একফোঁটা রক্ত থাকতে বাংলাদেশকে স্পেন হতে দেবনা- জুনায়েদ বাবুনগরী

প্রকাশিত: 1:37 AM, January 2, 2021

একফোঁটা রক্ত থাকতে বাংলাদেশকে স্পেন হতে দেবনা- জুনায়েদ বাবুনগরী

 

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম থেকে♦ শরীরে এক ফোঁটা রক্ত থাকতে বাংলাদেশকে স্পেন হতে দেবনা বলে কঠিন হুশিয়ারী দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমীর ও হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষা সচিব শায়খুল হাদিস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

 

 

তিনি শুক্রবার (১জানুয়ারী) জুমার নামাজের পরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ারা অন্যতম দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মইনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিল ও দস্তারবন্দী সম্মেলনে বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

 

সভায় সাম্প্রতিক ভাস্কর্য ইস্যু নিয়ে আলোচিত হেফাজতের যুগ্ন মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বর্তমান সরকারের সাথে আলেম সমাজের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে নাস্তিক মুরতাদ গোষ্ঠিরা সরকারকে ভুল তথ্য উপস্থাপন করে আলেমদের সাথে সরকারকে মুখোমুখি করছে। আমাদের বক্তব্যগুলোকে কাটছাঁট করে বিভ্রান্তিমূলক ভাবে প্রচার করে দেশে সংঘাত সৃষ্টি করতে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে।

 

 

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্ঠা আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।

সভায় বাবুনগরী আরো বলেন যত ষড়যন্ত্র করা হোক কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করতে পারবে না, কেয়ামত পর্যন্ত কওমি মাদ্রাসা চালু থাকবে। হাটহাজারী মাদ্রাসা  জনগণের (কওম) মাদ্রাসা, আমরা তাদের চাকর, এ মাদ্রাসা কওমের (জনগণের) সহযোগিতায় চলে। কোন বিদেশী দেশি ষড়যন্ত্র কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করতে পারবেনা। দেশের হক্কানী আলেম ওলামা সম্মানের পাত্র ওলামায়েকেরাম আল্লাহর অলি। আলেম-ওলামাদের সাথে বেয়দবি কখনো সহ্য করা হবে না। নাস্তিক মুরতাদ অপশক্তির ধ্বংস করতে প্রয়োজনে শহীদ হবো।

 

মাহফিলে দেশ ও জাতির উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে জামিআর শায়খুল হাদীস ও শিক্ষা পরিচালক হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন,যারা কওমী মাদরাসার শত্রু, যারা কওমী মাদরাসার ঐক্যকে ভাঙতে চায়, যারা কওমী শিক্ষাকে উৎখাত করতে চায় তারা শুনে রাখুন আপনারা কওমী মদরাসাকে উৎখাত করতে পারবেন না বরং আপনারাই উৎখাত হয়ে যাবেন। আলেম ওলামরা হলেন নবীগণের ওয়ারিশ। আলেম ওলামরার মাধ্যমে নবীগণের কাজ চলমান থাকবে।

আরও পড়ুন  মোরছালিনের গোলে লেবাননকে রুখে দিল বাংলাদেশ

 

তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি করোনাকালীন সময়ে করোনায় আক্রান্ত মৃতদের লাশ দাফনের জন্য যখন কেউ এগিয়ে আসলো না, লাশ ফেলে রেখে স্বজনরা পালিয়ে গেলো তখন ওলামায়ে কেরাম করোনায় মৃতদের লাশ দাফন কাফনের মতো বিশাল সেবামূলক কাজ করেছেন। ওলামায়ে কেরাম না থাকলে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতদের লাশ কুকুর শেয়ালে ছিড়ে ফেরে খেতো। আল্লামা শাহ জমির উদ্দিন রহ. কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আল মানাহিল ওয়েলফেয়ার ফাউ-েশন,আল মারকাজুল ইসলামি এবং তাকওয়া ফাউ-েশন করোনাকালীন সময়ে সেবামূলক বহু কাজ করেছেন। সুতরাং ওলামায়ে কেরামকে নিয়ে বিষোদগার করলে এদেশের তৌহিদি জনতা বরদাশত করবে না।

 

তিনি আরো বলেন,মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী কখনো নবী হতে পারে না। সে ছিলো ইংরেজদের দালাল। তাকে যারা নবী মানবে তারা নিঃসন্দেহে কাফের। কাদিয়ানীরা সন্দেহ ছাড়া কাফের। ৯০% মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে মুসলিম পরিচয়ে কাদিয়ানীরা থাকতে পারে না। কাদিয়ানীদেরকে রাষ্ট্রিয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে।

 

 

তিনি আলেম সমাজেকে উদেশ্য করে বলেন, উলামায়ে কেরাম নবী-রাসুলের উত্তরসূরি হিসেবে দীপ্ত কণ্ঠে জাতির সামনে হক কথা বলবেন। হক ও ন্যায়ের কথা বলতে ওলামায়ে কেরাম কারো রক্তচক্ষুকে ভয় করেন না।

 

 

মাগরিবের নামাজের পর সোয়া ৬টার দিকে বক্তব্য রাখেন সাম্প্রতিক ভার্স্কর্য ইস্যু নিয়ে আলোচিত হেফাজতের যুগ্ন মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। বক্তব্যে মামুনুল হক বলেন, হাটহাজারী মাদরাসা একটি সিন্ডিকেট চক্র দখল করে রাখতে চেয়েছিল। আল্লাহর কুদরতে সেই সিিিন্ডকেট ধ্বংস হয়ে কওমী মাদরাসাগুলোকে চক্রান্তকারীদের থেকে মুক্ত করেছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমান নাস্তিক্যবাদী গোষ্ঠিদের থেকে আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ.এ দেশের মুসলমান তৌহিদি জনতাকে হেফাজত করিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন  মতিউর রহমান নিজামীর বর্ণাঢ্য জীবন

 

২০১৩ সালে নাস্তিকদের যে আস্ফালন সৃষ্টি হয়েছিল,যুবতীদের রাস্তায় নামিয়ে রাত ১২টায় এমরান এইচ সরকার দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছিল, দেশের অনেক মন্ত্রী এমপি তার কথায় উঠাবসা করত যেন সেই কুলাঙ্গারই তখন রাষ্টের অলিখিত প্রধান ছিল। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে আমার আপনার সন্তানদেরকে নাস্তিক্যবাদী পাঠদান করাচ্ছে। দ্রুত এ শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে অন্যথায় আমাদের সন্তানরাও নাস্তিক্যবাদির শিক্ষায় শিক্ষিত হবে। তিনি আরো বলেন, আমরা আমিরে হেফাজতের নির্দেশে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসমস্ত নাস্তিক মুরতাদের বিরোদ্ধে আন্দোলনের দাবানল জ্বালিয়ে দেব। আমিরের নির্দেশকে শিরোধার্য্য উল্লেখ করে তিনি বলেন আমিরের নির্দেশ পছন্দ হলেও ঐক্যবদ্ধ ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ব অপছন্দ হলেও ঝাঁপিয়ে পড়ব বলে উপস্থিত তৌহিদি জনতাকে হাত উঠিয়ে ওয়াদা করান তিনি।

 

মাহফিলের শেষ অধিবেশন ছিলো সমাবর্তন তথা দাওরা হাদীস (মাস্টার্স) উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদেরকে সম্মাননা পাগড়ী প্রদান। শিক্ষার্থীরা আবেগঘন পরিবেশে পাগড়ী গ্রহণ করেন।পাগড়ী প্রদান শেষে মজলিসে ইদারী’র প্রধান মুফতী আজম আল্লামা আব্দুচ্ছালাম চাটগামী মূল্যবান নসীহত করে মুনাজাতের মাধ্যমে মাহফিল সমাপ্তি করেন।

 

দিনব্যাপি উক্ত মাহফিলে মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতী জসিমুদ্দীনও শিক্ষক নূরুল আবছার এর যৌথ সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, মাওলানা আল্লমা শেখ আহমদ , মাওলানা ইয়াহইয়া, মাওলানা সালাহ উদ্দীন, মাওলানা নূরুল ইসলাম, হযরত মাওলানা নোমান ফয়জী, মুফতী জসীম উদ্দীন, মুফতী কিফায়াতুল্লাহ, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, ড.আফম খালিদ হোসেন,মাওলানা সাজেদুর রহমান, মাওলানা মামুনুল হক,মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, মুফতী আব্দুল হালিম বোখারী,মাওলানা লোকমান, মাওলানা খোবাইব,মুফতী হাবীবুর রহমান,মাওলানা মাহমুদুল হাসান,মাওলানা আব্দুল বাসেত খান সিরাজী, মাওলানা সাআদাত, মাওলানা নূরুল আবছার,মাওলানা আজীজুল হক আল-মাদানী,মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আয়ূবী প্রমূখ।

সর্বশেষ সংবাদ