হাদিসের আলোকে সালামের ইতিহাস

প্রকাশিত: 4:44 PM, October 21, 2020

হাদিসের আলোকে সালামের ইতিহাস

♦ আলী আহমেদ মাবরুর♦  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষকের সালাম বিষয়ক অযাচিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নানা মহল থেকে ন্যায্য প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় সালাম সংক্রান্ত হাদিসটিকে আবার উপস্থাপন করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। আমি মনে করি, প্রফেসর জিয়া আমাদের জন্য ভালো করেছেন। ইসলামের অন্যতম শিষ্টাচার এবং রাসুলের সা. অন্যতম একটি মৌলিক নির্দেশনা তথা মানুষে মানুষে সালাম বিনিময়কে আরো ইতিবাচকভাবে এবং ব্যাপকভাবে মানুষের সামনে উপস্থাপন করার সুযোগ আমাদের সামনে উম্মোচিত হয়েছে। এসব ধর্মীয় জ্ঞানহীন তথাকথিত বুদ্ধিজীবি মহলের অপপ্রচার সালামের পরিমান হ্রাস করবে না। বরং শুদ্ধ করে সালামের উচ্চারণ ও প্রয়োগকে আরো বেশি জনপ্রিয় করে তুলবে ইনশাআল্লাহ।

রাসুল সা. যখন মদিনায় প্রবেশ করেন, তখন মদিনার খুব কম সংখ্যক লোক মুসলিম ছিলেন। অধিকাংশই ছিলেন অমুসলিম। রাসুলের সা. আগমন উপলক্ষে মদিনার নানা ধর্ম বর্নের মানুষ শহরের প্রবেশপ্রান্তে তাকে দেখতে আসেন।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রা. তখনো ইসলাম গ্রহণ করেননি। তিনি তখন ইহুদিদের অন্যতম শায়খ তথা রাব্বি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি নবিজিকে সা. দেখতে এসেছিলেন, কারণ তিনি জানতেন, মদিনায় শেষ জমানায় একজন নবি আসবেন। মুহাম্মাদ সা.- সেই প্রত্যাশিত নবি কি-না, আব্দুল্লাহ বিন সালাম রা. তাই যাচাই করতে এসেছিলেন।

আরও পড়ুন  করোনায় আরো ৪৩ জনের মৃত্যু

রাসুলকে সা. দেখেই হযরত আব্দুল্লাহ বিন সালাম রা. অনুধাবন করলেন, এ মানুষটি হকপথের মানুষ। সত্যবাদি। নবিজির সা. চেহারা মুবারক দেখেই আব্দুল্লাহ বিন সালামের রা. মনে হলো কোনো মিথ্যাবাদি ও পথভ্রষ্ট মানুষের মুখ এমন হতে পারে না। রাসুলের সা. চেহারার সততা দেখেই আব্দুল্লাহ বিন সালাম রা. প্রাথমিকভাবে ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন।

রাসুল সা. মদিনায় প্রবেশ করে মুসলিম ও অমুসলিম সবাইকে উদ্দেশ্য করে প্রথম যে কথাটি বললেন, তা হলো : হে লোকসকল! তোমরা পরস্পর সালাম বিনিময় করো, অভুক্তকে আহার করাও এবং রাতের বেলা মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন সালাত পড়ো। তাহলে তোমারা নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। (ইবনে মাজাহ, তিরমিজি)

এ হাদিসটিকে সালামের হাদিস বলা হয়। কারণ এ হাদিসটি বর্ননা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন সালাম। আবার হাদিসটির উপজীব্য বিষয়ও সালাম বিনিময়।

হাদিসটি থেকে আমরা জানিতে পারি, রাসুলের সা. প্রথম হুকুমটাই ছিল তোমরা সালাম বিনিময় করো। একে অপরকে সালাম দাও। সালাম দেয়ার মাধ্যমে মূলত আমাদের চরিত্র উন্নত ও বিকশিত হয়। আমরা যদি একজন মানুষকে সালাম দিয়েই কথা শুরু করি, আর যদি সালাম দিয়েই বিদায় নেই, তাহলে মাঝের সময়টায় কীভাবে আমরা তার সাথে খারাপ ব্যবহার করবো? আদৌ কি তা সম্ভব?

আরও পড়ুন  রাগীব রাবেয়ার প্রতিবাদ যেন ‘ঠাকুর ঘরে কে রে আমি কলা খাইনা’

সালাম বিনিময় করা মানে শুধু আসসালামু আলাইকুম বলা নয়। সালামের মাধ্যমে আমরা অপরের মঙ্গল কামনা করি। আমি যখন বলি, আপনার ওপর শান্তি বর্ষণ হোক, তখন কী করে আমি আমার হাত ব্যবহার করে তার ক্ষতি করবো কিংবা জিহবা ব্যবহার করে তাকে গালি দিবো? আমরা যদি কাউকে সালাম দেই আবার পেছনে পেছনে যদি তার গীবত করি, তাহলে সালামের কী কোনো ব্যাপকতা বা উপযোগিতা থাকলো? সালাম মূলত অপর ব্যক্তির জন্য আমাদের দুআ।

যখন কেউ স্লামালিকুম বলে, তখন সে জানেও না যে, অজান্তেই সে আল্লাহর নামকে বিকৃত করে ফেলছে। কারণ আস সালাম হলো আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের একটি সিফাতী নাম।

আমাদের প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবিরা সালামটিকে গতানুগতিক বচন বানিয়ে ফেলেছেন বলেই তারা সালামকে নিয়ে নোংরা অপপ্রচার করতে পারেন। অথচ সালাম মানে দুআ। সালাম মানে অনিষ্টতা থেকে আপনার কল্যাণ কামনা। সালাম মানে আপনার জীবন থেকে শয়তানের অনুপস্থিতি। তাই সালামকে নিয়ে উপহাস, পরিহাস ও তুচ্ছজ্ঞান এক মুহুর্তের জন্যেও কাম্য নয়।

আল্লাহ আমাদেরকে সালামের গুরুত্ব এবং শুদ্ধভাবে সালাম বিনিময় করার তাওফিক দিন। আমিন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ