সিলেট বিএনপির পুর্নাঙ্গ কমিটি নিয়ে গুঞ্জন: ত্যাগী’রা বাদ পড়ার আশংকা

প্রকাশিত: 1:42 AM, January 31, 2017

বিশেষ প্রতিবেদক: কয়েকদিন থেকে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। নিজের বলয়ের লোকদের কে কমিটি তে আনতে সকল গ্রুপের সিনিয়র নেতাদের চলছে জোর তৎপরতা। এভাবে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারনে বারবার বিলম্বিত হচ্ছে পুর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা। তবে পুর্নাঙ্গ কমিটিতে ত্যগী ও কারানির্যাতিতরা স্থান পাচ্ছেন না বললে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারী সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্টিত হয়। কাউন্সিলে জেলার সভাপতি পদে আবুল কাহের শামীম সাবেক সংসদ সদস্য দিলদার হোসেন সেলিমকে পরাজিত করে সভাপতি হন। সাধারণ সম্পাদক পদে সাবেক ছাত্রদল নেতা আলী আহমদ বিজয়ী হন আরেক সাবেক ছাত্রদল নেতা এডভোকেট সামসুজ্জামান জামানকে পরাজিত করে। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে এমরান আহমদ চৌধুরী ও হাসান আহমদ পাঠোয়ারী রিপনের ভোট সমান হয়ে যায়।
সেসময়ে কারাগারে বন্ধি থাকা ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল আহাদ খান জামাল সাংগঠনিক সম্পাদক পদে এক ভোট কম পেয়ে পরাজিত হন। কাউন্সিলের সপ্তাহখানেক পর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এমরান আহমদ চৌধুরীকে সাংগঠনিক সম্পাদক ও হাসান আহমদ পাঠোয়ারী রিপনকে যুগ্ম সম্পাদক করা হয়। মহানগরের সভাপতি পদে নাসিম হোসাইন বিজয়ী হন ডাঃ শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরীকে পরাজিত করে। আর সাধারণ সম্পাদক পদে কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম ও রেজাউল হাসান কয়েস লোদিকে পরাজিত করে বিজয়ী হন বদরুজ্জামান সেলিম।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আজমল বখত সাদেক, হুমায়ুন কবির শাহীন, এমদাদ হোসেন চৌধুরীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন সাবেক ছাত্রদল নেতা মিফতাহ সিদ্দিকী। বিগত বিএনপির জাতীয় সম্মেলনে সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিমকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ), স্বেচ্ছাসেবকদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি এডভোকেট সামসুজ্জামান জামানকে বিএনপি নির্বাহী কমিটির সহ স্বেচ্ছাসেবক বিষযক সম্পাদক ও সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক আহবায়ক ডাঃ শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরীকে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য পদ দেওয়া হয়।
গুঞ্জন উঠছে যে- রাজপথের ত্যাগী ও কারা নির্যাতিতদের বাদ দিয়ে নিজের পছন্দের দলীয় লোকদের গুরুত্বপুর্ন পদ দিতে লবিং করছেন কতিপয় নীতি নির্ধারকরা। সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য, কামরুল হাসান শাহীন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সিলেট বিভাগীয় সহ-সভাপতি আব্দুল আহাদ খান জামাল, র‌্যাবের হাতে নিষ্টুরভাবে নির্যাতিত হয়ে বারবার কারাবরন কারী সদর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক তাজরুল ইসলাম তাজুল দলের জন্য নিবেদিত প্রান ও কর্মীবান্ধব। তারা ৩ জনই জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক পদ প্রার্থী। কিন্তু কোন অদৃশ্য সুতোর টানে তাদেরকে বাদ দিয়ে অখ্যাত ও সুবিধাবাদীদের এসব পদে নির্বাচিত করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে একটি সুত্র জানিয়েছে। এদেরকে বাদ দিয়ে কমিটি হলে রাজপথের আন্দোলনে বিএনপি ব্যার্থ হবে বলে মনে করে তৃনমুল নেতাকর্মীরা।
একটি সুত্র জানায় পুর্নাঙ্গ কমিটিতে সিলেট মহানগর বিএনপির ১ম যুগ্ম সাধারন সম্পাদক পদে এডভোকেট শামীম সিদ্দীকি ও জেলার ১ম যুগ্ম সাধারন সম্পাদক পদে মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সলের নাম শোনা যাচ্ছে। শামীম সিদ্দিকী বিএনপির কোন পর্যায়ের সদস্য নয় এছাড়া তাকে রাজপথে খুব একটা বেশী দেখাও যায়নি। এমন গুরুত্বপুর্ন পদে শামীম সিদ্দীকি নির্বাচিত করা হলে কমিটির গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র নেতা। এছাড়া জেলা যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সলের ভুমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক নেতা। দীর্ঘদিন থেকে জেলা যুগ্ম সম্পাদকের পদে থাকলেও তিনি কোন মামলার আসামি হন নি। এমন গুরুত্বপুর্ন পদে ত্যাগী, কারা নির্যাতিত কর্মীবান্ধব নেতাদের মুল্যায়ন করার জোর দাবী জানিয়েছেন বিএনপির তৃনমুল নেতাকর্মীরা।

সর্বশেষ সংবাদ