মেহেদির রং না শুকাতেই প্রেমের সংসার তছনছ

প্রকাশিত: 8:36 PM, August 8, 2016

ছাতক প্রতিনিধি : ছাতকে হাতের মেহেদির রং না শুকাতেই ৩মাসের মধ্যে স্বামীর যৌতুকের দাবি মেটাতে না পেরে একটি সোনার সংসার তছনছ করা হয়েছে। বিয়ের পর থেকেই  স্বামী জুনেদ আহমদ যৌতুকের জন্যে স্ত্রী সাজনার উপর অমানষিক নির্যাতন চালাতো। একপর্যায়ে তাকে পিত্রালয়ে পাঠিয়ে যৌতুকের মাধ্যমে আরেকটি বিয়ে করার হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এব্যাপারে একটি মামলা দায়েরের পর সে এখন বিদেশে যাবার জন্যে গা-ঢাকা দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামে। জানা যায়, গত ২৫মে’ ২০১৫ইং স্থানীয় দিঘলী রাহমানিয়া মহিলা দাখিল মাদরাসার ছাত্রী চাকলপাড়া গ্রামের আলী আহমদের মেয়ে সাজনা বেগমকে মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসী কায়দায় অপহরণ করে ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের নূরুল হকের পুত্র জুনেদ আহমদ। ঘটনার পর ২৬মে’ ইউপি মেম্বার ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিগণ বিষয়টি আপোষে নিষ্পত্তি করেন। এতে সাজনা বেগমকে ১লাখ ৭৫হাজার টাকা দেন মোহর সাব্যস্থ করে কাবিন নামার মাধ্যমে জুনেদ আহমদের সাথে বিয়ে দেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকে  জুনেদ যৌতুকের জন্যে সাজনার উপর অমানষিক নির্যাতন-নিপীড়ন শুরু করে। এক পর্যায়ে হাতের মেহেদির রং না শুকাতেই ৩মাসের মধ্যে তাদের সোনার সংসারে নেমে আসে ঘোর অমানিশা। সাজনাকে শারিরীক নির্যাতনের পর পাঠিয়ে দেয় তার পিত্রালয়ে এবং হুমকি দেয় যৌতুকের মাধ্যমে সে আরেকটি বিয়ে করবে। এরপর থেকে আর কোন খোঁজ-খবর না নেয়ায় অবশেষে সাজনা আইনের আশ্রয় নেয়। এতে গত ২২নভেম্বর ২০১৫ইং সুনামগঞ্জ আদালতে জুনেদ আহমদের বিরুদ্ধে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করে। এরপর থেকে জুনেদ সন্ত্রাসী কায়দায় সাজনা ও তার পরিবারকে অব্যাহত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। মামলায় ওয়ারেন্ট হবার পর সে বিদেশে যাবার জন্যে গা-ঢাকা দিয়েছে। জানা গেছে, সাজনা বেগমের পিতা সৌদি আরবে প্রবাসী আলী আহমদের কোন ছেলে সন্তান নেই। ৪মেয়ের মধ্যে সাজনা হচ্ছে ৩য়। এ ব্যাপারে সাজনা বেগম জানায়, বিয়ের পর সে অনেক নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করে সংসার ঠিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু যৌতুক লোভী স্বামীর জন্যে তা সম্ভব হয়নি। এরমধ্যে কয়েক দফা যৌতুকের দাবি মিটিয়েছে। এজন্যে পাষন্ড জুনেদ যাতে বিদেশে যেতে না পারে সে জন্যে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

সর্বশেষ সংবাদ