সিলেট ৩০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৭, ২০১৭
সংবাদদাতা ,জামালগঞ্জ : সুনামগঞ্জ জেলার হাওরপারের কয়েক হাজার কৃষক ফসল হারিয়ে হাহাকার জীবন যাপন করছে। শেষ সম্বল টুকু হারিয়ে কাঁদছে কৃষক । সরকার নির্ধারিত ওএম এস ডিলার পয়েন্ট যথা সময়ে চাল পাচ্ছে না অনেক কৃষক। পর্যাপ্ত ডিলার না থাকায় এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাজার হাজার কৃষক। জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নে ৫টি ডিলার নিয়োগ থাকলেও ৩টি দিয়েই চলছে কার্যক্রম,ডিলারের মধ্যে হচ্ছেন মো:আবুল খয়ের বিক্রয় কেন্দ্র শাহাপুর,ইউনিয়ন ফেঁনারবাঁক,ভীমখালী,মো:আকবার হোসেন, বিক্রয় কেন্দ্র জামালগঞ্জ, ইউনিয়ন জামালগঞ্জ সদর ও উত্তর,মো:রুহায়েল আহমদ, বিক্রয় কেন্দ্র সাচনা বাজার, ইউনিয়ন সাচনা বাজার মো:রেজাউল করিম, বিক্রয় কেন্দ্র বেহেলী বাজার, ইউনিয়ন বেহেলী, মো:আব্দুল লতিফ, বিক্রয় কেন্দ্র লক্ষীপুর বাজার,ইউনিয়ন ফেঁনারবাঁক। প্রতি নিয়ত লাইনে ঘটছে ঝগড়া এর মধ্যে কিল ঘুষি ত থাকছেই। অনেক কৃষক জানান, ৫দিন ধরে লাইনে দাড়িয়ে চাল না পেয়ে শূন্য হাতে বাড়ী ফিরছেন অনেকেই। পবিবারে খাদ্য না থাকায় প্রায় ঘরে ঘরে কথা কাটা কাটি, মাঝে চলে বড় ধরনের ঝগড়া, কিছু কিছু পরিবারে রান্নার চুলা বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় এলাকার প্রায় কৃষক চট্রগ্রাম,ঢাকা,গাজীপুর এলাকাতে কাজের সন্ধানের চলে যাচ্ছে। এদিকে এনজিও ঋণের সাপ্তাহিক কিস্থির জন্য বাড়ী বাড়ী মাঠ কর্মীদের দিয়ে মারাত্মক চাপ প্রয়োগ করছে, বিশেষ করে উদ্দীপন নামের এনজিও ঋন গ্রহন কারী তেলিয়া নতুন পাড়ার বাসিন্ধা মাসুক মিয়া জানান, উদ্দীপন এনজিও’র মাঠ কর্মী জান্নাত আমার নিকট থেকে নতুন ঋণ দেওয়ার কথা বলে চার মাসের অগ্রিম কিস্তি নিয়ে আসে, আমি আট হাজার টাকা স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীর নিকট থেকে সাপ্তাহিক সুদে এনে দেই। মোট বার হাজার টাকা বাড়ির আসবাপত্র বিক্রি করে পরিশোধ করি,এখন আমি রাস্তায় বসে গেছি। উদ্দীপন ব্যবস্থাপকের সাথে যোগাযোগ করলে, তিনি ধমকের সুরে বলেন, আমার মাঠ কর্মীর সাথে খারাপ ব্যবহার করে আবার ঋণ চান, একথা বলে সঞ্চয়ের বই কিনা বুঝি না আমার স্বাক্ষর রেখে দেন । তবুও মাঠকর্মী দেই দিচ্ছি বলে সময় পার করছে, এই দুঃখ কাকে বলব। সাচনা বাজার চাউল লাকড়ি ব্যবসায়ী উত্তর কামলা বাজ গ্রামের আবু তাহের ( সামার ) মোঃ মহরম আলী বলেন,আমি সি ঢাকা নামের এক এনজিও কাছ থেকে ঋণ নিয়েছি, প্রতিদিন ৭০০শত টাকা করে দিতে হয়, না দিলে ঝামেলা করে। কালকে আবার আসবে,আমার চলার মত কোন ব্যবস্থা না থাকায়, ফসলি জমি হাওরের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায়, বেকায়দায় পরে গেছি, সঠিক ভাবে কিস্তি দিতে পারছিনা। এর জন্য এনজিও’র কর্মীরা আমার সাথে ঝামেলা করেছে। রাজু আহমেদ সজল, দিপিকা রানী, মিন্টু মিয়া বলেন, সময় মত কিস্তি টাকা পরিশোধ করতে না পারলে ভয়ভীতি, অশ্লীল ভাষায় গালি গালাজ করে। ঘরে চাউল নেই,হাতে কাজ না থাকায় চিন্তায় বাড়ী ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক পরিবার। উপজেলার এনজিও দের মধ্যে হচ্ছে গ্রামীন ব্যাংক, ব্র্যাক,আশা,উদ্দীপন,পদক্ষেপ,টি এম এস এস, এফ আই ভি ডি বি, সি এন আর এস, সোলার মাইক্রোকেডিট মধ্যে,আর এস এফ,পাতা কুঁড়ি, রিমসো ফাউন্ডেশন,হিলফুল ফুজুল,সান হোম এনার্জি,গ্রামিন শক্তি,পাতাকুড়ি,পান্না রুরাল ফাউন্ডেশন’র গ্রাহকগণ বলেন যে, সোলারের ব্যাটারী নষ্ট এবং চার্জ দেওয়ার কথা বলে ব্যাটারী খুলে নিয়ে আসা হয়, পরবর্তিতে ব্যাটারী আর দেওয়া হয় না,তারা বলেন কিস্তির টাকা দিয়ে ব্যাটারী নিয়ে যাবেন। এব্যপারে উপজেলার মাইক্রোকেডিটের ব্রাঞ্চ ম্যানেজাদের সাথে যোগায়োগ করা হলে তারা বলেন, কৃষকের সমস্যা আছে আমরা জানি, কিন্তু গ্রাহককে কোন রকম হয়রানি,চাপ সৃষ্টি করে ঋণ আদায় করা হচ্ছে না। সদস্যদের সুবিধা মত ঋণ আদায় করা হচ্ছে। নিয়মিত ঋণ কার্যক্রম চালু আছে।
উত্তর কামলাবাজ গ্রামের মিন্টু মিয়া বলেন,খেয়ে বাছি না এর মধ্যে সাপ্তাহিক কিস্তির জন্য চাপ দেয়। এসকল বিষয়টি ও এনজিও সাপ্তাহিক কিস্তি ফসল হারা কৃষককে মওকুফ করতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন হাওর পারের কৃষক।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি