জামায়াত না হয় বেমানান: জাফরুল্লাহরা কতটা মানান

প্রকাশিত: 8:52 PM, July 28, 2016

প্রভাতবেলা ডেস্ক:  বাংলাদেশের রাজনীতিকে ‘নষ্ট রাজনীতি’ উল্লেখ করে এই রাজনীতিতে জামায়াত বেমানান বলে  ১০টি কারণ উল্লেখ করেছেন্। প্রশ্ন হলো, জামায়াত না হয় বেমানান বাংলাদেশের রাজনীতিতে । জাফরুল্লাহ চৌধুরীরা কতটা মানানসই বাংলাদেশে। শেষ বয়সে চমকপ্রদ বক্তব্য দিয়ে জাতিকে কি জানান দিতে চান বীর এই মুক্তিযোদ্ধা?

১. জামায়াত একমাত্র বড় দল যার নেতার ছেলে, মেয়ে বা স্ত্রী পরবর্তীতে গদ্দীনশীন হননি যা গণতন্ত্রের চেতনার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
২. জামায়াত নেতারা মন্ত্রিত্ব পেয়েও ঘুষ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলপ্রীতিতে জড়িয়ে পড়েননি। দেশের সর্বোচ্চ পদে থেকেও ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধি করতে পারেননি যা বিবেকহীন জনগণকে হতাশ করেছে।
৩. জামায়াতের (আসলে জামায়াত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের) প্রত্যেকটি বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান সততা ও দক্ষতার কারণে লাভজনক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। দলীয় কোনও প্রতিষ্ঠানের এহেন মুনাফা দলীয় দুর্নীতির চেতনার সাথে খাপ খায় না।
৪. বিগত কয়েক বছরে প্রথম সারির তথা শীর্ষ নেতাদের সকলেই জেলে থাকার পরও আন্দোলনে কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ চিন্তার বিষয়।
৫. সরকারি দালাল টিভি চ্যানেল ও প্রিন্ট মিডিয়াসমূহে জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবের কথা ফলাও করে প্রচার সত্ত্বেও এ পর্যন্ত লাঠি আর ঢিল ছাড়া তাদের হাতে কোনও আগ্নেয়াস্ত্র দেখতে না পাওয়ায় তাদের তাণ্ডবের প্রচার মলিন হয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্রের প্রতি তাদের অনীহা ক্ষমতাসীনসহ দেশের বিদ্যমান অনেক রাজনৈতিক দলের সাথে তাদের বৈষম্যের সৃষ্টি করেছে।
৬. জামায়াতর ছাত্রসংগঠন শিবির চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ইভটিজিং, জ্বেনা ব্যভিচার, শিক্ষক পেটানো, ভর্তি বাণিজ্য, সিট বাণিজ্য, দখলদারি প্রভৃতিসহ দুর্নীতি ও অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত নেই, বরং তারা সবাই নামায ও কুরআন-হাদিস পড়ে ও অন্যদের পড়ার তাগিদ দেয়। উন্নত নৈতিক মান অর্জন করতে না পারলে এই বয়সে এটা সম্ভবপর নয়। আমাদের দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাথে এটা সংগতিশীল নয়।
৭. জামায়াত একমাত্র দল যার নেতাকর্মীরা তাদের মাসিক আয়ের সাধারণত ১-৫% এবং ক্ষেত্র বিশেষে তারও বেশি দলীয় তহবিলে দান করেন। প্রচলিত অর্থে রাজনীতি করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পকেট ভরা। টাকা খরচ করে রাজনীতি করার এই কালচার রাজনীতির চিরাচরিত উদ্দেশ্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ছুঁড়ে দিয়েছে।
৮. ইলেকশনে নমিনেশন পাবার উদ্দেশ্যে অন্য দল থেকে কেউ জামায়াতে যোগ দিয়ে ফুলের মালা পায় না। বরং সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায়, স্বাভাবিক পন্থায় কর্মী থেকে তাদের নেতা পর্যায়ে উন্নীত হতে হয়।
৯. জামায়াত-শিবির পয়সা ভাগাভাগি বা অন্য কোনও বৈষয়িক কারণে দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে মারামারিতে লিপ্ত হয়েছে এবং পরস্পর পরস্পরকে খুন-জখম করেছে অথবা একে অন্যের বউ নিয়ে টানাটানি করেছে এমন কথা কখনো শোনা যায়নি। অথচ অন্য একটি বড় দলের সাধারণ সম্পাদক তার ছাত্রসংগঠনের জেলা পর্যায়ের এক নেতার বউকে অবৈধভাবে বাগিয়ে নিয়ে ঘর সংসার করার নজিরও আমাদের রাজনীতিতে আছে। জামায়াতে নমিনেশন নিয়ে মারামারি তো হয়ই না বরং কেউ নেতা নির্বাচিত হলে তাকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়তেও দেখা গেছে।
১০. জামায়াত এবং শিবির আদর্শিক রাজনীতির কথা বলে। বাংলাদেশের নাস্তিক সেক্যুলারিস্টরা মনে করেন ইসলাম শুধু হুজরা আর মসজিদে সীমাবদ্ধ থাকবে। রাজপথসহ অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দেশের সর্বত্র চলবে মানুষের হুকুম। আল্লাহর সার্বভৌমত্বের কথা বলা যাবে না। সংবিধান অনুযায়ী জনগণই হচ্ছে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। অবশ্য সরকার, সরকারি দল ও তার অংগ সংগঠনের নেতাকর্মী কিংবা সরকারি কোনও বাহিনী সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক জনগণকে পেটালে, গুলী করে হত্যা করলে, গুম নির্যাতনের শিকার বানালে অথবা নিরপরাধ মানুষের ওপর জুলুম করলে তাদের সার্বভৌমত্বের মর্যাদা নষ্ট হবে না। এই ধারণায় যারা বিশ্বাস করেন তারা দুর্নীতিবাজ ও প্রতারক রাজনীতিক বলে পরিচিত এবং তারা বাংলাদেশের জন্য রাজনীতি এবং আদর্শ এই দু’টি শব্দকে বিপরীতার্থক শব্দে পরিণত করেছেন বলে অনেকের ধারণা। এই প্রেক্ষাপটে জামায়াতের আদর্শিক রাজনীতি বাংলাদেশে বড্ড বেমানান হয়ে পড়েছে।

খ্যাতনামা সমাজ সেবক ও মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

সর্বশেষ সংবাদ