আউশকান্দিতে ওভারব্রিজের দাবী : আন্দোলনের হুশিয়ারী

প্রকাশিত: 10:03 PM, July 23, 2016

শাহ সুলতান আহমদ, নবীগঞ্জ : ঢাকা – সিলেট মহাসড়ক চালু হওয়ার পর থেকে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার ব্যস্ততম আউশকান্দি- হীরাগঞ্জ বাজার সংলগ্ন কিবরিয়া রোড সংযোগ স্থলে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় অর্থ শতাধীক লোক প্রাণ হারান। স্বজন হারা মানুষের আর্ত চিৎকারে আকাশ বাতাস ভারী অনেক বারই হয়েছে।
বিগত ১০বছরে এসবস দূর্ঘটনার মধ্যে কারখান গ্রামের সাবেক মেম্বারের স্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের অবস্থানরত ৩নাবালক, দেওতৈল গ্রামের মচব্বির মিয়ার পুত্র জনৈক ১২বছরের শিশু, রঘু দাউদপুর গ্রামের হত দরিদ্র হাজেরা বেগম, দেওতৈল গ্রামের মুরব্বী তছলিম মিয়া, দাউদপুর গ্রামের হাজী মন্নান মিয়া, কাচাঁ মিয়া, জনৈক এক হিজরা, এক সাথে ৩টি গবাদী পশু গরু, সিলেট হযরত শাহ জালাল (রঃ) ও শাহ পরান মাজার (রঃ) জিয়ারত শেষে স্বামী স্ত্রী এক সাথে মৃত্যু বরণ, আউশকান্দি- হীরাগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাবেক সাধারন সম্পাদক আব্দুল ওয়াহিদ ও তার সাথে থাকা এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমা আক্তার দূর্ঘটনা কবলীত হয়ে অল্পের জন্য রক্ষা সহ গভীর রাত ও সন্ধা রাতে ট্রাক, বাস, সিএনজি, মোটরসাইকেল সহ আরো অনেক হিসাব ছাড়া দূর্ঘটনা ওই স্থানে ঘটেছে। এতে দূর্ঘটনা হলেই স্বজনহারা লোকদের দাবী তুলেন ওভারব্রিজের।
সর্বশেষ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন দেওতৈল গ্রামের ও আউশকান্দি- হীরাগঞ্জ বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তছলিম মিয়া। তার মৃত্যুতে ওই সময়ে স্থানীয়রা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন ২/৩ ঘন্টা। খবর পেয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ, নবীগঞ্জ থানা পুলিশ, গোপলার বাজার তদন্ত কেন্দ্রের কর্মকর্তা উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত শতাধীক জনতাকে তাৎক্ষনিক ভাবে ওভারব্রিজের জন্য আশ্বাস দিয়ে অবরোধ তুলে নেন। কিন্তু আজ বদি অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে।
সরেজমিনে ওই এলাকার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার ও ভূক্তভোগী লোকজনের সাথে আলাপকালে তারা জানান, ওই রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত প্রায় ১৫/২০হাজার লোকজন চলাফিরা করেন। এর মধ্যে উপজেলার ৫নং আউশকান্দি ইউনিয়নের দেওতৈল, ৪নং দীঘলবাক ইউনিয়নের দরবেশপুর, দাউদপুর, বোয়ালজুর, রঘু দাউদপুর, কারখানা, বহরমপুর, রায়ঘর, বাদে রায়ঘর, জিয়াপুর, স্বস্থিপুর গ্রামের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কিন্ডার গার্ডেন পড়ুয়া শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিক্ষিকা, ব্যবসায়ী, আইনজীবি, ডাক্তার সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকজন। এমন কি ঢাকা- সিলেট মহা সড়কের সুন্দরনগরস্থ অবস্থিত প্রতিষ্টান জে, আই, সি স্যুট লিমিটেডের অসংখ্য গার্মেন্টস কর্মী, শেভরন বাংলাদেশের কর্মকর্তা কর্মচারী সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের পদচারনা ওই রাস্তা দিয়েই করতে হয়।
৫নং আউশকান্দি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাজী মুহিবুর রহমানের সাথে মোটো ফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, আমি নিজেও এলাকাবাসীর নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের নিকট আকুল আবেদন করে আমরা নিরুপায়। এখন পর্যন্ত হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবী পূরণ করে নাই। অনেক কষ্ট করে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে ওই দূর্ঘটনা কবলিত স্থানে দুটি স্পীড ব্রেকারের ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু বর্তমানে এই স্পীড ব্রেকার নিরাকার হয়ে একে বারে নাজেহাল। আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
আউশকান্দি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য খালেদ আহমদ জজ এর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, আমরা যখন মরতে শিখেছি, মৃত্যুকে আর আমরা ফরোয়া করি না। মরতে হলে সবাই একসাথে মরব, দফায় দফায় নয়। এ ব্যাপারে সূর্যতরুন যুব সমবায় সমিতি লিমিটেড দেওতৈল এর সভাপতি মুজিবুর রহমান এর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, দুঃখের কথা আর কি বলব, একের পর এক নিহতের ঘটনায় আমরা মর্মাহত। কতবার এলাকাবাসীকে নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করেছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা। মেগা আইডিয়াল সোসাইটির সভাপতি মেহেদী হাসান সুমন এর সাথে এ ব্যাপারে আলাপকালে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইতিমধ্যেই চার লেনের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা আর কত দিন অপেক্ষা করব, আমাদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ