ভূয়া তালাকনামায় প্রতারিত শাহেদা

প্রকাশিত: 11:34 PM, July 4, 2018

সুয়েবুর রহমান ,প্রভাতবেলা সংবাদদাতাঃ সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার নিদনপুর মোল্লা গ্রামের জহুর উদ্দিন প্রথম স্ত্রী শাহেদা আক্তার খুশিকে ভূয়া তালাকনামা পাঠিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন।

সেই জহুর উদ্দিনের নির্যাতিত স্ত্রী ও সন্তান আজ ছন্নছাড়া  জীবনযাপন করছেন। একমাত্র সন্তানের ভরণপোষণতো দূরের কথা কোন খোঁজখবর রাখছেন না জহুর। এদিকে অর্থের অভাবে ছেলের লেখাপড়া চালিয়ে নিতে মা শাহেদা আক্তার খুশিকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

 

নির্যাতিত শাহেদা আজও ন্যায় বিচার প্রত্যাশায় আছেন। তার ছেলে সন্তান নিয়ে সামাজিকভাবে বেঁচে থাকার তাড়নায় মাথা ঠুকে যাচ্ছেন।

 

জহুর উদ্দিন (৪০) মোল্লা গ্রামের মৃত আব্দুল হকের তৃতীয় সন্তান।

 

জহুর উদ্দিন এক অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে প্রথম স্ত্রী’কে জাল ও ভূয়া তালাকনামা প্রেরণ করে কালবিলম্ব না করে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

 

শুধু তাই নয় প্রথম স্ত্রী শাহেদা আক্তার খুশি’র সঙ্গে সংসার করা অবস্থায় একাধিক নারীর সঙ্গে অবৈধ্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন জহুর। এনিয়ে চলে খুশি ও জহুরের সংসারে টানাপোড়ন। ঝড়্গা ও অশান্তি।

 

এক পর্যায়ে জহুর তার অবৈধ্য সম্পর্ক জায়েজ করতে খুশি ও তাদের এক মাত্র সন্তানকে ফেলে চলে যান। এরপর আর কোন খোঁজখবর নেবার প্রয়োজন বোধ করেননি।

 

জহুরের প্রথম স্ত্রী অনেক সালিম বিচার বসিয়েও তার সংসার টিকিয়ে রাখতে পারেননি। বর্তমানে সন্তানের ভরণপোষণ করতে এই দুঃখিনী মাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অভাবের সংসারে একার জীবন চালানোই যেখানে দুরহ। সেখানে বর্তমান বাজারে সন্তানের লেখাপড়া ও আনুসাংগিক খরচ চালাতে খুশিকে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে।

 

অভিযোগকারী শাহেদা আক্তার খুশি,  দৈনিক প্রভাতবেলাকে জানান, ০৪/১১/২০০৪ তারিখে শরিয়ত মোতাবেক জহুর উদ্দিনের সঙ্গে তার বিবাহ হয়।

বিয়ের পর তিনি দীর্ঘ আট বছর তিনি চাকুরীতে নিয়োজিত ছিলেন। এসময় তার সংসার ভালোই চলছিল। স্বামীর কথায় চাকুরী জীবনের উপার্জনের সমস্ত অর্থদিয়ে সুপাতালা এলাকায় শাহপরান কমিউনিটি সেন্টারের পার্শ্বে দুলহান নামের একটি বিউটি পার্লারের ব্যবসায় জড়িয়ে যান তিনি।

আরও পড়ুন  সিবিউপ’র আমিরাতের নতুন কমিটি গঠন

 

বিউটি পার্লারের মালিকানা স্বামী জহুর উদ্দিনের নামে। খুশি ছিলেন পরিচালনায়।

পার্লারের অতিরিক্ত কাজের চাপের কারনে দুজন মহিলা কর্মচারী নিয়োগ দেন তার স্বামী জহুর। এরপর থেকেই তাদের সংসারে অশান্তি প্রবেশ করে। কলহ, বিবাদ বাড়ে।  খুশি বলেন, ‘ তিনি যে (স্বামী) একজন নারী লোভি পাষণ্ড মানুষ ছিলেন আমি বুঝতেই পারিনি’।

 

অভিযোগকারীনি আরো বলেন, ‘জহুর বিয়ে করার প্রলোভন ও টাকার লোভ দেখিয়ে দোকানের কর্মচারীর সঙ্গে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হতেন’।

 

স্বামীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ খুশির, পার্লারের আসা কাস্টমারদের ভিডিও মোবাইলে ধারন করে ব্ল্যাকমেইল করতেন। সেসংগে কর্মচারীদের দিয়ে নানা ধরনের অপকর্ম করাতেন। যার প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন কাজল (২৬) নামের আর এক কর্মচারী।

 

স্বামীর এসমস্ত অপকর্মের প্রতিবাদ করায় আরো হিংস্র হয়ে উঠেন জহুর।

 

ঘটনার জের ধরে জহুর উদ্দিন প্রকাশ্যে স্ত্রী খুশিকে বলেন, তোর কারণে কাজলকে  তো পেলাম না। এখন তুই সুহানাকে (পার্লারের কর্মচারী) আমার সাথে বিয়ে দেবার ব্যবস্থা কর’।

 

তিনি রাজি না হওয়াতে জহুর উদ্দিন তার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন এবং বলেন, ‘বিয়ে না দিলে আমি মরে গিয়ে, তোকে সহ তোর বাপের বাড়ীর সবাইকে ফাঁসাবো। তোর ছেলেকে ও মেরে ফেলবো’।

 

পরদিন স্ত্রী খুশিকে মারধর করে নিজ গৃহ থেকে বেড় করে দেন জহুর।

 

নিরুপায় হয়ে স্ত্রী পরিবারের সাহায্য নিয়ে বিয়ানীবাজার থানায় স্বামীর নামে সাধারন ডাইরি করেন।

এলাকার গণ্যমান্য ও মুরব্বী ব্যক্তি চকই মিয়া সমস্ত ঘটনা শুনে দু’জনের উপস্থিতিতে সালিসের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে দেবার আশ্বাস দেন। এরপর মাস থেকে বছর পার হয়। সালিস তো দূরের কথা এ ব্যাপারে কেউ কোন কথা বলেনি জহুরকে।

আরও পড়ুন  ‘লঙ্কাওয়াশ’ হলো টিম টাইগার

 

তালাকনামা কিভাবে পাঠিয়েছেন জহুর জানতে চাইলে খুশি বলেন, সালিসের নামে আমাকে ঠকানোর কয়েক দিন পর আমার নামে একটি চিঠি আসে। আমার স্বামী নিজেই চিঠিটা প্রেরণ করেছিলেন। আমি আমার এক আত্মিয় উকিলের সাথে তালাকনামা নিয়ে যোগাযোগ করি। তিনি তালাকনামা ভূয়া বলে প্রমান করেন’।

 

অভিযোগকারীনি বলেন, ‘ তালাকনামায় আমার দেনমোহর ও বিয়ের তারিখ সঠিক নয় এবং সাক্ষীগণের নাম উল্লেখ রয়েছে কিন্তু তাদের কোন পরিচয় নাই। এছড়াও খোঁজ নিয়ে দেখি আমার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং মেয়রের কাছে এধনের কোন নোটিশ পর্যন্ত আসেনি’।

 

জহুরের অবৈধ্য বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, ‘তার সংসার করা কালীন সময়ে  (পার্লারের কর্মচারী) কাজল নামের এক মেয়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ক ছিল। যার প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। এরপর আর এক কর্মচারী সুহানার (২৪) সাথে অবৈধ সম্পর্ক চালিয়ে যান’।

বর্তমানে জহুর সুহানকে অবৈধভাবে বিয়ে করে সংসার করছে। অবৈধ্যের সংসারে তাদের একটি পুত্র ও সন্তানও হয়েছে।

 

অভিযোগকারী শাহেদা আক্তার খুশি বলেন, সমস্ত ঘটনা বাদ দিলেও আমার ছেলে সন্তানের ভরণ-পোষণ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় আছি। এজন্য আমি আইনী ব্যবস্থায় যাবো। অনেক সহ্য করেছি। এবার আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করতে বাধ্য হচ্ছি’।

 

শাহেদা আক্তার বর্তমানে শাহী ঈদগাস্থ একটি বিউটি পার্লার পরিচালনা করছেন। তার একমাত্র ছেলে রেদুয়াল হোসেন রাব্বি (১৪) ঝেরঝরী মাদ্রাসায় ছাত্র।

 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জহুর উদ্দিনের  সঙ্গে বারবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

 

সর্বশেষ সংবাদ