সিলেট ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ৫:১৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৬, ২০২০
বিশ্বভূবন ডেস্ক:
ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও বিস্তৃত স্বাস্থ্যসেবাকে কাজে লাগিয়ে ভারতের এ রাজ্যটি পৃথিবীর অনেক অঞ্চলের কাছেই ‘মডেল’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
এ সব কিছু সম্ভব হয়েছে কেরালার রাজ্য সরকারের আগাম প্রস্তুতির কারণে। যে প্রস্তুতির কারণে বিদেশফেরত আক্রান্তদের শুরুতেই চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা গেছে। কমানো সম্ভব হয়েছে ‘কমিউনিটি পর্যায়ে’ সংক্রমণের ব্যাপকতা।
আগাম প্রস্তুতি
রাজ্যটির কাসারগড় জেলার চেঙ্গালা গ্রামের এক বাসিন্দা গত ১২ মার্চ দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটে কেরালায় নামেন। ৩৩ বছর বয়সী এ বিক্রয়কর্মী সেসময় ঠাণ্ডা ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন, ছিল শুকনো কফও।
চেঙ্গালা মূলত চারটি আলাদা আলাদা এলাকার সমন্বয়ে গঠিত; এখানে ৬৬ হাজার মানুষের বাস, যাদের বেশিরভাগই ধান ও সবজি চাষী। বিমানবন্দরে নামা ওই বিক্রয়কর্মীটির মতো কেরালার ২০ লাখেরও বেশি মানুষ মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য দেশে কর্মরত।
৬ দিন পর তার করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। হাসপাতালে কয়েকদিনের চিকিৎসায় তিনি ভালো হয়ে ওঠেন। বাড়ি ফেরার পরও ‘নিরাপত্তার খাতিরে’ তিনি আইসোলেশনেই থাকছেন।
“আমরা একদম শুরু থেকেই প্রস্তুত ছিলাম। বুঝেছিলাম যে ঝড় আসছে। যে কারণে প্রতিরক্ষা ব্যুহ নির্মাণ শুরু করি,” বলেছেন ২৩ সদস্যবিশিষ্ট গ্রাম কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট শাহিনা সেলিম। ভারতের শাসনব্যবস্থায় এ গ্রাম কাউন্সিলই হচ্ছে সবচেয়ে নিচের ধাপ।
ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
কাউন্সিল ওই এলাকার দরিদ্র বাসিন্দা ও আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকসহ এক হাজার ২০০র বেশি মানুষকে প্রতিদিন বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দিচ্ছে। অসুস্থ গ্রামবাসীরা নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন কি না স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা সেই খোঁজও রাখছেন।
তাদের ওই আহ্বানে সাড়া দিয়ে দুই ডজনের বেশি পরিবার এরইমধ্যে বাড়ির অংশবিশেষ কিংবা কেউ কেউ পুরো বাড়িই ছেড়ে দিয়েছেন। আইসোলেশনে থাকা প্রত্যেককে ২৮দিনের কোয়ারেন্টিনেও থাকতে হচ্ছে। এভাবেই ভারতে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের সারিতে জায়গা করে নিয়েছে কেরালা। নিয়ন্ত্রণে এনেছে সংক্রমণ; আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থতার হারও বেশ ভালো।
কেরালার সীমান্তগুলোও নিশ্ছিদ্র নয়; প্রবাসীদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিকও রাজ্যটিতে আসা-যাওয়া করে। রাজ্যটির অর্থনীতি এদের ওপর অনেকখানি নির্ভরশীল। ভারতের অন্যান্য রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা যখন লাগাম ছাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে, কেরালাকে তখন মনে হচ্ছে ‘স্বর্গরাজ্য’। এটা সম্ভব হয়েছে রাজ্যটির প্রস্তুতি ও সতর্কতার কারণে। দেশব্যাপী লকডাউন দেয়ার একদিন আগেই ২৫ মার্চ পিনারাই বিজয়নের সরকার রাজ্যেজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করেছিল।
এমন নয় যে কেরালা আক্রান্ত শনাক্তে বিপুল পরিমাণ পরীক্ষা করেছে। দেশটিতে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে পরীক্ষা করানোর বাধ্যবাধকতা আছে, যে কারণে রাজ্যটির ডজনেরও বেশি ল্যাব প্রতিদিন ৮০০টির মতো পরীক্ষা করতে পারছে।
রাজ্যটির কমিউনিস্ট সরকারও প্রতিদিন পরিস্থিতি সম্বন্ধে নানান তথ্য দিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও জনসাধারণকে সচেতন করেছে।
অর্থনীতিবিদ ড. জ্যাকব জনের মতে, কেরালার ক্ষমতাকাঠামোর বিকেন্দ্রীকরণ, যেমন স্থানীয় সরকার, এলাকাভিত্তিক গ্রাম কাউন্সিল ও মিউনিসিপালগুলোর সতর্কতা রাজ্যটিকে গত তিন বছরে দুটি বড়সড় বন্যা ও নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায়ও সহায়তা করেছিল।
কেরালার তিন স্তরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও সরকারি হাসপাতালগুলোর দক্ষতা তৈরি হয়েছে প্রায় পাঁচ দশক ধরে রাজ্যটির সরকারগুলোর স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপক বিনিয়োগের কারণে। “কেরালা স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় ভারতের বেশিরভাগ রাজ্যের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয় করেছে,” বলেছেন ড. জন।
ফের সংক্রমণের আশঙ্কা
এখনো প্রায় প্রতিদিনই নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হচ্ছে।
“কেরালা খানিকটা ভাগ্যবানও। আমাদের এখানে আক্রান্তদের গড় বয়স ৩৭; তার মধ্যে বেশিরভাগই আবার মধ্যপ্রাচ্যফেরত,” বলেছেন ড. ইকবাল। রাজ্যটিতে ষাটোর্ধ্ব মানুষের সংখ্যা মাত্র ১২ শতাংশ। এসব দিক দিয়ে সুবিধা পেলেও কেরালার জন্য অন্য দুশ্চিন্তাও আছে। কেরালায় সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের হার ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলোর তুলনায় বেশি। ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, শ্বাসকষ্ট ও যকৃতের নানান রোগে ভোগা রোগীর সংখ্যাও কম নয়।
সন্দেহভাজনদের আইসোলেশনে রাখা এবং সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপের মতো সতর্কতামূলক ব্যবস্থার আর্থিক ক্ষতিও গুণতে হচ্ছে কেরালাকে। রাজ্যটির কমিউনিস্ট সরকারকে সে জন্য অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ও সংক্রমণ থামলে কিভাবে রাজ্যকে সচল করতে হবে তা নিয়েও ভাবতে হচ্ছে।
“আমরা কোয়ার্টার ফাইনাল জিতেছি। সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাক্কা ছাড়াই যদি বিধিনিষেধ শিথিল করা যায়, সেটি হবে সেমি ফাইনাল। আর ফাইনালে আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবো। কেবল তখনই আমরা নিজেদের বিজয়ী বলতে পারবো,” বলেছেন চিকিৎসক শ্রীজিত এন কুমার।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি