স্কুলছাত্রকে গুলি করে হত্যা: ৬ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত: ৪:৩০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০২৩

স্কুলছাত্রকে গুলি করে হত্যা: ৬ জনের যাবজ্জীবন
লক্ষ্মীপুরে স্কুলছাত্র রবিউল ইসলাম শিমুলকে গুলি করে হত্যা মামলায় ছয়জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

 

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ রায় দেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম। এ সময় অপর আসামি তাজুল ইসলাম তাজু ভূঁইয়াকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।

 

রায়ের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ইলিয়াস আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য পাঁচ আসামি পলাতক রয়েছেন।

 

দণ্ডপ্রাপ্ত হলেন- চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের দেওপাড়া গ্রামের মৃত সিরাজ মিয়ার ছেলে ইলিয়াস, সদর উপজেলার বশিকপুর গ্রামের মাসুদুর রহমান কালা মাসুদ, উত্তর জামিরতলী গ্রামের নুর মোহাম্মদ লিটন, পশ্চিম লতিফপুর গ্রামের সাদ্দাম, আনোয়ার হোসেন সাদ্দাম ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের আমান উল্যাহপুর ইউনিয়নের গোবিন্দের খিল গ্রামের শাহরিয়ার রাশেদ। খালাসপ্রাপ্ত তাজু ভূঁইয়া চন্দ্রগঞ্জের আমানী লক্ষ্মীপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।

আরও পড়ুন  সাতক্ষীরায় ট্রলারডুবিতে ৩ শ্রমিক নিখোঁজ

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন।

 

এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্কুলছাত্র রবিউল ইসলাম শিমুল মামলার বাদী কাজী মামুনুর রশীদ বাবলুর ভাগনে। ২০১৪ সালের ২১ এপ্রিল মামুনুর রশীদ বাবলু অসুস্থ হয়ে লক্ষ্মীপুরে একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বাড়িতে তার মা-ভাবি ও ভাগনে (রবিউল ইসলাম শিমুল) ছিল। ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে অস্ত্রসহ মুখোশধারীরা চন্দ্রগঞ্জ দেওপাড়া গ্রামের বাড়িতে ঢুকে। তাদের ভয়ে বাবলুর মা ও ভাবি পালিয়ে যান। কিন্তু শিমুল পালায়নি। তখন সন্ত্রাসীরা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করলে শিমুল বাধা দেয়। এতে শিমুলকে তুলে নিয়ে দেওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় গুলি করে হত্যা করে। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনার ওই বছরের ৫ মে বাবলু বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।

 

সবশেষ ২০২০ সালের ৪ মার্চ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নোয়াখালী কার্যালয়ের পুলিশ পরিদর্শক মো. আনোয়ার উল ইসলাম আদালতে সাতজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। এর আগে চন্দ্রগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দুইজন উপ-পরিদর্শক, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক পুলিশ পরিদর্শক ও ডিবির চারজন উপপরিদর্শক মামলাটি তদন্ত করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার এ রায় দেন আদালত।

আরও পড়ুন  ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী তরুণী, অভিযুক্ত গ্রেফতার

 

মামলার বাদী কাজী মামুনুর রশিদ বাবলু বলেন, তাজু আইনি লড়াইয়ে জিতেছে। আদালত তাকে খালাস দিয়েছে। এতে আমার কিছু বলার নেই। আমি আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ