মায়ের খুনিকে শনাক্ত করল ৪ বছরের শিশু

প্রকাশিত: ৭:২১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০২৩

মায়ের খুনিকে শনাক্ত করল ৪ বছরের শিশু
সিসিটিভির ফুটেজ দেখে মা তাছলিমা বেগমের খুনিকে শনাক্ত করেছে চার বছরের শিশু কাজিম আলী। পুলিশকে সে জানায়, তার নানা বাড়ি থেকে আসা মামা তার মাকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করেছে। এর আগে মা ও মামা সোফায় বসে গল্প করে। মায়ের দেওয়া চানাচুর বিস্কুট খেয়েছে।

 

পুলিশ কাজিম আলীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে শাকিল (২৪) নামে সেই যুবককে বগুড়া সদরের রাজাপুর গ্রাম থেকে আটক করে। শাকিল পেশায় অটোরিকশা চালক। এ ছাড়াও সে তাছলিমা বেগমের (২৩) বন্ধু এবং প্রতিবেশী চাচাত ভাই।

 

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকিলকে আটকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘শনিবার ঘটনার বিস্তারিত জানানো হবে।’

 

ঘটনাস্থলের পাশের ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুলিশ নিশ্চিত হন সকাল ১০ টা ১১ মিনিটে শাকিল ওই বাসায় প্রবেশ করে। তার অটোরিকশাটি বাসার সামনেই রাখা ছিল। শাকিল হত্যার উদ্দেশ্যেই হাতুড়ি নিয়ে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে। শাকিল ওই বাড়িতে দেড় ঘণ্টা অবস্থান করে।

 

আরও পড়ুন  সিলেট-৩ঃ ত্রিমুখী লড়াইয়ে কে পরবেন জয়ের মালা

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯ টার দিকে তাছলিমার স্বামী সিরাজুল ইসলাম শহরে দোকান বন্ধ করে নিশিন্দারা মধ্যপাড়ায় বাসায় ফিরে স্ত্রীর লাশ বারান্দায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। এ সময় তার একমাত্র সন্তান কাজিম আলীকে পাশের ঘরে বেঁধে রাখা অবস্থায় পাওয়া যায়। কাজিম আলীর মাথায় আঘাতের চিহ্ন থাকলেও বেশি গুরুতর না।

 

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, চার বছর বয়সী কাজিম আলী পুলিশকে জানায় তার নানা বাড়ি থেকে এক মামা বাসায় এসেছিল। তাকে মা (তাছলিমা) চানাচুর বিস্কুট খেতে দেয়। সেই মামাই তার মাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেছে। কাজিম আলী সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শাকিলকে শনাক্ত করে। পরে পুলিশ সেই তথ্য ধরে শাকিলকে তার বাড়ি থেকে রাতেই আটক করে।

 

রাজাপুর গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাছলিমা এবং শাকিল একই স্কুলে লেখাপড়া করেছে। শাকিল তার বন্ধু এবং প্রতিবেশী চাচাত ভাই। সম্প্রতি শাকিল বিদেশে যাওয়ার জন্য তাছলিমার কাছ থেকে টাকা ধার নেয়। কিন্তু বিদেশ যেতে পারেনি। সেই টাকা তাছলিমাকে ফেরত দিচ্ছিল না।

আরও পড়ুন  সিলেট প্রেসক্লাব নির্বাচন: ৬ প্রার্থীতা প্রত্যাহার

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তাদের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল কি না সেই বিষয়টি নিয়েও অনুসন্ধান চলছে।

 

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইহান ওলিউল্লাহ বলেন, ‘তাছলিমা হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত যুবককে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। শনিবার বিস্তারিত জানানো হবে।’ তিনি বলেন, ‘ আজ শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়নি।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ