলা দিতে চাইলে রহিমার পরকীয়া প্রেমিক আওয়ামী লীগ নেতা এনাম বাঁধা হয়ে দাঁড়ান। পরে এনাম রাজনৈতিক প্রভাবে রহিমার বদলে তার স্বামী উজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যামামলা {নং-৯০(১১)১৬}করান এবং শিশুর পিতা উজ্জলকে গ্রেফতার করিয়ে জেলে পাঠান। তয়রুন বেগম তার নিরপরাধ পুত্র উজ্জলকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি এবং ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেন। তিনি শিশু খুনের দায়ে শিশুর মা রহিমা ও তার পরকীয়া প্রেমিক আওয়ামী লীগ নেতা এনামকে দায়ী করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে ববংস্থা গ্রহণে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সিলেটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা তয়রুন বেগমের আবেদন প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছে। পৃথক এ আবেদনের অনুলিপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি ও সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারসহ সরকার ও প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্বশীল মহলে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে এনামের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন । তবে শিশু হত্যার পর মামলা দায়ের ও আসামি গ্রেফতারে শিশুর মা রহিমাকে সহযোগিতা করার কথা স্বীকার করেন তিনি।
এব্যাপারে ০১৭৯১-৯০৩১০৫ নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে রহিমা বেগম প্রভাতবেলা’কে জানান, তার শাশুড়ীর আরোপিত অভিযোগ মিথ্যা। রহিমা বলেন, এনাম তার বোনপো। তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক হয় কিভাবে? তিনি শিশু তাহিয়া হত্যা প্রসংগে বলেন, তার স্বামী নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি খুন করেছেন। কিন্তু কেন খুন করেছেন, এমন প্রশ্ন করলে নিরুত্তর থাকেন রহিমা বেগম। প্রায় ২ মাস পর শাশুড়ীর অভিযোগ ষড়যন্ত্রমূলক বলে উল্লেখ করে তিনি প্রভাতবেলা’কে বলেন, তার স্বামীর সাথে কখনোই তার বিবাদ বিরোধ ছিলনা। অথচ তার শাশুড়ী এমন অভিযোগ করেন। রহিমার নাম্বার থেকে কথা বলেন সাহেদ নামে তার ভাই পরিচয়ে । তিনিও রহিমার শাশুড়ীর অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবী করেন। এনামের সাথে রহিমার অনৈতিক সম্পর্কেও বিষয়ে তিনি বলেন, এনাম আমার চাচাতো বোনের ছেলে। এধরনের অভিযোগ সত্য নয়। তবে শিশু তাহিয়া হত্যার পর মামলা করার সময় তিনি সহযোগিতা করেছেন। এছাড়া পারিবারিক কোন প্রয়োজনে তিনি সহযোগিতা করে থাকেন।

সর্বশেষ সংবাদ