সিলেট | |
প্রকাশিত: 10:49 PM, August 7, 2023
প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :
নগরীর প্রাসাদোপম বাড়ি কিংবা শপিং মলের সামনে রাস্তায় জাল ফেলে মাছ ধরার দৃশ্য দেখা গেছে। এছাড়া সড়ক দিয়ে চলছে নৌকা।
চান্দগাঁও থানা ভবনের নিচতলা পানির নিচে। জেলা পুলিশ লাইনেও পানি আর পান। এখানে নৌকা নামিয়ে যাতায়াত করতে দেখা গেছে বাসিন্দাদের। স্কুল-কলেজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অলিগলি, মার্কেট, কাঁচাবাজার দোকান-পাট সব পানির নিচে। অতীতে এমন দুর্ভোগ আর দেখেননি নগরবাসী।
কেবল চট্টগ্রাম মহানগরী নয়; জেলার ১৬টি উপজেলার মধ্যে অন্তত ৬টি উপজেলায় বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। দেখা দিয়েছে বন্যা। এসব উপজেলার লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব উপজেলার খেতের ফসল, পুকুর, মাছের ঘের ডুবে গেছে। ডুবে গেছে রাস্তাঘাট। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে জেলা প্রশাসন ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৩০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস; যা গত ৩০ বছরের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। সোমবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ২১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা জানান, আগস্ট মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টি হওয়ার কথা ৫৩০ দশমিক ৬ মিলিমিটার; কিন্তু গত ছয় দিনেই ৫৪৭ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৩০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস; যা গত ৩০ বছরে সর্বোচ্চ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সোমবারও নগরীর বেশির ভাগ এলাকা ছিল পানির নিচে। বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় নাওয়া-খাওয়া ছিল বন্ধ। অনেক পরিবারের শিশু বৃদ্ধ থেকে সবাই খাটের ওপর নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। করতে পারছেন না শৌচকর্ম, রান্না-বান্না। জরুরি প্রয়োজন এমনকি ডাক্তার বাড়িতেও যেতে পারছেন না রোগীরা।
ভারিবর্ষণে জলাবদ্ধতার কবলে রয়েছে বহদ্দারহাট, বাদুরতলা, শুলকবহর, মোহাম্মদপুর, কাপাসগোলা, চকবাজার, বাকলিয়ার বিভিন্ন এলাকা, ফিরিঙ্গিবাজারের একাংশ, কাতালগঞ্জ, শান্তিবাগ আবাসিক এলাকা, কে বি আমান আলী রোড, চান্দগাঁওয়ের শমসের পাড়া, ফরিদারপাড়া, মুন্সী পুকুরপাড়, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, হালিশহরসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকা তলিয়ে গেছে পানিতে।
জোয়ারের ফলে আগ্রাবাদ, বন্দর, ইপিজেডের বিভিন্ন এলাকায় পানির উচ্চতা বেড়ে গেছে। যেখানে আগে হাঁটু পানি উঠত সেখানে এখন কোমর সমান পানি। বাসা-বাড়ি, দোকানপাটেও পানি ঢুকে পড়েছে। দুই নম্বর গেট মুরাদপুর ও চকবাজার ব্যস্ততম সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানির স্রোত। এসব এলাকার বাসিন্দারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কোনোরকমে খেয়ে না খেয়ে জীবন কাটছে বাসিন্দাদের।
চান্দগাঁও থানা ভবনের নিচতলা পানির নিচে। দোতলায় ওঠে জরুরি কাজ সারতে হচ্ছে। চকবাজার এলাকার কাঁচাবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানির নিচে। কোনো কোনো এলাকায় রাস্তায় জাল ফেলে মাছ ধরতে দেখা গেছে বাসিন্দাদের।
এসব উপজেলার হাজার হাজার বাসিন্দা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পটিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ নির্মাণের কারণে পৌরসভার ৫-৬টি ওয়ার্ড যেখানে কখনো বর্ষা মৌসুমে পানি উঠেনি সেসব ওয়ার্ডও তলিয়ে গেছে।
বোয়ালখালী, রাঙ্গুনিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়াসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন উপজেলায় ফসলের খেত ও পুকুর পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বীজতলা ও নতুন রোপণ করা ধানের চারা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মৎস্য প্রকল্প।
চন্দনাইশে পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। টানা বর্ষণে এ পানি বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে বিপৎসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সাঙ্গু নদীর দুইপাড়ের শত শত পরিবারের বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ে মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শত শত একর জমির রবিশস্য বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। নদীপাড়ের বহু পরিবার সোমবার রাত থেকে সাঙ্গু নদীতে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকলে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, উঁচু জায়গাতে পরিবার-পরিজন, গরু-ছাগল নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।
এসব এলাকার যোগাযোগ ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মৎস্য খামারগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে মৎস্য খামারের মালিকরা লাখ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছেন। কিছু কিছু ইউনিয়ন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
এ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিমরান মোহাম্মদ সায়েক যুগান্তরকে জানান, উপজেলার বেশকিছু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। ওইসব এলাকায় শুকনো খাবার, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, স্যালাইন ও চাল বরাদ্দ করা হয়েছে; যা সোমবার থেকে বিতরণ শুরু হয়েছে।
সাতকানিয়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার কেঁওচিয়া, বাজালিয়া, কাঞ্চনা, চরতী ও আমিলাইষসহ কয়েকটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ও ফসলের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঞ্চনা, এওচিয়া, বাজালিয়া ইউনিয়নে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী শতাধিক মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি