জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: গৌরব ও সাফল্যের ১৮ বছর

প্রকাশিত: 7:17 PM, October 19, 2023

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: গৌরব ও সাফল্যের ১৮ বছর
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ (২০ অক্টোবর)। তবে এ বছর ২০ অক্টোবর শুক্রবার তথা ছুটির দিন হওয়ায় একদিন আগেই ১৯ অক্টোবর পালিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৩। ‘আঠারোতে জগন্নাথ সাহসী নির্ভীক’ স্লোগানকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে এদিন পালিত হয় বিশ্ববিদ্যালয় দিবস।

 

বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বয়স আঠারো বছর হলেও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে ১৬৫ বছরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস।

 

২০০৫ সালে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৮৫৮ সালে ‘ব্রাহ্ম স্কুল’ যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। পরে ১৮৭২ বালিয়াটির জমিদার কিশোরীলাল রায় চৌধুরী এটির নতুন নামকরণ করেন ‘জগন্নাথ স্কুল’। ১৮৮৪ সালে দ্বিতীয় শ্রেণির কলেজের মর্যাদা পায় এবং নাম হয় জগন্নাথ কলেজ। ১৯০৮ সালে প্রথম শ্রেণির কলেজ ও ১৯৬৮ সালে সরকারি কলেজের মর্যাদা লাভ করে।

সর্বশেষ ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর জাতীয় সংসদে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫’ পাসের মাধ্যমে জগন্নাথ কলেজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭টি অনুষদে ৩৬ টি বিভাগ ও ২টি ইনস্টিটিউট রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৬৮০ জন শিক্ষক রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৮ হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। এছাড়াও এখানে কর্মরত রয়েছেন ৭৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

 

প্রতিষ্ঠার সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল পর্যায়ক্রমে অবকাঠামো ও আবাসন সংকটের সমাধান করা হবে। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ১৮ বছরেও অধিকাংশ কলেজ আমলের অবকাঠামো দিয়েই চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয় আমলে মাত্র একটি ১৩ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন ও ১৬ তলা বিশিষ্ট একটি ছাত্রী হল চালু হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দেড় দশকে এ দুইটাই উল্লেখযোগ্য নতুন অবকাঠামো।

 

প্রায় ২০ হাজার শিক্ষক শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সরকার এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা। সাড়ে সাত একরের ছোট ক্যাম্পাসে নেই কোন খেলার মাঠ, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন। নেই পর্যাপ্ত অবকাঠামো, ক্যান্টিন, আধুনিক লাইব্রেরি ও গবেষণার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা।বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১৮ হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য আছে ১২ শত আসনের একটি মাত্র ছাত্রী হল।

আরও পড়ুন  মহিলা কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের বৃত্তি

 

এছাড়াও ৬৮০ জন শিক্ষকের জন্য আছে একটি মাত্র ডরমিটরি, যেখানে মাত্র ৪০ জন শিক্ষক থাকেন। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও নেই কোন আবাসন ব্যবস্থা।

 

শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা নিরসন ও আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন সুন্দর ক্যাম্পাস বিনির্মাণে ২০১৮ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নতুন ক্যাম্পাসের ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন বাবদ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। এরই মধ্যে অতিক্রম করেছে পাঁচ বছর আর প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে তিনবার। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ ও লেক খনন ছাড়া দৃশ্যমান কোন কাজ করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কচ্ছপ গতিতে চলছে নতুন ক্যাম্পাসের সীমানা প্রাচীরের নির্মাণ কাজ। এদিকে ২০০ একর ভূমির মধ্যে এখনো অধিগ্রহণ বাকি রয়েছে ১১.৪০ একর ভূমি।

 

এদিকে প্রতিষ্ঠানটির কলেজ আমলের ১১ টি হলের মধ্যে তিনটি বাদে বাকি সব এখনও বেদখল। যে তিনটি হল উদ্ধার হয়েছে, তাতেও নেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো কর্তৃত্ব। অনেকটা নিজেদের মতো করেই একটি হলে থাকছেন কিছু শিক্ষার্থী ও অন্য দুই হলে থাকছেন কিছু কর্মচারীরা। বাকি হালগুলো উদ্ধারে কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষার্থীরা বারবার দাবি জানালেও এ বিষয়ে নির্বিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

 

১৮ বছরের পথচলায় শত সঙ্কট ও প্রতিকূলতার ভেতরও বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাপ্তিও রয়েছে অনেক। সাম্প্রতিক সময়ে বিসিএস, বিজেএস, সরকারি ও বেসরকারি চাকুরি, ব্যাংক জবসহ বিভিন্ন চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাফল্য ঈর্ষণীয়। তন্মধ্যে, পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিয়োগে দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সংখ্যাগত দিক দিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে আসছেন।

 

আরও পড়ুন  আমূল সংস্কারে বদলে যাচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা

খেলাধুলার পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকলেও এ অঙ্গনেও ভালো করছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। ২০২১ সালে জাতীয় টি-২০ ক্রিকেট দলে ডাক পান বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। ২০২২ সালে জাতীয় ফুটবল দলের গোলরক্ষক হিসেবে ডাক পান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান প্রিতম।

 

এছাড়াও এসএ গেমসে স্বর্ণপদক জয় করেন চারুকলা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মারজান আক্তার প্রিয়া। এছাড়াও জাতীয় অনেক ক্রীড়া আসরে পদক জিতেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

 

অধ্যাপক ড. কামালউদ্দিন আহমদ বলেন, “কম সময়ের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে। নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে। তবে কাজের ধীরগতি থাকলেও আগামী দুই বছরের মধ্যে নতুন ক্যাম্পাসের কাজ সমাপ্ত হবে বলে আশা করি। তখন শিক্ষার্থীদের সব সমস্যার সমাধান হবে।”

 

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) নানা কর্মসূচি পালন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে সকাল পৌনে দশটার দিকে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের শুভ উদ্বোধন করেন উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. কামালউদ্দিন আহমদ।

 

এদিন অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে শ্রদ্ধাঞ্জলি, আনন্দ র‌্যালি, সেচ্ছাসেবী সংগঠন বাঁধনের রক্তদান কর্মসূচি, প্রকাশনা উৎসব, চারুকলা প্রদর্শনী, নাটক পরিবেশনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সর্বশেষ সংবাদ