শিক্ষার্থী-গবেষকের মিলনমেলা

প্রকাশিত: 11:10 AM, January 15, 2024

শিক্ষার্থী-গবেষকের মিলনমেলা
প্রভাতবেলা ডেস্ক: চোখেমুখে উচ্ছ্বাস! ভোর থেকেই চলছিল ক্যাম্পাসে আসার হিড়িক। কেউ ব্যস্ত অনুষ্ঠান আয়োজনে, কারও তাড়াহুড়ো প্রবন্ধ উপস্থাপনের প্রস্তুতিতে। এর পর দিনভর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা তাল মিলিয়ে চলার নানা অনুষঙ্গ নিয়ে আলোচনা-গল্প-আড্ডা। সন্ধ্যায় শুরু জমকালো আয়োজনের পুরস্কার বিতরণী। সম্প্রতি গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘সাটেইনেবল টেকনোলজিস ফর ইন্ডাস্ট্রি-এসটিআই ৫.০’ শীর্ষক পঞ্চম আন্তর্জাতিক সম্মেলনের চিত্র ছিল এটাই। অনুষ্ঠানে শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণায় জোর দেওয়ার পাশাপাশি গুরুত্ব দেওয়া মানসম্মত প্রকাশনা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমেও।

গ্রিন ইউনিভার্সিটি আয়োজিত এসটিআই সম্মেলনের ধারণা একটু ভিন্ন ধাঁচের। এর মূল উদ্দেশ্যই ছিল– আগামীর বিশ্বে পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের প্রভাব কী এবং মানুষের জীবনযাত্রা ও কাজের পদ্ধতিতে কী ধরনের মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে– তা নিয়ে আলোচনা করে আধুনিক ও স্মার্ট সমাধান বের করা; যেখানে টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদ আয়োজিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, ভারত, ইরান, মালয়েশিয়া, ডেনামার্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকরা অংশ নেন।

আরও পড়ুন  মাধ্যমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ

এর আগে সম্মেলনে উপস্থাপনের জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২৯৩টি গবেষণা প্রবন্ধ জমা পড়ে, যা থেকে বাছাই করে ১১৯টি প্রবন্ধ নির্বাচিত করা হয়। প্রবন্ধ নির্বাচনের হার ৪০ শতাংশ। সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে নির্বাচিত প্রবন্ধের সংখ্যা ছিল মোট ২২টি। এসব প্রবন্ধের মধ্যে বাংলা সংগীতের শ্রেণিবিভাগ, ফেক নিউজ শনাক্তকরণ ও সাইবার বুলিংয়ের সমাধান নিয়ে লিখিত প্রবন্ধগুলো প্রশংসিত হয়েছে। এর বাইরেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য শক্তি বা রিনিউঅ্যাবল এনার্জি সিস্টেম, শিক্ষার্থীদের জন্য ইলেকট্রিক বাস, যানবাহনের নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে স্মার্ট পদ্ধতি ব্যবহার, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সি ও মেশিন লার্নিং, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষি খাতে সাফল্য অর্জন ও পানিদূষণ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি প্রবন্ধ সাড়া ফেলেছে।

সম্মেলনে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকরা জানান, নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও জনসমক্ষে সেই জ্ঞানের বিতরণ– এসটিআই সম্মেলনে এ দুটি কাজই একসঙ্গে হয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত গবেষণা হলেও মানুষ তা জানে না। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সবাই এগিয়ে এলে এই গবেষণাগুলোর সদ্ব্যবহার সম্ভব।

আরও পড়ুন  অভিনেত্রী শায়লা সাথীকে শ্লীলতাহানি : অভিযুক্ত জবি ছাত্র কারাগারে

সম্মেলনের অর্গানাইজিং চেয়ার অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল আজাদ বলেন, পঞ্চম শিল্পবিপ্লব আগামীতে মানুষের জীবনযাত্রা ও কাজের ধরনে আমূল পরিবর্তন করে দেবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশে অনেক হিউম্যান ব্রেইন থাকলেও হিউম্যান রিসোর্সের অভাব। এই বৃহৎ জনশক্তিকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে ভাবতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. খাজা ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ বলেন, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাসটেইনেবল টেকনোলজির ভূমিকা জরুরি। মোট তিনটি ট্র্যাক ইন্টেলিজেন্ট কম্পিউটিং, নেটওয়ার্ক অ্যান্ড সিকিউরিটি সিস্টেমস; এনার্জি, রোবটিক্স, ইলেকট্রনিকস, সেন্সরস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সর্বশেষ সংবাদ