আতিয়া মহলে নিহতদের একজন জেএমবি প্রধান মুসা!

প্রকাশিত: 8:13 PM, March 28, 2017

প্রভাতবেলা ডেস্ক:সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় আতিয়া মহলে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে নিহত চার জনের মধ্যে একজন রাজশাহীর বাগমারার মুসা বলে দাবী করছে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা। মুসাই জেএমবির শীর্ষ নেতা ছিলেন বলে জানিয়েছে তারা।

কাউন্টার টেরোরিজমের কর্মকর্তারা জানান, মুসা  যে ছবি দিয়ে বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন, সেই ছবির সঙ্গে পুলিশের কাছে থাকা ছবির মিল পেয়েছেন তারা। এজন্য নিহতদের মধ্যে মুসাও রয়েছেন বলে ধারণা তাদের।

সিলেট মহানগর পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে তারা যে দুজনের লাশ হাতে পেয়েছেন তাদের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। একইসঙ্গে লাশের মুখচ্ছবি সংগ্রহ করে পরিচয় জানার জন্য ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কাছে পাঠানো হয়েছে।

 কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, লাশের যে অবস্থা তাতে খালি চোখে দেখে আগের ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা সম্ভব নয়। তবে একজনের মুখের ছবি দেখে জেএমবির শীর্ষ নেতা মঈনুল ইসলাম মুসা’র আগের ছবির সঙ্গে কিছুটা মিল পাওয়া গেছে। পরে মুসার পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ নুমনা সংগ্রহ করে মিলিয়ে দেখা হবে।

কাউন্টার রোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা কলেজ থেকে ইংরেজিতে মাস্টার্স করা মাঈনুল ইসলাম মুসার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের বজ্রকোলা। তার বাবার নাম আবুল কালাম আজাদ। মায়ের নাম সুফিয়া বেগম।

১৯৮৮ সালের ২০ ডিসেম্বর তার জন্ম। তার স্ত্রী তৃষা মনিকে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর আশকোনার এক জঙ্গি আস্তানা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই আস্তানায় অভিযানের আগেই মুসা পালিয়ে যায়।

আরও পড়ুন  জাস্ট হেল্প ও রোটারির উদ্যোগে সিলেটে বিশ্বমানের চক্ষু হাসপাতাল

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, সিলেটের জঙ্গি আস্তানায় মুসা অবস্থান করার কারণেই অভিযান শেষ করতে চার দিন লেগে যায়। কারণ মুসা কেন্দ্রীয় আস্তানা হিসেবে এখানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক মজুদ করেছিল। একইসঙ্গে অভিযান চলাকালে ভেতর থেকে মুসা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বাইরে যোগাযোগ করে ‘কাউন্টার অ্যাটাকের’ নির্দেশনা দিয়েছিল বলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের ধারণা। ফলে সোমবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সিলেটের শিববাড়ি এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে রাখা হয়।

নিহত জঙ্গিদের একজন মুসা কিনা তা জানতে কিছু সময় লাগবে বলে জানান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এম রোকন উদ্দিন। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী লাশের পরিচয় জানার জন্য যা যা করা প্রয়োজন তা করেই পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।

কে এই মুসা: ২০০৪ সাল থেকেই জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে জেএমবির অন্যতম শীর্ষ নেতা মঈনুল ইসলাম ওরফে মুসা। ওই সময়ে রাজশাহী অঞ্চলে বাংলা ভাইয়ের অপারেশন শুরু হলে তার হাত ধরেই সে জেএমবিতে যোগ দেয়। তবে বয়সে ছোট হওয়ায় সে সময় প্রশাসনের নজরে আসেনি মুসা। সে সময় মুসা বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর ডিগ্রী কলেজের এইচএসসির প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল। সেখান থেকে এইচএসসি পাস করার পর তিনি রাজশাহী কলেজে ভর্তি হন। পরে রাজশাহী কলেজ থেকে টিসি নিয়ে ভর্তি হন ঢাকা কলেজে। সেখান থেকে মুসা ইংরেজিতে মাস্টার্স পাস করে।

আরও পড়ুন  টেকনিক্যাল কলেজে ছাত্রদলের মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণ

মুসার মা সুফিয়া বেগম জানান, গত ৯ মাস আগে সে তার নিজ বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের বজ্রকোলা গ্রামে গিয়ে ছিল মুসা। সৌদি আরব যাবে বলে ৩ লাখ টাকার জমি বিক্রি করে বাড়ি থেকে চলে যায়। এরপর সে আর বাড়ির সঙ্গে কোন যোগাযোগ রাখেনি। তবে মুসা সর্বশেষ গ্রামে এসে যাওয়ার সময় বাড়িতে থাকা তার ছবিসহ বেশ কিছু কাগজপত্র পুড়িয়ে ফেলে যায় বলেন বৃদ্ধা সুফিয়া।

তিনি বলেন, বছর খানেক আগে মুসা ঢাকার উত্তরায় একটি ভবনের ৬ তলায় থাকতো। সেখানে কয়েকবার গেছেন বলেন সুফিয়া বেগম।

তিনি বলেন, ওই ভবনে মেজর জাহিদ নামের একজন থাকতো। মেজর জাহিদ ছিল ২ তলা। মুসার সঙ্গে মেজর জাহিদের ঘনিষ্ঠতা বেশী ছিল। মাঝে মধ্যে কিছু লোকজনও আসতো সেই বাড়িতে। ওই ভবনের ছাদে তারা মিটিংও করতো মাঝে মধ্যেই বলে জানান সুফিয়া বেগম।

বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ বলেন, মঈনুল ইসলাম মুসার ব্যাপারে তাদের কাছে এখনো কোন নির্দেশনের আসেনি। তবে যেহেতু সন্দেহ করা হচ্ছে সিলেটের জঙ্গি আস্তানায় নিহতের মধ্যে একজন মুসা হতে পারে সে কারণে তার ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ সংবাদ