সিলেট ২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ৩:৪৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২১, ২০২১
প্রভাতবেলা ডেস্ক:
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্মাণাধীন টার্মিনাল-৩ এ লোভনীয় পদে চাকরির ভুয়া নিয়োগপত্র দেখিয়ে অন্তত ১৫০ ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দর্পণ গ্রুপ নামের একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান।
নির্মাণাধীন টার্মিনাল-৩ এ শ্রমিক-সুপারভাইজার পদে চাকরি পেতে লেবার প্রতি ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিতো তারা। এ অভিযোগে মূল হোতাসহ ওই প্রতিষ্ঠানের তিন প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, দর্পণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম সোহাগ (৫২), ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেনা জহির (৫০) ও ম্যানেজার মিন্টল রায় ওরফে অপূর্ব রায় (২৮)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থার অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার কানিজ ফাতেমার নির্দেশ ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে দিন বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক বলেন, ভুয়া প্রতিষ্ঠানটি Samsung গ্রুপের নামে একটি ভুয়া ওয়ার্ক অর্ডার প্রস্তুত করে তাদের অফিসের সামনে ডিজিটাল ব্যানারে ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ এ দক্ষ ও অদক্ষ লেবার ও সুপারভাইজার নিয়োগ দেয়া হবে’ এমন একটি বিজ্ঞাপন ঝুলিয়ে রাখে। এমন চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দেখে চাকরি প্রত্যাশী ভুক্তভোগী অনেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে।
সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, চাকরি প্রত্যাশীরা লেবার প্রতি ৫০ হাজার টাকা ও সুপারভাইজার প্রতি এক লাখ টাকা করে এ কোম্পানিতে জমা দেন। এভাবে অন্তত ১৫০ জন চাকরিপ্রত্যাশী দর্পণ গ্রুপ অব কোম্পানির চেয়ারম্যান ও এমডির কাছে টাকা দেয়ার পর তাদেরকে ভুয়া নিয়োগপত্র ধরিয়ে দেয়া হয়।
ভুক্তভোগীরা নিয়োগপত্র নিয়ে যোগদানের নির্দিষ্ট তারিখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জানতে পারেন সেখানে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। এরপর প্রতারিতরা দর্পণ গ্রুপের অফিসে গিয়ে বিষয়টি জানালে তাদেরকে অপেক্ষা করতে বলে।
এদিকে কয়েকজন ভুক্তভোগীর সন্দেহ হলে তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন শাহজালাল আন্তজার্তিক বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ এ চাকরি দেয়ার জন্য আসামিদের কোম্পানি অথবা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানকে SAMSUNG কোম্পানি ওয়ার্ক অর্ডার দেয়নি।
এ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান সিআইডির এই কর্মকর্তা।
চাঁদপুরের বাসিন্দা ভুক্তভোগী সুজন বলেন, যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে দিয়ে যাওয়ার পথে সরকার মার্কেটের তিন তলায় ডিজিটাল ব্যানার লাগানো দেখি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। আগ্রহী হয়ে কথা বলতে যাই। দর্পণ নামে ওই অফিস থেকে জানানো হয়, সুপারভাইজার এক লাখ, অদক্ষ শ্রমিকের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা দিলেই চাকরি হয়ে যাবে। আমরা চলে আসি। দুদিন পর ভাইভা নেন, নভেম্বরের ৩০ তারিখের মধ্যে তিনজনকে নিয়োগ দেয়ার কথা বলে হাতে নিয়োপত্র ধরিয়ে দিয়ে আড়াই লাখ টাকা নেয় দর্পণ কোম্পানি।
তিনি বলেন, টাকা দেয়ার পর দিন পার হতে থাকে। নভেম্বর মাস পেরিয়ে গেলেও চাকরি হয় না। আবার করোনা টেস্টের কথা বলে আরও ৫ হাজার করে টাকা নেয়া হয়। তারপরও চাকরি না হওয়ায় আমাদের সন্দেহ হলে সবাই বিমানবন্দরে যাই। এরপরই জানতে পারি প্রতারণার শিকার হয়েছি।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি