যা লিখতে চাইনি: কবীর সোহেল

প্রকাশিত: 1:59 PM, April 16, 2017

কবীর আহমদ সোহেল : কোথা থেকে শুরু করবো ? কি দিয়ে শুরু করবো? কি লিখবো ? কি লিখবো না ? এমনি বহুমাত্রিক প্রশ্ন নিজেই নিজেকে করছি। প্রত্যুত্তর আসছে লিখতেই হবে। স্মৃতি থেকেই লিখতে হবে। ছাত্রজীবনে ডায়েরী মেইনটেইন করতাম। এখনো একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীর ডায়েরী সংরক্ষিত আছে। মাঝে মধ্যে বের করে দেখি। সত্যিই হৃদয় তাড়িত করে তোলে ডায়েরীর পাতাগুলি। আপ্লুত হই , ব্যাকুল চিত্তে পুরোনো দিনগুলি নিয়ে ভাবি, কিছু সময়ের জন্য আনমনা হয়ে যাই। খানিক পরে আবার সম্ভিত ফিরে পাই। ভুলে যাবার চেষ্টা করি স্মৃতিময় দিনগুলি। ভুলেও যাই, কিন্তু হৃদয় মন থেকে মুছে দিতে পারিনা। স্মৃতি সত্যিকার অর্থে সব সময় বেদনার।
আত্মার বাইরে অনেক আত্মীয়:
কর্মজীবনে অর্থাৎ সাংবাদিকতায় এসে আর ব্যক্তিগত ডায়েরী মেইনটেইন হয়না। সংবাদ সংক্রান্ত নোট, তথ্য সংগ্রহের দিকেই মনোযোগি হয়ে উঠি। ছোট ছোট নোটবুকে অনেক তথ্য লিপিবদ্ধ। বহু আহত নিহতের নাম। রোগীর নাম এমনকি এইডস আক্রান্ত রোগীর নাম ঠিকানাও রয়েছে। রয়েছে দূর্ঘটনা কবলিত ব্যক্তির নাম। অসহায় দরিদ্র কোন ব্যক্তির নাম। আছে দূর্নীতিবাজ রাঘব বোয়ালদের অনেক কাহিনীর সার সংক্ষেপ নোট। যাঁদের তথ্যে উপাত্তে আমার ছোট ছোট নোটবুক সমৃদ্ধ। তারা কেউ আমার আত্মীয় নয় পরিচিতও নয়। পেশাগত কারনেই তাদের তথ্য সংগ্রহ করেছি এবং সংরক্ষণ করেছি। এতসব মানুষজন প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা উপাত্ত থাকলেও সময়ের ব্যবধানে আর তাদেরকে চিনতে পারিনা। মনে রাখতেও পারিনা বা সম্ভব হয়না।
সাংবাদিকতায় স¤পৃক্ততা ও বিচরণ:
সাংবাদিকতায় সম্পৃক্ত হওয়া এবং পেশা হিসেবে নেওয়া এটা পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই। শখের বসে প্রবেশ করে আর বের হতে পারিনি। আস্টেপৃষ্টে জড়িয়ে গেছি এই পেশায়। সাংবাদিকতা জীবনের দুটি ধাপ আমার। একটি ধাপে একজন রিপোর্টার হিসেবে কাজ করা । আরেক ধাপ সম্পাদক প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালনের। দুটি ধাপই আমি উপভোগ করেছি বা করছি। রিপোর্টার হিসেবে কাজ করার সময় এক ধরনের ক্ষিপ্রতা ছিল। আমি যখন যে বিষয়ে রিপোর্ট করতাম তার গভীরে গিয়ে করতাম। যার নীরব সাক্ষী সিলেটের দৈনিক সিলেট বাণী, দৈনিক জালালাবাদ, দৈনিক শ্যামল সিলেট ঢাকার দৈনিক খবরপত্র, খবরের অন্তরালে, দৈনিক মানবকন্ঠসহ বিভিন্ন পত্রিকার পাতাগুলি। রিপোর্টার হিসেবে কাজ করতে গিয়ে আমার একটা উপলব্ধি হয়েছিল সত্যিকার সাংবাদিকতা করতে হলে পত্রিকার সম্পাদক প্রকাশক নিজেই হতে হবে। অন্যথায় অনেক আশা আকাঙ্খা স্বপ্ন সাধনা পরিশ্রমের মৃত্যুঘটে পত্রিকা অফিসের টেবিলে, বক্স ফাইলে নতুবা সম্পাদকের টেবিলের ড্রয়ারে। আমার এই উপলব্ধি থেকে যে স্বপ্ন আকাঙ্খার জন্ম তা বাস্তবায়িত হতে বেশী দিন যায়নি।
সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ :
আমার সাংবাদিকতা শুরুর ২ বছরের মাথায় ১৯৯৪ সালে আমি সাপ্তাহিক সিলেট পরিক্রমার সম্পাদক নিযুক্ত হই। যদিও সাপ্তাহিকিটির প্রকাশক আমি ছিলাম না। সিলেট অঞ্চলের সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন পত্রিকা হিসেবে খুব স্বল্প সময়ে সিলেট পরিক্রমা পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করে। সাপ্তাহিক সিলেট পরিক্রমায় কাজের মাধ্যমে সাংবাদিকতার হাতেখড়ি যাদের তাদের অনেকেই আজ দেশে বিদেশে প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মুহাম্মদ জুবায়ের, পার্থ সারথী দাস, শাহ দিদার আলম নবেল চৌধুরী। জুবায়ের, পার্থ পরিক্রমার নিষ্ঠাবান দুজন কর্মী ছিল। জুবায়ের বৃটেনে চ্যানেল এস এ কর্মরত, পার্থ কালের কণ্ঠের ডেপুটি চীফ রিপোর্টার। নবেল জকিগঞ্জ সংবাদদাতা ছিল পরিক্রমারএখন বাংলাদেশ প্রতিদিন ও চ্যানেল ২৪ এর সিলেট ব্যুরো চীফ। এছাড়া আরো অনেকেই পরিক্রমায় কাজ কওে আজ ভাল অবস্থানে আছেন। এই মুহুর্তে অনেকের নাম স্মরণে আসছে না।এইগুলিই আমার অর্জন বলে আমি মনে করি।মুহাম্মদ জুবায়েরের ‘টাকার কেরামতি’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন সিলেটে তোলপাড় তোলে । এর ফলশ্রুতিতে সাপ্তাহিক সিলেট পরিক্রমা অনেক অসুর শক্তির হিং¯্র থাবার সম্মুখীন হয়। প্রায় ১৮ বছর আগে যে ব্যক্তি বা গোস্টি আমার সাথে পরিক্রমার সাথে দাপট দেখিয়েছিলেন তাদের অবস্থান আজ বাজারের ঐ শেষ গলির নেড়ী কুত্তার মত। আরো বড় কথা হলো এদের সবাই জীবনের কোন না কোন ক্ষেত্রে আমার সাহায্য আশ্রিত হয়েছেন। আমি তা নিয়ে গৌরব করিনা, মা’বুদের শুকরিয়া জানাই।
আমি বিশ^াস করি ‘ সত্য সমাগত, মিথ্যা বিলুপ্ত, মিথ্যার তো বিলুপ্ত হবারই কথা’ ( সুরা বনী ইসরাইল: আায়াত-৮১)
বিশ^াস করি আমার রব এর সেই ঘোষনা, ‘সময়ের শপথ,মানুষ ক্ষতিরগ্রস্তের মধ্যে নিমজ্জিত। সেসব লোক ব্যতিত যাঁরা(আল্লাহর উপর) ঈমান এনেছে, সৎ কাজ করেছে, একে অপরকে সৎকাজের তাগিদ দিয়েছে এবং পরস্পরকে ধৈয্যের্র উপদেশ দিয়েছে।’(সুরা আল আসর)

ভানু স্যার নাম আজকের শিক্ষক :
মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার প্রত্যন্ত এক গ্রামের সন্তান আমি। দক্ষিণ গোয়ালবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমার প্রাথমিক শিক্ষা লাভ। আমার সেই প্রাইমারী স্কুলে তখন দরজা জানালা ছিলনা। বাঁশের বেড়া ছিল। শিক্ষক একজনই দেখেছি বেশীরভাগ সময়। মাঝে মধ্যে দু’জন। আমি যখন পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র। বছরের সম্ভবত ৬ মাস চলে গেছে। ঐ সময় একজন নতুন স্যার আসলেন। তাঁর নাম ভানু ভূষণ দেব। স্যার ২/৩ দিন ক্লাস নেয়ার পর হেড স্যার (আজিম স্যার) কে বল্লেন আমাকে বৃত্তি পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশন করাতে। আমার যতটুকু মনে পড়ে হেড স্যার এসব ঝামেলা মনে করে এড়িয়ে যেতে চাইছিলেন। নাছোড় বান্দা ভানু স্যার তা করিয়ে ছাড়েন। শুধু এখানেই থেমে যাননি। প্রাইমারী বৃত্তি রেজিষ্ট্রেশনের পর ভানু স্যার প্রতিিিদন স্কুল ছুটির পর সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাকে প্রাইভেট পড়াতেন। সন্ধ্যায় আমাকে বাড়ী পৌঁছে দিয়ে যেতেন তিনি। আমার বাবাও শিক্ষকতা করতেন। আব্বা তখন বিয়ানীবাজার বালিঙ্গা মাদ্রাসার মুহতামিম। তিনি বাড়ী আসতেন ২/৩ মাস পর। স্যার আব্বার অনুপস্থিতি আমাকে বুঝতে দেননি। ৩মাস পড়ানোর পর একদিন স্যার হেডস্যারকে হেসে হেসে আমার ঘাড়ে হাত রেখে বল্লেন,‘ আমার এই ছেলে বাম হাতে পরীক্ষা দিলে টেলেন্টপুলে বৃত্তি পাবে’। শিক্ষাদান ও পাঠদানে কতটুকু পারদর্শি হলে পওে এমন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারেন একজন শিক্ষক।সত্যিই আমি টেলেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিলাম। তৎকালীন সিলেট জেলার(মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ সিলেট)মধ্যে মেধা তালিকায় প্রথম হয়েছিলাম। আমার সেই ভানু স্যারের প্রতি বিন¤্র শ্রদ্ধা জানাই। ভানু স্যার কোথায় আছেন কেমন আছেন জানিনা। আমার চোখে এখনো জ¦লজ¦ল করে ভাসে স্যারের শাদা শার্ট, হালকা নীল রঙের পেন্ট। কাল চিকচিকে হাড্ডিসার পদযুগল। ইচ্ছে হয় স্যারের পা ধরে চুমু খাই। ভানু স্যার এর শিক্ষকতা আমাকে এতটা প্রলুব্ধ ও প্রভাবিত করেছিল আমাকে ছোটবেলার আমার খেলাধূলাই ছিল পড়ানো। বড় হয়ে শিক্ষক হবো এমনটাই ইচ্ছা ছিল। তা হয়নি। আজকের শিক্ষকতা আর ভানু স্যারদের শিক্ষকতা অনেক ফারাক। আজ বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিজ ছাত্রছাত্রী টয়লেটে যৌনক্রিয়া চালানো কে অপরাধ মনে করেনা। বিপনী বিতানে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানকে বলে তাদের ব্যবসা। আজ ছাত্রসহ শিক্ষিকা প্রশ্নপত্র ফাঁসকালে পুলিশের হাতে আটক হয়। জেল জরিমানা হয়।
নিত্যসা ফতেনা দিয়ামা জিলেভা লথাকে:
আজ শিক্ষা শিক্ষকতা সব বদলে গেছে। শিক্ষার্থীরা পড়েনা, শিক্ষকরা পড়ায় না। আমি দুটি হাইস্কুলে পড়েছি। চার ক্লাস পড়ে এসএসসি দিয়েছি। সপ্তম শ্রেণী আমি স্কুলে পড়িনি। পাঠশালা পাশ করে ভর্তি হয়েছি শিলুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে । ৬ষ্ট শ্রেণীতে প্রথম ক্লাস। সুন্দর পরিপাটি খাটো উচ্চতার একজন শিক্ষ ক ধীর গতিতে ক্লাসরুমে প্রবেশ করলেন। ভরাট কণ্ঠে পরিচয় পর্ব শেষ করলেন। তিনি গোপাল স্যার। যিনি ক্যাম্পাস দিয়ে হাটলে শুধু ছাত্রছাত্রী নয়, গাছ বৃক্ষ তরুলতা সহ সব প্রাণীকূল শিরনত করে স্যালুট করে থাকে। সেই স্যার গোটা গোটা শাদা বর্ণে কালো বোর্ডে লিখলেন, ‘ নিত্যসা ফতেনা দিয়ামা জিলেভা লথাকে” বল্ল্নে একটি সার্থক বাক্য গঠন কর। আমরা সেদিন ৩ জন তা পেরেছিলাম। সার্থক বাক্য হল, ‘নিত্য সাফ তেনা দিয়ে মাজিলে ভাল থাকে’। গত ৩দিন আগে প্রভাতবেলা অফিসে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত দুজনকে (¯œাতক সম্মান) এই বাক্যটি দিয়ে ১ ঘন্টা সময় দিয়েছিলাম। তারা পারেননি। আমরা ক্লাস সিক্সে যা পারলাম এখন মাস্টার্সধারীরা তা পারেনা। এখন আবার দেশময় সয়লাভ মাস্টার্স স্বীকৃতির চিৎকার। কেউ বলছেন অর্জন, কেউ বলছেন অধিকার। আমার বুঝে আসেনা স্বীকৃতিতে কী হয়। মাদরাসায় দাওরা পাস একজন আর ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে আরবী আর ইসলামিক স্টাডিজ মাস্টার্স করা কিভাবে সমান হবে। তাহজীব তমুদুদন সীরাত সুরতে ফারাক তো থেকেই গেল। একটি অভিন্ন বাস্তবভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা কেন এদেশে প্রণয়ন হয়না? আমাদের মধ্যে বিভেদ রাখাই এর মূল কারণ নয় কী?
হৃদয়ে বড়লেখায় :
ক্লাস সিক্সের বার্ষিক পরীক্ষার পর আমাদের পারিবারিক একটা সমস্যা দেখা দেয়। নানাবাড়ী, খালাবাড়ী করে বছরের বেশ অর্ধেক সময় পার। পরের বছর আব্বা আমি আর বড় ভাইকে নিয়ে এলেন বড়লেখা পিসি হাই স্কুলে। ভাই আর আমি একই ক্লাসে পড়তাম। পিসি হাই স্কুলে ভর্তিকালে আমি বেঁকে বসলাম অষ্টম শ্রেণীতে ভর্তি হব বলে। প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের চৌধুরী আমাকে বেশ কয়েকটা প্রশ্ন ধরালেন। আমি উত্তর দিলাম ঝটপট। আমাকে এইটে ভর্তির অনুমতি দিলেও ভাইকে দিলেন না। ভর্তি হলাম ক্লাস এইটে। ক্লাস নাইনে আমি ছাত্ররাজনীতিতে জড়িয়ে গেলাম। ছাত্রদের অধিকার আদায়ে বড়লেখার প্রত্যেকটি হাই স্কুলে আমি সফর করি। দক্ষিণভাগ স্কুলের এক ছাত্রহত্যার প্রতিবাদ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আমি অনেকটা লাইম লাইটে চলে আসি। বড়লেখার পথ প্রান্তরে বাই সাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়ানো আমার নেশা হয়ে যায়। জুড়ী থেকে শাহবাজপুর, হাকালুকি থেকে কেছরিগুল, বর্নী পাকশাইল এসব আমি চষে বেড়িয়েছি। বড়লেখার মাটি ও মানুষের সাথে আমার নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠে যা আজো বহমান। বড়লেখার বিভিন্ন সমস্যা সম্ভাবনায় আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ি অনিচ্ছাকৃতভাবেই। এসএসসি পাস করার পর চলে আসি সিলেটে। তখনো বড়লেখার টান ছাড়েনি। সিলেট থাকাবস্থায় বড়লেখা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্বাচিত হই। বড়লেখায় কোন অনিয়ম অনাচারের বিরুদ্ধে আমরা ঝাপিয়ে পড়তাম । পাল্টে দিতাম সব হিসেব নিকেশ। আমি, আনোয়ারুল ইসলাম (বর্তমানে বিএনপি নেতা), আবুল হোসেন(আমেরিকা প্রবাসি), খলিলুর রহমান(ব্যবসায়ী) সহ বেশ ক’জন ছিলাম একমনা সক্রিয় পরোপকারী।
এই বড়লেখার একটি ভাল স্কুল গাংকুল পঞ্চগ্রাম আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কতিপয় সাংবাদিক নামধারী চক্রান্ত করছে। এ বিষয়ে আমার সহযোগিতা চান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তাদের চিহ্নিত করে প্রভাতবেলায় রিপোর্ট প্রকাশ হলো। গত বুধবার তারা (চক্রান্তকারীরা) ফোন করে বিষয়টি নিস্পত্তির অনুরোধ জানালো। পাথারিয়া ছোটলেখা বড়লেখার কথা নিয়ে অন্য পরিসরে লিখবো ইনশাল্লাহ।
শহর সিলেট:
১৯৮৯ সালে সিলেট শহরে আসি। পাখিঢাকা ছায়াঢাকা ছিমছাম এক শহর। শহরের বিভিন্ন মোড়ে বিশাল আকৃতির গাছ। গাছের ডালে পাখির কিচির মিচির, গাছতলায় হকার পথচারীদের আয়েশি অবস্থান। কোর্ট পয়েন্ট, চৌহাট্রা পয়েন্ট, নাইওরপুল পয়েন্ট, বন্দর তেতুলতলার বিশালাকৃতির গাছগুলি এখনো চোখে ভাসে। আধুনিক নগর সভ্যতা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে দলিত মথিত করে দেয়। এমনি নির্মমতার শিকার প্রিয় এই শহর খানি।
সামরিক স্বৈরাচার আর গণতান্ত্রিক স্বৈরাচার:
১৯৮৯ সাল। দেশে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে। উত্তাল আন্দোলন সংগ্রামমূখর সময়ে ভর্তি হলাম সিলেট সরকারী কলেজে। কলেজে ভর্তি হয়েই সক্রিয় হয়ে উঠি ছাত্র আন্দোলনে। সে এক ভিন্ন জীবন। তারুণ্যের উষ্ণ কণিকায় প্রবাহমান জীবন ধারায় স্বপ্ন দেখতাম একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের। ক্যাম্পাসে রাজপথে শ্লোগানে মিছিলে মিটিংয়ে কাটানো সে দিনগুলো এখন কেবলি স্মৃতি। গণআন্দোলনের মুখে সামরিক স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে জাতির ঘাড়ে গণতান্ত্রিক স্বৈরাচার চেপে বসেছে। আজকে অনির্বাচিত সরকারের কবলে ছোবলে ক্ষত বিক্ষত দেশ। ১৯৯০ পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় আমরা আইনশৃংখলা বাহিনীকে নিরাপদ আশ্রয় মনে করতাম। প্রতিপক্ষের সাথে হামলা সংঘর্ষের সময় পুলিশের অপেক্ষা করতাম। পুলিশ এসে উভয়পক্ষের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যেত। কোন বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরপেক্ষ থাকতো পুলিশ। আজকে আমরা কী দেখি। আইনশৃংখলা বাহিনীর মদদে সেভেন মার্ডারের মত ঘটনা ঘটে। মানুষ খুন,গুমের সাথে আইন শৃংখলা বাহিনী জড়িত থাকে। মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশ সম্ভাবনাময় অনেক তরুণের জীবন ধ্বংস করে দিচ্ছে। সন্তানের সামনে বাবাকে, মায়ের সামনে সন্তানকে, স্ত্রীর সামনে স্বামীকে ধরে নিয়ে গুলি করে খুন করা হচ্ছে। সবুজ শ্যামল বাংলাদেশের মানচিত্রে এমন রক্তাক্ত পাষন্ডতা আমরা দেখতে চাইনি।
পেশাগত সাংবাদিকতা:
স্নাতক শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় সাংবাদিকতা চর্চায় ঝুঁকে পড়ি। প্রথমে শখে, পরবর্তীতে নেশা এবং পেশায় পরিণত। ১৯৯৩ সালের শুরুর দিকে দৈনিক সিলেট বানী তে যোগাদানের মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতায় প্রবেশ। তখন পত্রিকার সংখ্যা ছিল কম। ইলেকট্রনিক মিডিয়া বলতে বিটিভি। তবে রেডিওর ব্যবহার ছিল উল্লেখযোগ্য। পত্রিকা অফিসে বিবিসি ও ভয়েস অব আমেরিকা’র বাংলা রেডিও সংবাদ মনিটর করা হত। আন্তর্জাতিক সংবাদের অন্যতম সোর্স ছিল রেডিও। এখন তো রেডিও হারিয়ে যাবার পথে।এফএম ব্যান্ড আছে এয়ার ফোনে সীমাবদ্ধ। সেলফোনের ইথারেই সব শেষ।
১৯৯৪ সালের ৭ নভেম্বর সিলেট প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য পদ লাভ করি। তখন সিলেট প্রেসক্লাব ছিল অখন্ড। সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আজিজ আহমদ সেলিম। সভাপতি মুক্তাবিস উন নূর। আজিজ আহমদ সেলিম সাক্ষরিত সদস্য পদ প্রদানের পত্রটি সেসময় মনে হয়েছিল অনেক বড় প্রাপ্তি। সাংবাদিকতার স্বীকৃতি। আজো মনে হয় স্বীকৃতি কত বড় অর্জন। শত বছরের শিক্ষা পদ্ধতি কওমী মাদরাসা কত কাঠ খড় পুড়িয়ে জীবন রক্তের বিনিময়ে তাদের স্বীকৃতিটা পেল। অথচ স্বীকৃতি একটি অধিকার, ন্যায়সঙ্গত পাওনা ।
একই বছর সাপ্তাহিক সিলেট পরিক্রমা’র সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করি। ১৯৯৪ সালের ১২ ডিসেম্বর সাপ্তাহিকিটির প্রকাশনা শুরু হয়। পরিক্রমা নিয়ে আছে ভিন্ন কিছু অভিজ্ঞতা তা অন্য কোন পরিসরে লিখবো। ইনশাআল্লাহ।
যে ঘটনা প্রভাতবেলা প্রকাশের প্রেরণা:
২০০৭ সাল। দৈনিক জালালাবাদ’র সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ও ঢাকার খবরপত্র’র ব্যুরো চীফ হিসেবে কাজ করি। নেশায় পেশায় সাংবাদিকতা ছাড়া আর কিছুই নেই। দিনভর ঘুরে বেড়াই খবরের সন্ধানে। রাতভর কাটিয়ে দেই জালালাবাদ অফিসে। রিপোর্টিং সম্পাদনা পেস্টিং সব সেক্টরেই নিজেকে সম্পৃক্ত করে ফেলি এক অজানা মোহে। আমার এই সিরিয়াসনেস জালালাবাদ-এ কর্মরত অনেকেই ভাল চোখে দেখতো না। কেননা তাদের যোগ্যতার মাত্রা এমন ছিল, যে কোন যোগ্যতমকে তারা ভয় পেত। একজন বার্তা সম্পাদক একটা শিরোনাম লিখতে ১০/১২ টি কাগজ লাগতো। লিখতেন আর ছুঁড়ে ফেলতেন । এরাই ভেতরে ভেতরে সুযোগ খুঁজতে থাকে। এক সময় তারা সে সুযোগটাও পেয়ে যায়। জালালাবাদ এর শিফট্ ইনচার্জ হিসেবে শেষ রাতে কাজ করি। একরাতে র‌্যাব অভিযান চালায় বিএনপি’র কয়েকজন নেতার বাসায়। র‌্যাব এ তখন আমার শক্তিশালী সোর্স। ভাল সম্পর্ক। রাত ২টার দিকে পরিচালিত অভিযানের খবরটি আমি পেয়ে যাই। শতভাগ নিশ্চিত হয়ে ঐ সংবাদটি পরিবেশন করি। ‘মিজান সোহেলের বাসায় র‌্যাব’র অভিযান’ সম্ভবত এই শিরোনামে সেকেন্ড লীড নিউজ হিসেবে প্রকাশিত হয়। এই নিউজকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিছুদিন পর আমাকে ডেকে পাঠান জালালাবাদ সিন্ডিকেট এর তৎকালীন চেয়ারম্যান আলহাজ ডা. শফিকুর রহমান। তিনি প্রথমেই এই নিউজটির সোর্স জানতে চান। আমি সোর্স এর নাম প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করি। আমি বলি এটা সম্পাদক মহোদয়কে বলবো। বিধি মোতাবেক তিনি তা জানার অধিকার রাখেন। ডা. শফিক বলেন , সংবাদটি ঠিক নয়। আমি দ্ব্যার্থহীন ভাষায় বল্লাম, আপনি একজন ডাক্তার, প্রেসক্রিপশানে কোন ঔষধ লিখলে তা ঠিক নয়, কোন সাধারণ মানুষ বলতে পারেনা। তেমনি আমি একজন সাংবাদিক, আমার পরিবেশিত সংবাদ ঠিক নয় তা বলার অধিকার আপনার নেই। জালালাবাদ এ কাজ করবো না বলে বিদায় নিয়ে উঠে গেলাম। সম্ভবত সেদিন আমার সাথে পার্থ ছিল ( পার্থ সারথী দাস)। ঐ সময় জালালাবাদ সম্পাদক মুকতাবিস উন নূর সম্পাদক হিসেবে ছিলেন ‘উজিরে খামোখ’া। তিনি আমার বিধি মোতাবেক নিয়োগ কর্তা হয়েও কোন ভূমিকা রাখেননি অথবা রাখতে পারেননি। বার্তা বিভাগের ৩জন ডা. শফিকের কাছে আমার সম্পর্কে নানান তথ্য দেন। সাংবাদিকতায় এ তিন জনের বর্তমান অবস্থান উচ্ছিস্ট ফেলার ডাস্টবিনের মত।
ডা. শফিকের সাথে এ ঘটনাই আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে একটি দৈনিক প্রকাশনার। যেমন সিদ্ধান্ত তেমন কাজ। প্রকাশ যখন করবো তখন জাতীয়ভাবেই করবো এমন উচ্চাকাংখা থেকে জাতীয় ডিক্লারেশন নিলাম। এই পত্রিকার নাম দৈনিক প্রভাতবেলা। ডিক্লারেশন নেয়া প্রকাশনা পূর্ব পরিকল্পনা ও কার্যক্রমে আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন, পার্থ সারথী দাস (কালের কণ্ঠে কর্মরত) আবুল কালাম (নয়াদিগন্তে কর্মরত) হাসানুল কাদের (জানিনা এখন কোথায়), ফারুক মেহেদী (চ্যানেল২৪ এ কর্মরত) । ১১ বছরে পদার্পনের এই শুভক্ষণে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
পরিকল্পনা হলো পত্রিকার ১০ জন পরিচালক নেয়া হবে। আমি ছাড়া ৯ জন। উদার দৃষ্টিভঙ্গির রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তি হবেন প্রভাতবেলার পরিচালক। মেজর পলিটিক্যাল সব পার্টির অন্তত একজন করে সম্পৃক্ত করা হবে পরিচালনায়। যাতে পত্রিকাটি এককভাবে কোন দল বা গোষ্টির মুখপত্র না হয়। আপাতত বাজেট ২ কোটি টাকা। এমনি কিছু নীতিমালা প্রণয়ন করে মাঠে নামলাম। স্বল্প সময়ে আমরা ৭ জন হয়ে গেলাম। একটা ফান্ড হয়ে গেল। আমার প্রস্তাবনায় স্বতস্ফুর্ত সাড়া দিয়ে বন্ধুমহলই এগিয়ে এলেন।
যেভাবে যাত্রা শুরু:
২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল প্রভাতবেলা আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করলো। শুরুতেই একটি বিপত্তি দেখা দিল বিনিয়োগকারীরা আমার ঢাকায় অবস্থান চান না। তাদের এই অনাগ্রহের কারণে আমি সিলেটে অবস্থান করে প্রভাতবেলা প্রকাশনা কিছুটা ব্যয়বহুল হয়ে দাাঁড়ায়। আমরা চিন্তাধারা ও পরিকল্পনায় কিছটিা পরিবর্তন আনলাম। সিলেটকে প্রাধান্য দিয়ে এগুতে থাকলাম। খুব স্বল্প সময়ে প্রভাতবেলা সিলেটসহ দেশের সবকটি বিভাগীয় নগরীতে সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়।
দেশে তখন ভুতুড়ে শাসন ব্যবস্থা। ফখর উদ্দিন -মঈন উদ্দিন সরকার। সামরিক কর্মকর্তাদের জয় জয়কার। রাজনৈতিক ব্যবসায়ী এমনকি সাংবাদিক মহলও তটস্থ। কখন কার ্ওপর খড়গ নেমে আসে। এমনি সময়ে প্রভাতবেলার যাত্রা কুসুমাস্তির্ণ ছিল না। নানামূখী চাপের মধ্য দিয়েই চলতে হয় আমাকে। তার ওপর সম্পূর্ণ ভিন্ন নীতিমালা নিয়ে এগুনো সহজ সাধ্য ব্যাপার ছিলনা। সিলেট- ঢাকা দুটি অফিস পরিচালনা করতে হতো আমাকে। সিলেট অফিসে ১০ নতুন মুখ এবং ৫ অভিজ্ঞ জন নিয়ে যাত্রা শুরু করে প্রভাতবেলা। চৌধুরী আমীরুল হোসেনকে বার্তা সম্পাদক এবং আবদুর রাহমান ( মরহুম) কে চীফ রিপোর্টার কওে ১৫ সদস্যের তারুণ্য নির্ভর স্কোয়াড গঠন করি। ফায়যুর রহমান, ফয়সল আহমদ বাবুল, নোমান বিন আরমান, আলমগীর হোসেন, জাবের আহমদ, লায়েছ আহমদ মিনু, মুক্তাদির হোসেন মুক্ত, জুনেদ আহমদ চৌধুরী, মুমিনুল, ও জিবু এই ১০ তরুণ ছিল আমার শক্তি সাহস পূঁজি। সাংবাদিকতায় নতুন এই তরুণদের অদম্য শ্রম আর মেধা প্রভাতবেলার শক্তিশালী ভিত্তি তৈরী করে দেয়। ইনহাউস বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ দিয়ে মাঠে নামাই তাদের। আশাতীত সফলতা সক্ষমতা প্রদর্শন করেন এই ১০ তরুণ। ১০ বছরের ব্যবধানে তাদের কেউ এখন প্রভাতবেলায় নেই। কিন্তু হৃদয়ের টান রয়েছে। জুনেদ জাবের বৃটেনে। আলমগীর , ফয়সল শিক্ষকতায়। মুক্ত কোন এক কোম্পানীতে কর্মরত। লায়েছ আহমদ মিনু বিদেশ পাড়ি দেবার ধান্ধায়। নোমান, ফায়যুর রহমান আছে লেখালেখি সাংবাদিকতায়। মুমিনুল ব্যবসায় ব্যস্ত। জিবু কোথায় তা জানিনা। স্মৃতিশক্তি আগের মত কাজ করেনা। ১০ বছর আগের কবীর আহমদ সোহেল আর আজকের কবীর আহমদ সোহেল ব্যবধান অনেক। ডায়েবেটিক, কার্ডিয়াক সমস্যা নিয়ে জীবন যাপন। এখন আর রাতের পর রাত দিনের পর দিন কাজ করা যায় না, কাজ করতে পারিনা।
ঢাকা অফিসে পার্থ সারথী দাস, আবুল কালাম কে কো অর্ডিনেটর এর দায়িত্ব দেয়া হয়। প্রধান বার্তা সম্পাদকের দায়িত্বে যোগ দেন শাহীন আহমদ। ব্যবস্থাপনায় আব্দুল হক। তাহের হায়দার তোহা, শাহ জালাল সার্কুলেশনে। আব্দুল বারিক, বুলবুল প্রোডাকশনে। কম্পিউটারে আব্দুল কুদ্দুস ছাড়া বাকীদের নাম মনে আসছেনা। এখন পর্যন্ত আব্দুল হক ও শাহ জালাল আছেন প্রভাতবেলায়।
শুরুকালীন সহকর্মীদের কথা উল্লেখ করলাম। কেননা এরা প্রভাতবেলার ইতিহাসের অংশ। পরবর্তীতে অনেকেই আসছেন আবার চলে গেছেন। সবার কথা এই পরিসরে লেখা সম্ভব নয়।
সীমাবদ্ধতা প্রতিবন্ধকতা:
প্রভাতবেলা নাতিদীর্ঘ এ সময়ে বহুল প্রচারিত দৈনিকে রুপলাভ করতে পারেনি। পারেনি তার স্বপ্ন পূরণ করতে। কিন্তু দায়িত্বশীল সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতা চর্চায় অবিচল থেকেছে। লেখক সাংবাদিক সূধীমহলের অকৃত্রিম ভালোবাসায় ঋদ্ধ প্রভাতবেলা। বিশেষ করে সিলেটের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রভাতবেলার চলার পথকে প্রাণিত করেছে বারবার।
অসুর শক্তির কাল থাবার শিকারও হয়েছে প্রভাতবেলা। সিলেটে ছাত্রদলের কেন্দ্রিয় সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সফর কাভার করতে গিয়ে প্রভাতবেলার ক্যামেরা পারসন এর ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় ছাত্রদলের জামাল গ্রুপের সন্ত্রাসীরা। ঘটনার ১ ঘন্টার মধ্যে বিএনপি নেতা ইলিয়াছ আলী আমাকে ফোন করে জানান, আপনার ক্যামেরা রাতের মধ্যে আপনার অফিসে যাবে। তার কথা মত রাতেই ছাত্রদলের তৎকালীন সিলেট মহানগরীর সভাপতি জিয়াউল গণি আরেফিন জিল্লুর ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম সিদ্দিকী খালেদ আমার সাথে দেখা করে বিষয়টি নিস্পত্তি করেন।এটা সম্ভব হয়েছিল এক রাজনীতিকের বলিষ্ট ভূমিকার কারণে। ইলিয়াছ আলী বুঝতে পেরেছিলেন গণমাধ্যমের সাথে অশুভ আচরণ সমিচীন নয়। এরকম একজন বলিষ্ট রাজনীতিক কোথায় আমরা জানিনা। বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুম কলংকের নির্মম শিকার সিলেটবাসির বলিষ্ট কন্ঠস্বর ইলিয়াছ আলী।
প্রভাতবেলা দ্বিতীয়বার হামলার শিকার হয় সোবহানিঘাট মাদরাসার জঙ্গি সন্ত্রাসীদের হাতে। গতবছর ২ মার্চ একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা চালায় প্রভাতবেলা অফিসে। পরবর্তীতে সিলেট প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের মধ্যস্থতায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ক্ষমা প্রার্থনা করে। ক্ষতিপূরণ পরে দেবে বলে মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল প্রেসক্লাব কুতুবুল আলম প্রেসক্লাব থেকে সটকে পড়ে। আমরা কুতুবুল আলম নামধারী দাড়িটুপি লেবাসধারী মিথ্যুক সন্ত্রাসীদের ঘৃণা করি , ধিক্কার জানাই। সাধারণ মানুষের প্রতি আহবান জানাই এসব বর্ণচোরাদের কবল থেকে হেফাজতের জন্য যেন সতর্ক সচেতন থাকেন।
সত্যের সপক্ষে পথচলার প্রত্যয়:
লেখার পরিসর বিস্তৃত হয়ে যাচ্ছে। প্রভাতবেলা’র কর্ণধার হিসেবে বলবো, প্রভাতবেলা দাঁড়াবার চেষ্টা করেছে, হোচট খেয়েছে বারবার। কিন্তু থেমে থাকেনি। তাইতো দাঁড়িয়েছে। এবার হাটবার চেষ্টা করছে, আমরা জানি তাও সহজ সাধ্য হবেনা। কিন্তু আমরা দমে যাবনা। আমাদের প্রত্যয় আমরা চলবই। প্রভাতবেলা নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। মুদ্রণ প্রকাশনার পাশাপশি রয়েছে অনলাইন সংস্করণ। তাইতো গোটা বিশে^র বাংলাভাষি মানুষ প্রভাতবেলা দেখছেন পড়ছেন। প্রভাতবেলাকে সত্যিকার অর্থেই গণমানুষের মুখপত্র হিসেবে পরিণত করতে চাই। চাই গণমাধ্যমকে গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে রাখতে। খুব স্বল্প সময়ের ব্যবধানে আমরা পৌঁছে যাব কাংখিত লক্ষ্যে। এ প্রত্যাশা আমাদের। আমরা সকল শ্রেণী পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি। সকল অসুর শক্তির রক্তচক্ষু মাড়িয়ে আমরা এগুবো আমাদের লক্ষ্যপাণে। ১১ বছরে পদার্পনের এই শুভক্ষণে প্রভাতবেলায় কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারী, সাংবাদিক, সংবাদদাতা, প্রতিনিধি, বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক, শুভানুধ্যায়ীসহ সব শ্রেনী পেশার মানুষের প্রতি জানাই অনাবিল শুভেচ্ছা। নতুন বছরের প্রতিটি আগামীক্ষণ হোক আরো সুন্দর প্রাণবন্ত ও নিরাপদ।

সর্বশেষ সংবাদ