অর্থহীন অনুচ্ছেদ, অদ্ভুত প্রশ্ন!

প্রকাশিত: ১১:১৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০১৯

অর্থহীন অনুচ্ছেদ, অদ্ভুত প্রশ্ন!

জুন মাসের প্রচণ্ড গরমে ফিরোজা ষষ্ঠ সন্তানের মা হন। ফিরোজার কর্মস্থলের মালিক সুশানের একমাত্র ছেলে থমসন নিজের কেনা বাড়ি থেকেই নিজস্ব গাড়িতে কাজে যায়। তার দেশে সবাই শিক্ষিত।

ষষ্ঠ শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের জনসংখ্যাবিষয়ক অধ্যায়ের একটি অনুচ্ছেদ এটি।

অনুচ্ছেদটি পড়ে শিক্ষার্থীদের জলবায়ু, শিক্ষার হার, সমাজব্যবস্থা ও সামাজিক গতিশীলতার মধ্যে ফিরোজার ক্ষেত্রে জন্মহার তারতম্যের কোন কারণটি প্রযোজ্য, তার উত্তর দিতে হবে। একই সঙ্গে থমসনের দেশের ক্ষেত্রে ‘জন্মহার বেশি হবে, সুচিকিৎসার অভাব, জন্মহার কম হবে এবং খাদ্য ও বস্ত্রের অভাব’ এই চারটির মধ্যে কোন প্রভাবটি পরিলক্ষিত হতে পারে, তা বলতে বলা হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ২০১৯ নতুন শিক্ষাবর্ষে এই বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিয়েছে। ২০১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরাও ফিরোজার সন্তান জন্মদানের অনুচ্ছেদ পড়েছে।

ফিরোজার সন্তান জন্মদানের এ অংশটুকু কয়েকবার পড়ার পর সরকারের পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী মোস্তফা সারোয়ার বললেন, ‘নাহ, আমিও এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব না।’

আরও পড়ুন  "দায়িত্বশীল নেতার অডিও রেকর্ড পুলিশের হাতে"

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরীও বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি, কিন্তু তারপরও তো এ অনুচ্ছেদ আমার কাছে বোধগম্য হচ্ছে না। বাচ্চাদের কাছে কেমনে বোধগম্য হবে?’

ষষ্ঠ শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে। পরিমার্জিত সংস্করণ প্রকাশ করা হয় ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। গত বছরের জুলাই মাসে বইটির পুনর্মুদ্রণ করা হয়েছে।

বইটির সম্পাদনায় ছিলেন অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন, অধ্যাপক শফিউল আলম, আবুল মোমেন, অধ্যাপক ড. মাহবুব সাদিক, অধ্যাপক ড. মোরশেদ শফিউল হাসান, অধ্যাপক ড. সৈয়দ আজিজুল হক এবং সৈয়দ মাহফুজ আলী।

বইটির সম্পাদনা বিভাগে নাম থাকা শিক্ষাবিদ আবুল মোমেন  বলেন, ‘আমরা পাঠ্যপুস্তক নিয়ে কাজ করেছিলাম অনেক আগে। ফিরোজার ষষ্ঠ সন্তান জন্মদানের যে অনুচ্ছেদ, তখন সে ধরনের কিছু ছিল না বলেই মনে হচ্ছে। আর এই যুগে ফিরোজা কেনইবা ষষ্ঠ সন্তানের জন্ম দেবেন?’ আবুল মোমেন বলেন,‘পাঠ্যপুস্তকটির সম্পাদনায় যেহেতু আমার বা আমাদের নাম আছে, খুব শিগগির এনসিটিবির চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে পাঠ্যপুস্তকগুলো রিভিউ করার আবেদন জানাব।’

আরও পড়ুন  জোট নয়,নির্বাচনী সমঝোতা হতে পারে ♦ সিলেটে আমীরে জামায়াত

তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের জনসংখ্যাবিষয়ক অধ্যায়টি পড়তে হচ্ছে। অধ্যায়গুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ফিরোজার সন্তান জন্মদানের মতো এ ধরনের নানান অসংগতি, তথ্য ও বাক্যগত ভুল বা তথ্যের ভারে ভারাক্রান্ত করা হয়েছে অধ্যায়গুলো।

এনসিটিবি প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও পরিমার্জনের জন্য শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুসারে পাঠ্যপুস্তক ও অন্যান্য শিখন উপকরণের উন্নয়ন ও পরিমার্জনের কাজ করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।

সৌজন্যে প্রথম আলো

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ