সিলেট | |
প্রকাশিত: 1:33 PM, May 25, 2024
এদিকে বিপুল অঙ্কের টাকা হারিয়ে নিঃস্ব মুর্তুজা আলী ভুয়া ঋণের ফাঁদেও পড়েছেন। ইস্টার্ন ব্যাংকের চান্দগাঁও ও ওআর নিজাম রোড শাখায় সংঘটিত এই জালিয়াতির ঘটনা তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।
মুর্তুজা আলী জানান, ২০১৭ সালে ইস্টার্ন ব্যাংক (ইবিএল) চান্দগাঁও শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলেন এবং ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার ছয়টি এফডিআর করেন। ইস্টার্ন ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তারা জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে দুটি জাল সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্ট ও চারটি জাল ঋণ হিসাব খোলার মাধ্যমে ৫ কোটি ৪৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। অসাধু কর্মকর্তারা ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে চেক বই ইস্যু ও গ্রহণের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জাল স্বাক্ষর দ্বারা চেক ও ফান্ড ট্রান্সফার করে এসব টাকা আত্মসাৎ করেন।
সূত্র জানায়, মুর্তুজা আলী ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর ইস্টার্ন ব্যাংকের চান্দগাঁও শাখায় ‘এমএমএ এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলেন। একই বছর চান্দগাঁও শাখায় একটি স্থায়ী আমানতের বিপরীতে ৫৭ লাখ টাকা ঋণের জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু ঋণের আবেদনটি প্রত্যাখ্যাত হয়। চান্দগাঁও শাখার তৎকালীন প্রায়োরিটি ম্যানেজার (বর্তমানে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে) ইফতেখারুল কবির জানান, কারেন্ট অ্যাকাউন্টের লেনদেন ২ বছর পূর্ণ না হওয়ায় ঋণ অনুমোদন সম্ভব নয়। ৬ মাস বা ১ বছর পর আবার ঋণের জন্য আবেদন করার অনুরোধ করেন। কিন্তু ২০১৯ সালের শেষের দিকে ব্যাংকের গ্রাহক মো. মুর্তুজা আলী জানতে পারেন-তার স্বাক্ষর ও সিল জাল-জালিয়াতি করে ‘এমএমএ এন্টারপ্রাইজের’ নামে ভুয়া ঋণ নিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ভুয়া এমএমএ এন্টারপ্রাইজের নামে ব্যাংক ভুয়া ঋণ অনুমোদন করেছে। ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে একটি চেক বইও ইস্যু করা হয়। এই চেক বইয়ের ৯টি পাতা ব্যবহার করে হাতিয়ে নেওয়া হয় ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। এছাড়া অবৈধভাবে ফান্ড ট্রান্সফার করে ৭৮ লাখ ৭৮ হাজার ৭০০ টাকা জমা করা হয়। এখন এসব টাকার জন্য ব্যবসায়ী মো. মুর্তুজা আলীকে চাপ দিচ্ছেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। অথচ এসব ঋণের ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না।
মুর্তুজা আলী জানান, জমি বিক্রির টাকা ইস্টার্ন ব্যাংকে রেখে বিপদ মাথায় তুলে নিয়েছেন। ভুয়া ঋণের বোঝা আমার মাথার ওপর চাপিয়ে দিয়ে পুরো টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েও তিনি কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিয়ে ৫ বছর ধরে একটা টাকাও উদ্ধার করতে পারেননি।
ব্যাংকের বক্তব্য : এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে ব্যাংকের চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ জোনাল অফিসে যোগাযোগ করা হয়। জোনালপ্রধান মেসবাহ উদ্দিন আহমেদকে পাওয়া যায়নি। তার পক্ষে মো. আজিম নামে একজন সিনিয়র অফিসার বলেন, এসব বিষয়ে তাদের কথা বলার কোনো সুযোগ নেই। তিনি ঢাকার হেড অব কমিউনিকেশন জিয়াউল করিমের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি