১২৩ দিন পর মুক্তি পেলেন যুবদল নেতা মকসুদ

প্রকাশিত: 2:45 AM, May 14, 2020

১২৩ দিন পর মুক্তি পেলেন যুবদল নেতা মকসুদ

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক: মুক্তি পেয়েছেন যুবনেতা মকসুদ আহমদ। ১শ ২৩ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত বাতাসে আসলেন জাতীয়তাবাদী আদর্শের এই সাহসী নেতা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সিলেট জেলা শাখার সদস্য সচিব মকসুদ আহমদ ১৩ মে বুধবার রাত ৮টায় মুক্তি পান। সিলেট কেন্দ্রিয় কারাগার ফটকে তাকে অভ্যর্থনা জানান বিশিষ্ট সাংবাদিক দৈনিক প্রভাতবেলা সম্পাদক কবীর আহমদ সোহেল, জেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য ফখরুল ইসলাম রুমেল, অলিউর রহমান, সিলেট জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন সহ বেশ কিছু নেতা কর্মী। করোনা পরিস্থিতিতে লোক সমাগম ঠেকাতে বিকেল থেকে মকসুদের মুক্তিলাভের খবর গোপন রাখা হয়। তারপরও স্বউদ্যোগে অর্ধশতাধিক নেতা কর্মী মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা করে মকসুদ আহমদকে তার মোল্লারগাওস্থ নিজ বাড়ীতে নিয়ে আসে।

এর আগে বেলা ৩টায় জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মকসুদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত একটি মামলার ভার্চুয়াল জামিন শুনানী হয়। প্রথমবারের মত ভার্চুয়াল জামিন শুনানী করেন সিলেট জেলা বারের সভাপতি এডভোকেট এ টি এম ফয়েজ ও এডভোকেট মুমিনুল ইসলাম। জামিন শুনানী শেষে জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো: শরীফ উদ্দিন মকসুদ আহমদের জামিন মন্জুর করেন।

আরও পড়ুন  ৬০ পৌরসভায় চলছে ভোটযুদ্ধ

এই মামলায় জামিনের মধ্য দিয়ে মকসুদ আহমদকে গ্রেফতার দেখানো ১৮টি মামলার সবকটি জামিন হয়ে যায়। ফলে তার মুক্তিতে আর কোন প্রতিবন্ধকতা থাকেনি। আদালত ও কারাগারের আইনী ও দাপ্তরিক কাজ শেষে রাত ৮ টায় তাকে মুক্তি দেয়া হয়।

গত ২০ জানুয়ারী সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে দলীয় কর্মসূচীতে অংশগ্রহণের পথে দক্ষিণ সুরমার খোজারখলা মসজিদের পাশে একটি মাইক্রো থেকে মকসুদকে গ্রেফতার করে র‌্যাব’র একটি বিশেষ দল। গ্রেফতারের ২ ঘন্টার মধ্যেই তাকে দক্ষিণ সুরমা থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব। পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। ১৮মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। মার্চের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যেই মকসুদ ১৭ টি মামলার জামিন লাভ করেন। জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাটির জামিন শুনানীর তারিখ ছিল ২৪ মার্চ। কিন্তু ঐদিন বিচারক ছুটিতে থাকায় শুনানী হয়নি। পরবর্তীতে করোনা পরিস্থিতি আর সাধারণ ছুটির ফলে আদালত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। আটকে যায় মকসুদের মুক্তি। নানা কাঠ খড় পুড়িয়ে ভার্চুয়াল কোর্টের কার্যক্রম চালুর দ্বিতীয় কর্ম দিবসে মকসুদ আহমদ জামিন লাভ করেন।

তাঁর জামিন প্রসংগে সিলেট জেলা বারের সভাপতি এডভোকেট এ টি এম ফয়েজ প্রভাতবেলা’কে বলেন এটি জামিনযোগ্য মামলা। আদালত সুবিবেচনা করেছেন। তাছাড়া আমার মক্কেলের কাস্টডি ৩ মাসেরও বেশী এই মামলায়।

আরও পড়ুন  দক্ষিণ সুরমায় ইজতেমা এবং দাওয়াতে তাবলীগ

এই মামলার অনরেকর্ড আইনজীবি এডভোকেট মুমিনুল ইসলাম প্রভাতবেলা’কে বলেন করোনার জটিলতায় আদালত বন্ধ না হলে আমার মক্কেল আরোও আগে মুক্তি পেতেন।

সদ্য কারামুক্ত যুবনেতা মকসুদ আহমদ প্রভাতবেলাকে বলেন, আল্লাহর অশেষ শুকরিয়া। আমার মুক্তির জন্য আইনী ও রাজপথে নেতাকর্মীরা যে ত্যাগ করেছেন তার কৃতজ্ঞ। আইনজীবি, সাংবাদিক সহ দলীয় নেতা কর্মী সহ সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।

জেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য ফখরুল ইসলাম রুমেল প্রভাতবেলা’কে বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনী লড়াইয়ে আমরা জয়ী হয়েছি, আগামীতেও জয় হবে।

জেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য অলিউর রহমান প্রভাতবেলা’কে বলেন, রাজনৈতিক উদ্যেশ্য প্রণোদিত এসব মামলা করে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে দাবীয়ে রাখা যাবেনা।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন মকসুদের মুক্তি প্রসংগে প্রভাতবেলা’কে বলেন, আমরা নেতাকে মুক্ত করে এনেছি ঠিকই। কিন্তু এদেশে গণতন্ত্র এখনো বন্দী। গণতন্ত্র মুক্তি আন্দোলনের বিজয় হবে আমাদের চুড়ান্ত বিজয়।

সর্বশেষ সংবাদ