শেষ হওয়া প্রজেক্টগুলোর লিস্ট চাইলেন অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত: 1:13 PM, July 9, 2017

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সিলেটের বেশীর ভাগ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে গেছে কিন্তু এখনও তা উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রজেক্ট যেগুলো সম্পন্ন হয়েছে সেগুলোর লিস্ট আমাকে দিবেন। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অনেক কাজ। সেখানের কয়েকটির কাজ মাত্র শুরু হয়েছে। নার্সিং হোস্টেলসহ আরও অনেক কাজ রয়েছে। তাদের সাথে দুই সপ্তাহের মধ্যে আলোচনা করব।
বিদ্যুৎ বিভাগ নিয়ে জনসাধারণের অভিযোগ অনুযোগের শেষ নেই। বিদ্যুৎ বিভাগকে দোষারুপ করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল বলেন, ইরেগুলার সাপ্লাই অব ইলেকট্রিসিটিই মূল সমস্যা। তিনি আরও বলেন, যারা বাইরের দেশে যায় নাই তারা ধারনাই করতে পারবেনা বিদ্যুতের ব্যাপারে। ইউরোপবাসীরা জানেই না যে লোডশেডিং কি।
শনিবার বিকেলে সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সিলেটের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে এক পর্যালোচনা সভায় বিদ্যুৎ বিভাগের গাফিলতির কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুতের যে কি সমস্যা তা আপনারাও বুঝেননা এমনকি সমাধান আপনাদের হাতে আছে তাও ব্যবহার করেন না।
উক্ত পর্যালোচনা সভায় সিলেটের বিভিন্ন উন্নয়নপ্রকল্প নিয়ে আলোচনা করা হয়। এসময় গনপূর্ত বিভাগের অগ্রগতি, বিদ্যুৎ বিভাগের অগ্রগতি, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাজের অগ্রগতি ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
গনপূর্ত বিভাগের আওতায় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার এর নির্মান কাজ, থানাভবন নির্মান কাজ, পুলিশের জন্য অস্ত্রাগার নির্মান, পুলিশের জন্য ৫২টি বেরাক ভবন নির্মানকাজসহ আরও বেশ কয়েকটি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়।
জাতীয়সংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী রাষ্ট্রদুত ড. এ কে এম আবদুল মোমেনও সম্পন্ন হয়ে যাওয়া প্রকল্পগুলোর তালিকা দেওয়ায় একমত পোষন করে বলেন।
লিংক রোডের ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, লিংক রোডের কিছুই হয়নাই। এটা হয়ত আমাদের ব্যর্থতা।
গনপূর্ত বিভাগের পরে সওজ বিভাগের পক্ষ থেকে সওজ নির্বাহী প্রকৌশলী উৎপল শ্যামন্ত তাদের প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন। এসময় তিনি সিলেট-সুনামগঞ্জ উন্নয়ন প্রকল্প, গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়নসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেন ও কিছু নতুন প্রকল্পের প্রস্তাবনা রাখেন।
সওজ বিভাগের পরে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রকল্প পরিচালক এম এম সিদ্দিক তাদের বিদ্যুৎ বিভাগের অগ্রগতির কথা জানান। বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শেষে পিডিবিকে তাদের সাথে সমন্নয় করে কাজ করার পরামর্শ দেন সিদ্দিক।
সভায় বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আশফাক আহমদসহ উপস্থিত অন্যন্যরা।
এসময় বিদ্যুৎ বিভাগকে তাদের গাফিলতির জন্য দোষারুপ করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আরও বলেন, বিদ্যুৎ এমন একটা জিনিস যেটার জন্য প্রত্যেককেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এমনকি বিদ্যুৎ ছাড়া কোন সম্পদও তৈরী করা যায় না। পৃথিবীর সব কিছুই বিদ্যুতের উপর নির্ভর করে।
সবশেষে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব মহানগরের ভিতরের কাজের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। সিলেট মিরের ময়দান থেকে রিকাবীবাজার পর্যন্ত ৪ লেনে উন্নীতকরনের কাজ ৬৫ ভাগ শেষ হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশ বেতারের কাছ থেকেও জমি অধিগ্রহন করা হয়েছে। এটি ব্ল-বার্ড এর কালভার্ট পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়েছে। এছাড়াও ট্রাক টার্মিনাল, সিলেটের ১১টি ছড়া খাল খনন ও পুনখনন প্রকল্পসহ আরও বেশ কিছু প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। বন্দরবাজার ফুটওভার ব্রিজ হুমায়ুন রশিদ চত্ত্বরে সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে অর্থমন্ত্রীর কাছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তাব জানান এনামুল হাবীব। এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা দ্রুত সরিয়ে নেয়া দরকার।
এদিকে, সিলেট শাহী ঈদগাহে অবস্থিত সংক্রামক ব্যাধী হাসপাতাল অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে এর জায়গাটি শাহী ঈদগাহ খেলার মাঠে যেখানে মিনি স্টেডিয়াম হচ্ছে সেটার ভিতরে অন্তর্ভূক্ত করার পরামর্শ দেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্জ আশফাক আহমদ।
বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আমাদের জন্য একটি সুখবর রাস্তাঘাটের যোগাযোগ সমস্যা খুব দ্রুত সমাধান হবে। এদিকে টিলাগড় ইকোপার্কের কথা আমরা ভুলেই গেছি। পুলিশ বাদ দিয়ে ১ লাখ ৪২ হাজার নিয়োগ দিয়েছি আমি। কিন্তু ২৭ জন স্টাফের জন্য এটা ডুবে আছে। খুবই হাস্যকর বিষয়।
সিলেটে নির্মানাধীন জেলের ব্যাপারে তিনি বলেন, এটা শীঘ্রই শুরু হয়ে যাবে। রাস্তার ব্যাপারে সওজ বিভাগকে দোষারুপ করে লাভ নেই। এটা আমাদেরই দোষ। আমি ৬২ বছর ধরে পাবলিক সার্ভিস করছি। কিন্তু কোন প্রকল্পে আমি এত বার যায়নি।
সিলেট জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ারের সভাপতিত্বে পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী রাষ্ট্রদূত ড. এ কে এম আবদুল মোমেন, সদর উপজেলা চেয়ারমান আলহাজ্ব আশফাক আহমদ, সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরীসহ সরকারী বিভিন্ন কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

সর্বশেষ সংবাদ