“জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো “

প্রকাশিত: ২:৫০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০১৮

“জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো “

 প্রভাতবেলা প্রতিবেদকঃ বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্ধি করাই দলটির একমাত্র লক্ষ্য বলেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার (২৫ এপ্রিল) বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্রকে মুক্ত করবো আমরা’।

কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে যোগ দিতে সকাল সাড়ে ১০ থেকে বিএনপি এবং দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন। বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে দেশের মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেই। তাই আমরা সব দল-মতের লোককে আহ্বান জানাবো দেশের গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে, মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে ঐক্যবদ্ধ হতে। এর কোনো বিকল্প নেই। সব রাজনৈতিক দল, ধর্ম, বর্ণ, ব্যক্তি সবাইকে গণতন্ত্রের জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানাচ্ছি। সরকারকে জানাতে চাই, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ।’ বিএনপির এই সিনিয়র নেতা আরো বলেন, ‘এই সরকার গণতন্ত্রের মুক্তির আন্দোলনকে ঠেকাতে খালেদা জিয়াকে বন্ধী করে রেখেছে। তিনি বাইরে থাকলে সরকারের একদলীয় শাসন দীর্ঘ স্থায়ী হতে পারবে না। গত ৫ জানুয়ারির মতো একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে পারবে না’। মির্জা ফখরুল বলেন,’ মানসিক ভাবে নির্যাতন করতে খালেদা জিয়াকে পরিত্যক্ত কারাগারে রাখা হয়েছে । অভিযোগ করে বলেন, এখন তাকে (খালেদা) দল ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি খালেদা জিয়াকে তার নিজস্ব চিকিৎসকদের চিকিৎসা নিতেও দিচ্ছে না। প্রতিদিন ক্রমান্বয়ে তার স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ছে। গতকাল তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা দেখা করেছেন। তখন আমরা জানতে পেরেছি খালেদা জিয়া এতোই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন যে দ্বিতীয়তলা থেকে নিচতলায় নামতে পারেননি।

আরও পড়ুন  মঞ্চে মাঝের আসনটি ফাঁকাই রেখেছিল বিএনপি

আমরা বারবার সরকারের কাছে অনুরোধ করছি , তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হোক। তার যে ধরনের পরীক্ষা বা এমআরআই করা দরকার তা অন্য হাসপাতালে করা সম্ভব নয়। একমাত্র ইউনাইটেড হাসপাতালে এর ব্যবস্থা আছে। তার দুই হাঁটুতে মেটাল প্রতিস্থাপন করা আছে। সে কারণ অন্য কোথাও তার এমআরআই করানো সম্ভব না। কিন্তু আমাদের কথার ওন সাড়া পাওয়া যাচ্ছেনা।‘

বিএনপির মানববন্ধন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ। এ সময় নয়াপল্টন এলাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মানববন্ধনে শত শত নেতা কর্মী যোগ দেন। মানবন্ধনে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটকে রেখেছে। কারণ সরকার চাইছে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আবার একটি প্রহসনের নির্বাচন করতে। কিন্তু এবার তাদের সে স্বপ্ন পূরণ হবে না’।
দলের অভিজ্ঞ নেতা মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমাদের কথা বলার অধিকার নেই, কথা বলার জায়গা নেই। আমরা কোথাও সভা সমাবেশ করতে চাইলে আমাদের মাঠ দেওয়া না। কোথাও সভা সমাবেশ করতে চাইলে আমাদের ওপর হামলা নির্যাতন করা হয়।’ মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, মোহাম্মদ শাহাজাহান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আযম খান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, জয়নাল আবদিন ফারুক, আতাউর রহমান ঢালী, আবদুল হাই, হাবিবুর রহমান হাবিব, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, কামরুজ্জামান রতন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, আমিনুল হক, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, শামীমুর রহমান শামীম, রিয়াজ উদ্দিন নসু, রফিক সিকদার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির হাবিবুর রশিদ হাবিব, স্বেচ্ছাসেবক দলের ইয়াসিন আলী প্রমুখ। এছাড়া ছাত্রদল, যুবদল, মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, মৎস্যজীবী দল, তাঁতী দল ও ঢাকা মহানগর বিএনপির বিভিন্ন ইউনিট ও থানার নেতাকর্মীরা মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ