গলাচিপায় তরুণীকে দলবেধে ধর্ষণ

প্রকাশিত: 8:49 PM, August 4, 2020

গলাচিপায় তরুণীকে দলবেধে ধর্ষণ

সংবাদদাতা,পটুয়াখালী♦

ঈদের দু’দিন আগে সর্বস্ব হারালেন গলাচিপার এক মাদরাসা ছাত্রী। এবারের ঈদ তার ও পরিবারের কাছে যেন এক বিষাদ। বোনকে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে নিজেই সব হারাবেন তা কল্পনাও করেননি এ তরুণী।

 

পৈশাচিক এ ঘটনা ঘটেছে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা সদরের একটি হোটেল সৈকত মহলে। সৈকত মহলের ৭নং কক্ষে আটকে রেখে  ঐ মাদ্রাসাছাত্রীকে (১৯) দলবেধে ধর্ষণ করা হয়। বুধবার(২৯ জুলাই) রাতে শহরের পুরাতন লঞ্চঘাটের হোটেল সৈকত মহলে এ ঘটনা ঘটে। রাতেই ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার ও ধর্ষণের শিকার মাদ্রাসাছাত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে ওই মাদ্রাসাছাত্রী গজালিয়া গ্রাম থেকে তার বড় বোনকে ডাক্তার দেখানোর জন্য গলাচিপা উপজেলা শহরে আসেন। আর বড় বোনের আসার কথা ছিল কলাপাড়া উপজেলার সোনাখালী গ্রাম থেকে। সন্ধ্যা পর্যন্ত বড় বোনের জন্য ফেরিঘাট এলাকায় অপেক্ষা করেন ওই তরুণী। কিন্তু বড় বোন না আসায় এক পর্যায়ে তিনি সোনাখালী রওনা হন। এরই মধ্যে রাত হয়ে যায়। এরপর মামলার এক নম্বর আসামি শহিদুল সরদার রাতে বাড়ি ফিরলে বিপদ হতে পারে- এমন ভয় দেখিয়ে ওই কিশোরীকে ফেরিঘাট থেকে হোটেল সৈকত মহলের সাত নম্বর কক্ষে এনে উঠায়। রাত সাড়ে আটটার দিকে হোটেল ম্যানেজারের সহায়তায় শহিদুল সরদার সঙ্গীদের নিয়ে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে। গভীর রাতে পুলিশের একটি টহল দলের কাছে গোপন সূত্রে এ খবর পৌঁছায়। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে হোটেল কক্ষ থেকে পাঁচ ধর্ষককে আটক ও ওই তরুণীকে উদ্ধার করে।

 

আরও পড়ুন  ২৮ অক্টোবর ঘিরে দেশজুড়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার(৩০ জুলাই) ধর্ষণের শিকার তরুণী ৬ জনকে আসামি করে গলাচিপা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার ৫ জন হলেন- গলাচিপার ছোনখোলা গ্রামের মৃত ইউনুস সরদারের ছেলে মো.শহিদুল সরদার (২৪), চরবিশ্বাস গ্রামের নূর ইসলাম গাজীর ছেলে মো. বশির গাজী (৩২), একই গ্রামের মৃত আদম আলী শিকদারের ছেলে মো. স্বপন শিকদার (৪০), চরআগস্তি গ্রামের যতীন হাওলাদারের ছেলে জীতেন হাওলাদার (৩৫) ও রাঙ্গাবালী উপজেলার চরবেস্টিন গ্রামের মৃত হাতেম আলী ডাক্তারের ছেলে খোকন ডাক্তার (৪০)। মামলার অন্যতম আসামি ওই হোটেলের ম্যানেজার ফারুক হাওলাদার পলাতক রয়েছেন। ফারুক উপজেলার উত্তর চরবিশ্বাস গ্রামের রুস্তুম হাওলাদারের ছেলে।

 

গলাচিপা থানার ওসি (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবীর জানান, গ্রেপ্তার ৫ জনকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ধর্ষণের শিকার মাদ্রাসাছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ