সিলেট | |
প্রকাশিত: 6:50 PM, February 19, 2020
প্রভাতবেলা ডেস্ক:
সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশ বলছে ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র। একই কথা ভারতও বলছে। তবুও কেন গুলি করে মানুষ মারা হচ্ছে? সীমান্তে কেন মানুষ মারা যাবে? গত দুই মাসে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে প্রায় ১১ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ কারণে সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত সীমান্তে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, দ্বি-রাষ্ট্রিক সম্পর্কের ব্যাপারে বাংলাদেশের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবেই ভারতের ভালো সম্পর্ক। সেই স্বাধীনতার পর থেকেই। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয়দের আমাদের সঙ্গে বন্ধুর মতো পার্টিসিপেশনটা, এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তখন থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ভালো। তারপরও সীমান্তে হত্যা, এটি যে দুটি রাষ্ট্রের ব্যাপার তা কিন্তু না। সীমান্তে যেসব লোকগুলো থাকে এবং সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের কাজ হলো এসব নিয়ন্ত্রণে রাখা।
অধ্যাপক মুহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে না পারার পেছনে আমাদের কূটনৈতিক দুর্বলতা অনেকটা দায়ী। এ বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। কূটনৈতিক শিষ্টাচার, কূটনৈতিক সম্পর্ক যেগুলো আমরা দেখি দুটি রাষ্ট্র বা দ্বি-রাষ্ট্রিক সম্পর্ক ধারণ করে, নিয়ন্ত্রণ করে কিংবা পরিচালিত করে। সেখানে বাংলাদেশের কূটনীতি আরও সর্তক হওয়া দরকার। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত হত্যা বেড়ে গেছে। এটা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। এখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মহল থেকে একটা রোল প্লে করলে হয়তো এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।
সীমান্ত হত্যা বন্ধের বিষয়ে এই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক বরেন, বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশকে সীমান্ত হত্যা বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একেবারে গোড়া থেকে কাজ শুরু করতে হবে। কেননা, একটা হত্যা যখন হয়, তখন তার পেছনে অনেকগুলো কারণ থাকে। সেই কারণগুলো যাতে কেউ না করতে পারে, সেজন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এবং সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে। এখানে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছুটা পিছিয়ে আছে।
সর্তকতা অবলম্বন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যার ক্ষেত্রে কিছু অসর্তকতা আছে। যেমন ধরুন সীমানা রেখা পার হয়ে নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া, চোরাকারবারিসহ এ রকম বেশ কিছু কাজ করতে গিয়ে বিএসএফের কাছে বাংলাদেশিরা ধরা পড়ে। অনেক সময় বিএসএফের গুলিতে মৃত্যু হয়। তাই আমাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে সর্তক হওয়া উচিত। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেসব দায়িত্ব-কর্তব্য আছে, সেগুলো করা দরকার। আশা করি, এটা করা গেলে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হবে।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ভারত সীমান্তে হত্যা আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। এর আগে হত্যার মতো ঘটনা কম ছিল। তবে আমরা চেষ্টা করছি, যাতে সীমান্তে হত্যা কমিয়ে আনা যায়। এজন্য দুই দেশের যা যা করণীয় তা আমরা করব।
এ দিকে, সীমান্তে এ ধরনের মৃত্যু যাতে না হয় সেজন্য বিজিবির পক্ষ থেকে যা যা পদক্ষেপ নেওয়ার তা নেওয়া হয়েছে। এমনটাই বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রভাতবেলা/এমএ

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি