এমসি কলেজে গণধর্ষণ : দায় স্বীকার করে আদালতে ৩ ধর্ষকের জবানবন্দি

প্রকাশিত: 1:57 AM, October 3, 2020

এমসি কলেজে গণধর্ষণ : দায় স্বীকার করে আদালতে ৩ ধর্ষকের জবানবন্দি

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক♦ সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনায় দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে,অর্জুন লস্কর , সাইফুর রহমান ও রবিউল ইসলাম।

শুক্রবার সিলেটের অতিরিক্ত মূখ্য মহানগর হাকিম মো. জিয়াদুর রহমানের আদালতে সাইফুর রহমান এবং সিলেট মহানগর হাকিম-২ সাইফুর রহমানের আদালতে রবিউল ইসলাম ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এর আগে সন্ধ্যায় অতিরিক্ত মূখ্য মহানগর হাকিম মো. জিয়াদুর রহমানের আদালতে অর্জুন লস্করও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

শুক্রবার বিকাল থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত আদালত তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। পরে আদালত আসামিদের কারাগারে প্রেরণ করেছে বলে জানা যায়।

রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের সহকারি কমিমশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য ভূষন চৌধুরী জানান, ৩ আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। তারা ধর্ষণের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।এর আগে পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার দুপুরে আদালতে তোলা হয় তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার আসামি সাইফুর, অর্জুন ও রবিউলকে।

এদিকে শনিবার মামলায় রিমান্ডে থাকা আসামি রাজন, আইনুল ও মুহিবুর রহমান রনিকে রিমান্ড শেষে আদালতে নেয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন  বিশ্ব গণমাধ্যমের চোখে বাংলাদেশের নির্বাচন

দায় স্বীকার করে জবানবন্দি : সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে এই মামলার প্রধান আসামি ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমানসহ আরও দুজন। জবানবন্দি দেওয়া অন্যরা হলো; অর্জুন লস্কর ও রবিউল ইসলাম। জবানবন্দিতে মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার মূল হোতা ছাত্রলীগ নেতা সোহাগের নেতৃত্বে ওই গৃহবধূকে গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে পৃথক জবানবন্দিতে তারা আদালতকে জানায়।
সূত্র জানায়, পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে গতকাল দুপুরে আদালতে তোলা হয় সাইফুর, অর্জুন ও রবিউলকে। দুপুরে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে দিয়ে তাদেরকে আদালত প্রাঙ্গণে হাজির করে শাহপরান থানা পুলিশ।
প্রসঙ্গত: গত রোববার সকাল ৬টার দিকে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার মনতলা এলাকা থেকে গণধর্ষণ মামলার চার নম্বর আসামি অর্জুন লস্করকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। আর ওই দিন সকালেই ছাতক খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেফতার করা হয় মামলার প্রধান আসামি ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমানকে। এছাড়া ৫ নম্বর আসামি রবিউল হাসানকে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জের নিজগ্রাম থেকে রোববার রাতে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। আটকের পর এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি সাইফুর রহমান ও আসামি অর্জুন লস্কর গত সোমবার দুপুরে এবং একইদিন বিকেলে মামলার ৫নং আসামি রবিউল ইসলামকে পাঁচদিনের রিমান্ড দেয় সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান। এছাড়া রবিউলের পরিবার এ ঘটনার পর জড়িতদের কঠিন শাস্তি দাবি করেছেন।
অপরদিকে সন্দেহভাজন আসামি রাজন আহমদ, আইনুদ্দিন ও শাহ মাহবুবর রহমান রনির রিমান্ডের মেয়াদ আজ (শনিবার) হবে শেষ। রিমান্ড শেষে তাদেরও আদালতে তোলার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সূত্র। অন্যদিনে পুলিশের রিমান্ডে থাকা গণধর্ষণ মামলার অপর আসামি তারেক ও মাহফুজুর রহমান মাসুমের রিমান্ডের মেয়াদ কাল (রোববার) হবে শেষ।

সর্বশেষ সংবাদ